Showing posts with label defense. Show all posts
Showing posts with label defense. Show all posts
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সিআইএর গোপন কারাগারে বন্দিদের ওপর নির্যাতনের দলিলপত্র শেষপর্যন্ত প্রকাশ করলেন না। অভিযুক্ত সিআইএ কর্মকর্তাদেরও অব্যাহতি দিয়েছেন যে কোনোরকম বিচার থেকে। আমরা যারা গুয়ান্তানামোর অকথ্য নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার, তারা নিশ্চিতভাবেই হতাশ এ খবরে। কিন্তু শেষ বিচারে এটিই দেশপ্রেম! কারো বিরুদ্ধে যাক কিংবা পক্ষে- বারাক ওবামার কাছে তার দেশের স্বার্থই সবার ওপরে। মুখে মানবাধিকারের ফেনা তোলে যে যেসব সংগঠন, তাদের সেখানে করার কিছু নেই। তাদের 'মানবাধিকারের মান' পশ্চিমা দেশের জন্য একরকম- কোমল ও নতজানু। তৃতীয় বিশ্বের দেশের জন্য সেটি আবার অন্যরকম- কঠোর ও কঠিন। তৃতীয় বিশ্বের সার্বভৌম গরিব দেশগুলোকে তারা চোখ রাঙাতে দ্বিধা করে না। সম্প্রতি নিউ ইয়র্কভিত্তিক এমনই এক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এককাঠি এগিয়ে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই ও এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব) প্রয়োজনে বিলুপ্ত করার পরামর্শ দিয়েছে। তাদের পরামর্শ দেওয়ার ভঙ্গিটি এমন যে, আগামী বছরের প্রতিবেদনে হয়তো তারা খোদ সামরিক বাহিনীকেই বিলুপ্ত করার পরামর্শ দিয়ে দিতে পারে!

গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে কয়েকজন 'চোরের মা'
গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের বিরুদ্ধে প্রথম আঘাতটি এসেছিল দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কয়েকজন সংসদ সদস্যের তরফে। জাতীয় সংসদে রাশেদ খান মেনন অভিযোগ আনেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়কালে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করেছে ডিজিএফআই। তিনি বলেন, ডিজিএফআই কী নির্মমভাবে আব্দুল জলিল, শেখ সেলিম ও মহীউদ্দীন খান আলমগীরের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করেছে, তা সকলেরই জানা আছে।
সংসদে মেনন বলেন, ‌'এখন আমাদের সংসদীয় কমিটি গঠন করে ডিজিএফআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতেই হবে।' আবদুল জলিল, মহিউদ্দিন খান আলমগীরসহ আরো কেউ কেউ সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে ডিজিএফআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
উদ্দেশ্য স্পষ্টই ছিল। ফলে এদের অভিযোগ হালে পানি পায়নি। তবে চক্রটি হালও ছাড়েনি। যদিও তাদের বড়ো গলা শুনে মানুষ হেসেছে নিশ্চিত। দুর্নীতিবাজ এইসব রাজনীতিবিদকে জিজ্ঞাসাবাদের অডিও টেপগুলো এই মুহূর্তে ইন্টারনেটে আপলোড করতে পারছি না ধীরগতির সংযোগের কারণে। যারা এর আগে টেপগুলো শুনেছেন, তাদের নতুন করে কিছু বলার নেই। যারা শোনেননি, তারা যদি শুনতেন, রাশেদ খান মেননদের অভিযোগের অন্তঃসারশূন্যতা সহজেই বুঝতে পারতেন।

বেছে বেছে রাষ্ট্রের স্পর্শকাতর সংস্থাগুলোই টার্গেট
ডিজিএফআই বা ডাইরেক্টরেট জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স বাংলাদেশের একমাত্র সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার জন্য যা কিছু সম্ভব, তা বাস্তবায়ন করাই তাদের মূল কাজ। একইসঙ্গে সামরিক বিষয়াদিও তারা দেখাশোনা করে। সামরিক বাহিনী নিজেরা বেতন-ভাতা-সুযোগ-সুবিধা-অবকাঠামো দিয়ে কিছু লোক পোষে, যার পোশাকি নাম ডিজিএফআই, আর তাদের অন্যতম কাজ হচ্ছে সামরিক বাহিনীর দুর্বলতা খুঁজে বের করা। বাংলাদেশে আর কোনোখানে আপনি এইরকম উদাহরণ পাবেন?
গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ এক অবিশ্বাস্য অভিযান চালিয়ে ডিজিএফআই ও অন্য সংস্থাগুলো একইসঙ্গে দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, অসৎ আমলা, অসাধু ব্যবসায়ী, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত- সবারই চক্ষুশূল হয়েছে। নির্বাচনের পর থেকেই আবদুল জলিল-তারেক রহমান, রাশেদ খান মেনন-মখা আলমগীর, জাপা-জামাত, আমলা-ব্যবসায়ী- সবাই ডিজিএফআইকে একহাত দেখে নিতে চাইছে। রাশেদ খান মেনন-আবদুল জলিল থেকে মার্কিন মুল্লুকের হিউম্যান রাইটস ওয়াচ - সবারই স্বর এই এক জায়গায় একই।
এলিট ফোর্স র‌্যাব নিয়ে কথা উঠেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই এলিট ফোর্সকেও বিলুপ্ত করার পরামর্শ দিয়েছে। অভিযোগ ‌'ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন'। এনকাউন্টারে র‌্যাব কর্মকর্তাদের কার কী স্বার্থ আছে, আমার জানা নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতোটা নাজুক হয়ে উঠলে, সন্ত্রাসী তৎপরতা কতোটা ভয়ংকর হয়ে উঠলে, সরকারকে র‌্যাবের মতো এলিট ফোর্স গঠন করতে হয় এবং সেই এলিট ফোর্সকে এনকাউন্টারের মতো চরমপন্থার আশ্রয় নিতে হয় - তা আমাদের কারোরই অজানা নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন নিজেই গতকাল সাংবাদিকদের বলেছেন, ‌'সন্ত্রাসীরা পুলিশের চেয়ে র‌্যাবকেই বেশি ভয় পায়। কার্যক্ষেত্রে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। জঙ্গিবাদী, সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রণ বা দমনে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবের প্রয়োজন আছে।'

এই মুহূর্তে সরকারের জরুরি কাজ হচ্ছে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্টের কড়া প্রতিবাদ জানানো। হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে কঠোর ভাষায় জানিয়ে দিতে হবে, একটি সার্বভৌম দেশের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা সম্পর্কে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো একটি সংস্থা এ ধরনের চরম আপত্তিকর মন্তব্য করতে পারে না।

প্রথম প্রকাশ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটল। আজ সকালে সামহোয়্যারইনে এক ব্লগারের দেওয়া পোস্ট থেকে এই ঘটনার কথা প্রথম জানা গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, বেশ কয়েকদিন আগেই হ্যাকিংয়ের এই ঘটনা ঘটেছে। সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইটে Cyb3rking ছদ্মনামের ওই হ্যাকার নিজেকে ‘তুর্কি হ্যাকার’ পরিচয় দিয়ে ওয়েবসাইট এডমিনের উদ্দেশ্যে কিছু সতর্ক বার্তা লিখে রাখে। আজ সন্ধ্যা সাতটার দিকে অবশ্য ওয়েবসাইটের হ্যাকিং হওয়া অংশ পুনরুদ্ধার করা হয়।
তবে লক্ষ্য করলাম, তুর্কি ওই হ্যাকার ওয়েবসাইটের প্রধান প্রধান পৃষ্ঠাগুলোর কোনো ক্ষতি করেনি। আর্মি ডেটাবেজেরও কোনো ক্ষতি চোখে পড়েনি। এমনকি ওয়েবসাইটে হ্যাকারের উপস্থিতিও সহজে শনাক্ত করা যায়নি। শুধুমাত্র সার্চ পেইজে গেলেই ‘গেম ওভার’ শিরোনামের একটি ছবিসহ হ্যাকার সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া যায়।

ওয়েবসাইটের সিকিউরিটি সিস্টেমের দুর্বলতা তুলে ধরে এডমিনকে উদ্দেশ্য করে হ্যাকার লিখে- ‘Hey Admin ! Your Security=0. There are serious Security ProbLems With Your Site To Solue The Problems contact Me. Security is Provided Problem Recovery Find Me 0wner ’ তার ইমেইল ঠিকানা Cyb3rking@msn.com। নিচে আরো লেখা হয়েছে- [ Damn With ABD & israiL ]। Cyb3rking ছদ্মনামের ওই তুর্কি হ্যাকার নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে একই পৃষ্ঠায় বিশেষ কৌশলে দুটি বিদেশী ওয়েবসাইটের লিংকও রাখে। সাদা রঙে দেওয়া লিংকগুলো এমনিতে চোখে পড়ে না, হাইলাইট করলেই শুধু দেখা যায়। ওই দুটি ওয়েবসাইট হল ww.Arabic-m.org ও http://www.Turk-h.org . সার্চ দিয়ে দেখলাম, একই হ্যাকার পিজ্জাহাট ইজরায়েল শাখার ওয়েবসাইট ছাড়াও বিভিন্ন দেশের আরো অনেক ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইটে ওই হ্যাকার ‘বন্ধু’ পরিচয়ে আরো কয়েকজন হ্যাকারের নিক তুলে দেয়। Gatyi, ExOnE, GHOST OF IRAQ, LiveWithDie, UzMaN, HarbiyeLi, By_FatiH, injection, Red-D3v1L ছদ্মনামধারী এইসব হ্যাকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওয়েবসাইট হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত। সার্চ দিয়ে দেখলাম, এদের মধ্যে এক্স-ওয়ান ছদ্মনামধারী একজন হ্যাকার সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে।

এটা মোটামুটি ধারণা করে নেওয়া যায় যে, হ্যাকার নিরবে পুরো ওয়েবসাইটের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছিল। অনেকেই দেখে থাকবেন, সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইটে পাসওয়ার্ড প্রটেক্টেড বেশকিছু অংশ রয়েছে। সেখানে আছে সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ডেটাবেজ। অথরাইজড লোক ছাড়া যা আর কারো দেখার সুযোগ নেই। এইসব ডেটাবেজ কি কপি করেছে ওই হ্যাকার? তাছাড়া একবার নিয়ন্ত্রণ যখন নিয়েছেই, সামনে এরকম আশঙ্কা আরো থেকে যাচ্ছে।

সবচেয়ে বড়ো কথা হল, কতোটা ভঙ্গুর ও দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের সেনাবাহিনীর স্পর্শকাতর ওয়েবপোর্টাল চলছিল- এই ঘটনা থেকে আমরা সেটি কিছুটা হলেও বুঝতে পারছি। এডমিন ও ওয়েবসাইটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের এখনই চাকরিচ্যুত করা উচিত। সাইবারযুগে এই ধরনের অথর্ব লোক অচল।

সংযোজনী
Cyb3rking মহোদয়ের হ্যাকিং ইতিহাস

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): সেনাবাহিনীওয়েবসাইটহ্যাকারহ্যাকিংwww.army.mil.bdCyb3rkinghackinghackerwebsitebangladesh army ;

প্রথম প্রকাশ

ছবিতে ইউনিফর্ম পরা যে মুখটি দেখছেন, আজ তার বেতন পাওয়ার কথা ছিল। ছুটি থেকে তড়িঘড়ি ফিরে তিনি জেনেছেন, তার কিছু সহকর্মীর হাতে ঘটেছে ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যার ঘটনা। সীমান্তের এই পরীক্ষিত প্রহরী, যিনি তার দীর্ঘজীবন দেশের সীমান্ত পাহারা দিয়ে কাটিয়েছেন, তিনি আজ সারাদিনই উদ্বিগ্নমুখে অপেক্ষা করেছেন- কখন ডাক আসবে। অল্প বেতন নিয়ে এই লোকটি তার জীবনের প্রায় পুরো সময়টায় দেশের জন্য ব্যয় করেছেন। এবং এই লোকটি খুনি নন! পিলখানায় ইতিহাসের নির্মম হত্যাকাণ্ড, শতাধিক সেনাকর্মকর্তার নির্মম নিষ্ঠুর মৃত্যুর ঘটনা দেখেও তাই এই লোকটির জন্য কেন যেন মনটা খারাপ হয়ে গেল। আমি লোকটির চেহারা পড়ে বুঝতে পারি, তার পুরো পরিবার আজ তার বেতনের অপেক্ষায় ছিল।

টেলিভিশনে বা সরাসরি অনেকেই দেখে থাকবেন, ২৪ ঘন্টার মধ্যে রিপোর্ট করার সরকারি নির্দেশের পর গতকাল থেকেই বহু বিডিআর সদস্য পিলখানার সদর দপ্তরের সামনে ভিড় করছেন। ওদিকে বিডিআর বিদ্রোহের আগে ছুটিতে যাওয়া বিডিআর জওয়ানরা ছুটি শেষে কিভাবে আবার চাকরিতে যোগ দেবেন তাও বুঝতে পারছেন না। বিডিআর সদর দফতরের প্রধান গেইটে তাদের দেখা যাচ্ছে উদ্বিগ্ন মুখে অপেক্ষা করছেন। এছাড়া রিপোর্ট করার জন্য সদরদপ্তরের প্রধান ফটকের সামনে এবং ধানমণ্ডির আবাহনী মাঠে অপেক্ষায় করছেন কয়েক হাজার বিডিআর সদস্য। পিলখানার হাসপাতাল ভবনে পাঁচ শতাধিক বিডিআর সদস্য আটক অবস্থায় আছেন। সেখানে কিছু নারী ও শিশুও রয়েছেন। এদের অনেকেই পিলখানায় গত বুধবার সকালে পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে পালিয়েছিলেন। কেউ কেউ আবার হত্যাকাণ্ড শুরু হওয়ার পর পালিয়ে যান। অনেকে ছুটিতে ছিলেন। ওরা দোষী নয়। ডিজিএফআই প্রধানও সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, বিদ্রোহের সঙ্গে বিডিআরদের সবাই ছিল না। তিনি বলেছেন, "সংখ্যাটি খুব সম্ভবত অল্পই হবে।" কিন্তু যেহেতু পুরো জাতির মনেই বিডিআর সদস্যদের প্রতি একটি অবিশ্বাসের জন্ম হয়েছে, ফলে নির্দোষ যারা, তাদেরও অনিবার্যভাবেই ভুগতে হচ্ছে।

সীমান্ত আছে স্পর্শকাতর অবস্থায়। আমি শুধু ভয় পাচ্ছি, নির্দোষ বিডিআরদের মধ্যে আস্থার অভাব সৃষ্টি না হয়। এবং সেই অনাস্থা নিয়ে যেন তাদের সীমান্তে দায়িত্ব পালন করতে না হয়। মনে রাখতে হবে, শুধুমাত্র সীমান্ত রক্ষার জন্যই বিডিআর সদস্যদের বিশেষভাবে তৈরি করা হয়ে থাকে। এই কাজ পুলিশকে দিয়ে হবে না। তবে বিডিআরের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মইনুল হোসেন অবশ্য জানিয়েছেন, বিদ্রোহের পর জওয়ানদের মনোবল ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে।

বিদ্রোহী বিডিআরদের মধ্যে যারা দোষী, যারা মূল হোতা, ব্যক্তিগতভাবে আমি এমনকি তাদের বিচারের পক্ষেও নই। ইতিমধ্যে সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো, এমনকি সরকারেরও নিশ্চয়ই ধারণা হয়ে গেছে, হাজার হাজার বিডিআর সদস্যের মধ্যে কারা কারা মূল হোতা, কারা কারা দোষী। এদের সরাসরি ফায়ারিং রেঞ্জেই নেওয়া উচিত। সেনাকর্মকর্তাদের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কিছুতেই পূরণ হবে না। এ ক্ষতি অবর্ণনীয়। তবে এই ক্ষতি, এই ব্যথা মনে রেখেও নির্দোষ বিডিআর সদস্যদের জন্য একটু মানবিকতা রাখতেই চাই। আসলে রাখা-না রাখা ঠিক নয়, আজ পিলখানার গেট থেকে ঘুরে এসে, আবাহনী মাঠের ওপর চোখ রেখে সেটা কেমন করে যেন সঙ্গোপনে জমা হয়ে গেল!

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bdr mutinybangladesh rifles revoltbangladesh riflesbdr mutiny day ;

প্রথম প্রকাশ

মিরাকল কিছু না ঘটলে অথবা আগামী কয়েক ঘন্টার মধ্যে বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা যদি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ না করে, তাহলে খুব শীঘ্রই আমরা একটি যুদ্ধ দেখতে যাচ্ছি। আজ বিকেল সাড়ে চারটার দিকেই এ যুদ্ধ শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে কৌশলগত কিছু কারণে সময়টা পিছিয়েছে। তবে যুদ্ধ প্রায় অনিবার্য। এবং এ যুদ্ধে এমনকি যুদ্ধবিমানের ব্যবহার হতে পারে- সেই প্রস্তুতিও আছে।

বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা কিছু অস্ত্র ইতিমধ্যে তারা সরকারের প্রতিনিধিদের কাছে জমা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর বলা হচ্ছে, বিদ্রোহীরা তাদের সব অস্ত্রই জমা দিয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, সেই সকালে পুরো অস্ত্রাগারই লুট হয়েছিল। এ থেকে এটা নিশ্চিত যে, এখনো বিদ্রোহীদের কাছে প্রচুর অস্ত্র রয়ে গেছে। এটি একটি বড়ো বিপদ। তবে সবচেয়ে বড়ো বিপদটি হল, পুরো রাইফেলসের চেইন অফ কমাণ্ড সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। সারা দেশেই একই অবস্থা। বিদ্রোহীদের চাপে ইতিমধ্যে ক্লার্ক পর্যায় থেকে ওঠে আসা একজন ডিএডি তৌহিদকে ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক নিযুক্ত করার ঘটনায় তা কিছুটা আঁচ করা যায়।
এছাড়া দরবার হলে সকালের সেই ঘটনার পর এ পর্যন্ত ঠিক কতোজন সেনা কর্মকর্তা পিলখানার ভেতরে নিহত হয়েছেন, তা এখনই নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। বিদ্রোহের এই সময়টাতে আরো কী কী অনাচার সদর দপ্তরের ভেতরে ঘটেছে, তা জানতেও সময় লাগবে।

ইতিমধ্যে সেনাবাহিনী চেয়েছিল, সময়ক্ষেপণ করে বিদ্রোহীদের মনোবল ক্রমশ দুর্বল করে ফেলা। এ কৌশল যে সফল হয়েছে, তা বোঝা গেছে, মাত্র কিছুক্ষণ আগে পিলখানার সদর দপ্তর থেকে কিছু বিডিআর সদস্যের পলায়নের ঘটনায়। যদিও তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছেন, যুদ্ধ প্রকাশ্যে হতে পারে। আবার লোকচক্ষুর অন্তরালেও হতে পারে। তবে তারা বলছেন, যুদ্ধ অনিবার্য। মিরাকল কিছু না ঘটলে এ থেকে পিছিয়ে আসার কোনো পথ নেই। তাই সম্ভবত খুব শীঘ্রই আমরা একটি যুদ্ধ দেখতে যাচ্ছি।

বি.দ্র. : কৌতূহল দমন করে পিলখানার আশপাশ থেকে লোকজনের সরে আসা উচিত এখনই। ব্লগারদের কেউ থাকলে বা তাদের পরিবার-পরিজন থাকলে তাদের দ্রুত সরে আসতে বলি।

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bdr mutinybangladesh rifles revoltbangladesh riflesbdr mutiny day ;

প্রথম প্রকাশ

পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। আমাদের সৈনিকরা লড়ে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ রাইফেলসের একমাত্র প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে বেশ বড়ো আকারের বিদ্রোহের খবর পাওয়া গেছে। টেকনাফেও বিদ্রোহ হয়েছে। রাজশাহীর অবস্থা এখন অনেকেরই জানা। খাগড়াছড়িতে প্রচুর বিডিআর সদস্য আছেন। সেখানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের যুদ্ধ চলছে বলে আমরা খবর পেয়েছি সকালে। তবে সবকিছু নিশ্চিত হতে সময় লাগবে আরো।

এই সময়ে শান্তির আশা করে লাভ হবে বলে মনে হয় না। বিডিআরের এই বিদ্রোহ সরকার এবং পুরো সেনাবাহিনীর প্রতি এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। বিডিআরের এই বিদ্রোহ আমাদের মর্যাদার ওপর আঘাত। তাই এই চ্যালেঞ্জে জেতা ছাড়া তাদের সামনে আর দ্বিতীয় পথ আর খোলা নেই। ইতিমধ্যে বেদনাবিধূর ঘটনা ঘটে গেছে। পরিস্থিতি যেখানে গুরুতর, সেখানে সেনাসদস্যরা লড়ে যাচ্ছেন। তাদের জন্য শুভকামনা।

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bdr mutinybangladesh rifles revoltbangladesh riflesbdr mutiny day ;

প্রথম প্রকাশ


অনেক ঘটনাই ঘটে গেল আজকে পিলখানায়। এখনো দেখার বাকি আরো অনেক কিছু। রাইফেলসের মতো একটি আধা সামরিক বাহিনীতে যে মাপের শৃঙ্খলা আশা করা হয়ে থাকে, এই ঘটনায় দেখা গেল, যে কারণেই হোক না কেন, সেই শৃঙ্খলা আদতে নেই কিংবা শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীতে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়তে দেখে অনেকেই বেশ আনন্দিত হয়েছেন দেখছি। কিন্তু বুঝতে হবে, শেষ বিচারে বাংলাদেশ রাইফেলস "সুজন" নয়, ইউএনডিপির কোনো প্রকল্পও নয়, আবার মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিও নয়। এ ধরনের বাহিনীতে শৃঙ্খলা এবং শৃঙ্খলাই শেষ কথা, এবং তা যে কোনো পরিস্থিতিতে। রাইফেলসে বেতন-ভাতার বৈষম্য ছিল, আরো নানা কারণে অসন্তোষ ছিল। তাদের দাবিও ন্যায়সঙ্গতই। কিন্তু নির্মম সত্যি এটাই যে, আজ যা ঘটল এবং আগামীতে যা যা ঘটবে- তাতে আমার দেশের সীমান্তের খুঁটিগুলোই আসলে দুর্বল হয়ে পড়ল। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে এই ঘটনা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হচ্ছে। এতে যতো যাই হোক, একটি আধা-সামরিক বাহিনীর এই বিদ্রোহ বহির্বিশ্বে বাংলাদেশকে নিশ্চিতভাবেই চেনাবে অন্যরূপে। সেই রূপ ইতিবাচক নয়। এটা যে কোনো বিচারেই পুরো বাংলাদেশের জন্যই একটি অপমানজনক ঘটনা।

যতো যাই হোক, শৃঙ্খলাই শেষ কথা
রাইফেলসের যে সদস্য আজ মুখোশ পরে টিভি ক্যামেরার সামনে নিজেদের দাবিদাওয়া তুললেন- তার দাবির সঙ্গে একমত- কিন্তু আধা-সামরিক বাহিনীতে থাকার যোগ্যতা তার নেই। সৈনিক মাত্রেই যে কোনো পরিস্থিতিতে তার উর্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশ মানতে বাধ্য। এর অন্যথা হলে বুঝতে হবে, সেখানে ঘাটতি আছে, বড়ো গলদ আছে। কঠোরতম শৃঙ্খলা না থাকলে বাংলাদেশ রাইফেলস কেন, কোনো বাহিনীই টিকে থাকতে পারবে না। সবচেয়ে বড়ো প্রশ্ন হল- এই ধরনের একটি বিশৃঙ্খল বাহিনী কী করে আমার দেশের সীমান্ত রক্ষার কাজ করবে?

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য করুণা
এতো বড়ো একটি ঘটনা ঘটল, কিন্তু গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এর কোনোই পূর্বাভাস পাবে না- তা কী করে হয়? গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এই ব্যর্থতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার ব্যাপারে পূর্বাভাস দিতে ব্যর্থ হওয়ায়, বিশেষ করে ডিজিএফআই মহাপরিচালকের পদত্যাগ করা উচিত এখনই। এটা একটি অমার্জনীয় ব্যর্থতা তাদের। এই ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য শ্রেফ করুণাই হচ্ছে।

কে প্রতিপক্ষ, কেন প্রতিপক্ষ
সেনাবাহিনীকে আবার প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানো হচ্ছে। প্রেষণে বিডিআরে যাওয়া কোনো কোনো সেনা কর্মকর্তার অন্যায়-দুর্নীতি-অনিয়ম নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু তার জন্য পুরো সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে, তাকে হেয় করে অনেকেই একধরনের সুখ অনুভব করছেন। অথচ এই মানুষগুলোই মিয়ানমার এসে বঙ্গোপসাগরে গ্যাসের জন্য হানা দিলে উদ্বিগ্ন হয়, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমানার ভেতরে ঢুকে ভারত জরিপকাজ চালালে এই মানুষগুলোর উৎকণ্ঠা ঝরে পড়ে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা বাদই দিন, ওই যে ভেনেজুয়েলা- একজনমাত্র অপহৃত সৈনিকের জন্য সেখানেও পুরো দেশ প্রার্থনায় বসে। হানাহানি হবেই, ভাই ভাইয়ের বিরুদ্ধে লড়বেই, দ্বন্দ্ব-সংঘাত থাকবেই- কিন্তু সবার আগে দেশ। সবার আগে দেশের স্বার্থ। তবে বলা হয়ে থাকে, নরকে মাত্র একটি প্রকোষ্ঠেই কোনো প্রহরা থাকে না। কারণ সেই প্রকোষ্ঠে বাঙালিদের রাখা হয়। কেউ নরকের দেয়াল টপকে পালাতে চাইলে অন্যরা তাকে টেনে নিচে নামিয়ে আনেন। বোধকরি এজন্যই এশিয়ায় পাকিস্তান-ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সবচেয়ে কম পরিশ্রম করতে হয় একমাত্র বাংলাদেশেই, না চাইতেই যে তাদের কাজগুলো অন্যরা করে দেন। এই না হলে বাঙালি! 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bdr mutinybangladesh rifles revoltbangladesh riflesbdr mutiny day ;


কিছুদিন আগে একজন সেনাসদস্য দুঃখ করে বললেন, 'তিন বছর পর একবার ছুটি পেয়ে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। গিয়ে দেখি, আমার ছেলে আমাকে ‌'আঙ্কেল' ডাকছে।' ছেলের জন্মের সময় ওই সৈনিক জাতিসংঘ মিশনে। এক বছর পর দেশে ফিরে আসলেও আর বাড়ি যাওয়ার সুযোগ মেলেনি।

শুধু এই একজন নন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়টাতে হাজার হাজার সেনাসদস্যের দিনরাত কেটেছে হয় ভোটার তালিকা তৈরির কাজে, নয়তো জরুরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়, কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় কাজে। সারা দিন ভোটার তালিকার কাজ করে সন্ধ্যায় বাহিনীতে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে তাদের। শুক্র-শনি ভোটার তালিকার কাজ তদারকি করে রোববারেই হয়তো চলে যেতে হয়েছে নিয়মিত ট্রেনিংয়ে। গত কয়েক বছরে হাজার হাজার সৈনিক, আমি নিশ্চিত, রাতের ঘুমটুকুও ঠিকমতো শেষ করতে পারেনি। হায়, তাদের একটি ‌'ধন্যবাদ' দেওয়া হয়নি।

থানচির দুর্গম পাহাড়ে ভোটার তালিকার কাজে নিযুক্ত ছিল যেসব সৈনিক, তারা জানতো সপ্তাহান্তে ফের আরেকটি হেলিকপ্টারে চাল-ডাল-পানি এসে না পৌঁছুলে না খেয়ে মরে যাওয়া ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। তবু তারা কাজ করে গেছে। বাঘাইছড়ির মাচালং পেরিয়ে জনমানবহীন প্রান্তরে দেখেছি, সকাল থেকে সন্ধ্যা ট্রাক্টরের ওপরে বসে নিঃসঙ্গ সৈনিক পাথরসম পাহাড় কেটে জনচলাচলের পথ তৈরি করছে।

অথচ! এই লোকগুলো, আমাদেরই ভাই-প্রতিবেশী-নিকটজন, কখনোই তাদের কাজের জন্য একটি 'ধন্যবাদ' পায় না। তিন যুগেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশ যে প্রকৃতই এক অসামান্য ও নির্ভুল ভোটার তালিকা হাতে পেল, তার পুরো কৃতিত্ব এই সেনাবাহিনীরই। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সহযোগী হিসেবে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও তাদের বিরুদ্ধে পুকুরচুরির অভিযোগ ওঠেনি। আমরা দেখেছি, কী সচেতনভাবে তারা সংবরণ করেছে ক্ষমতার দুর্দমনীয় লোভ। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এর চেয়ে বড়ো কৃতিত্ব আর কী হতে পারে? অথচ, কী অদ্ভূত, বারবার তাদের দিকেই ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে অবিশ্বাসের তীর। হায়, তাদের একটি ‌'ধন্যবাদ' দেওয়া হয়নি।
দলমতনির্বিশেষে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ এক অবিশ্বাস্য অভিযান চালিয়ে তারা ঝাঁকুনি দিয়েছিল পুরো দেশকে। অথচ বিনিময়ে তাদের বিরুদ্ধে কেবলই শোনা গেছে বিদ্বেষবাণী।

তারা কি দেশপ্রেমিক নয়? তারা আমাদের ভাই-প্রতিবেশী-নিকটজন নয়? নাকি তারা ভিনগ্রহের কেউ?


ছবি : ট্রাক্টরের ওপরে বসে নিঃসঙ্গ সৈনিক পাথরসম পাহাড় কেটে জনচলাচলের পথ তৈরি করছে। পার্বত্য খাগড়াছড়ির ছবি।

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bangladesh armybangladesh armybangladesh military ;

প্রথম প্রকাশ


যেভাবেই হোক না কেন, যে কারণেই হোক না কেন- বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর একটি দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। সেনাসদস্যদের সকলেই এই ঘটনায় চরম অপমানিত বোধ করছেন। এর মধ্যে অনেকে মনে করছেন, এক বা একাধিক মহল কৌশলে তৃতীয় শক্তির মাধ্যমে তাদের ওপর প্রতিশোধ নিয়েছেন। তারা মনে করছেন, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, রাজনীতিবিদদের গ্রেপ্তারসহ নানা কারণে এক বা একাধিক মহল সেনাবাহিনীর ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। পিলখানায় সেনাকর্মকর্তাদের ওপর নির্বিচার এ গণহত্যায় ওই মহলগুলোর ইন্ধন থাকতে পারে। ইতিমধ্যে ভারতের বিএসএফের দিকে সন্দেহের তীর উঠেছে। এমনিতে তো সাধারণভাবে ধারণা করা হয়ই যে, ভারতের প্রতি আওয়ামী লীগ ঐতিহাসিকভাবে সহানুভূতিশীল। সবমিলিয়ে অনেকে দুয়ে দুয়ে চার মেলাতে চাইছেন।

সরকারের ওপর ক্ষোভ চার কারণে
১. ঘটনার শুরুতেই সেনাবাহিনী তাদের কর্মকর্তাদের বাঁচাতে বারবার পিলখানার ভেতরে ঢুকতে চেয়েছে। সর্বাধুনিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেনাসদস্যরা এখন প্রতিপক্ষকে আঘাত না করেও জিম্মিদের বের করে আনতে পারে। ফলে অনেকে যে অজুহাত দেখাতে চাইছেন, সেনারা প্রবেশ করলে সবাইকে হত্যা করা হতো। তা ঠিক নয়। এমনকি রেবও যদি সময়মতো পিলখানার ভেতরে ঢোকার অনুমতি পেতো, তাহলেও বহু সেনাকর্মকর্তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো।
২. গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, বুধবার সকালে দরবার হলে বড়জোর ২০ থেকে ২৫ জন সেনাকর্মকর্তাকে বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা হত্যা করে। আর বাকি সবাইকেই হত্যা করা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পরই। ঠান্ডা মাথার এ খুনের পর তাই বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা সংসদে ইমডেমনিটি পাশ করার দাবি জানিয়েছিল। এমনকি তারা অস্ত্রসমর্পণেও রাজি ছিল না। পরে মূলত সেনাবাহিনীর বেপরোয়া যুদ্ধপ্রস্তুতি দেখে বিদ্রোহীরা পিছু হটে।
৩. টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর খবরেই অনেকে দেখে থাকবেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ও সাংসদদের তত্ত্বাবধানে আত্মসমর্পণের আগে ও পরে প্রচুর কালো কাঁচের অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাস পিলখানার ভেতরে ঢুকেছে ও বেরিয়েছে। সেনাসূত্র নিশ্চিত করছেন, এ যানগুলোতেই বিদ্রোহের মূল হোতারা নির্বিঘ্নে সরকারের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরে অবশ্য নিশ্চিতও করেছেন যে, বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা তাদের হেফাজতে আছে।
৪. অনেকেই মনে করছেন, মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করে বিডিআর বিদ্রোহীদের বক্তব্য জনগণের কাছে এমনভাবে পৌঁছানো হয়েছে, যাতে সেনাবাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন হয়। প্রথম দুদিন সেটাই হয়েছে। বিদ্রোহীদের সঙ্গে জনতা উল্লাস প্রকাশ করছে- এমন দৃশ্যও আমাদের দেখতে হয়েছে।

সন্দেহের তীর তৃতীয় শক্তির দিকেই
পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনের টক শোতেও সামরিক বিশেষজ্ঞরা বারবারই বিদেশী শক্তির প্রতি আঙ্গুল তুলছেন। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমাণ্ডার ও সাবেক সেনাকর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) মীর শওকত আলী আজ এক টকশোতে বলেছেন, বিডিআর বিদ্রোহ ও সেনাকর্মকর্তাদের গণহত্যার কাজটি বিডিআর সদস্যদের একার কাজ হতে পারে না। মূল মদদদাতারা কৌশলে সাধারণ বিডিআরদের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। প্রয়োজনীয় উস্কানি দেওয়ার কাজটি তারাই করেছে। এর সমর্থনে তিনি সেনাবাহিনীতে তার অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। বিডিআরের মতো একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীতে বাইরের লোক ঢোকা কিভাবে সম্ভব- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা খুবই সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ইউনিফর্ম ও নকল পরিচয় বহন করে নবম ডিভিশনের ভেতরে এসে কেউ যদি নিজেকে অষ্টম ডিভিশনের লোক হিসেবে পরিচয় দেন, তাহলে তাকে শনাক্ত করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। এভাবে সাধারণ সৈনিকদের সঙ্গে মিশে যাওয়া খুবই সম্ভব।
তিনি বলেন, ঢাকা বিমানবন্দরে ছিনতাইকৃত জাপানি বিমান অবতরণের পর সশস্ত্র বাহিনীর যে আটজন কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছিল, তাও এভাবেই হয়েছিল। বাহিনীর বাইরে থেকে লোক ঢুকে বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে চোখের পলকে সশস্ত্র বাহিনীর আট কর্মকর্তাকে হত্যা করেছিল।

কাঁদছে অরক্ষিত সীমান্ত
সীমান্তের বিওপিগুলো এখন আক্ষরিক অর্থেই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এখন বিডিআরের সুবেদার মেজরদের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর একটি বাহিনী চলছে ঢিমেতালে। অবস্থা বোধহয় এমন দাঁড়িয়েছে যে, কলকাতা কি ত্রিপুরায় ভালো থাকা-খাওয়ার সুবিধা পেলে বিওপিগুলো শূন্য হয়ে যাওয়াও এখন অস্বাভাবিক নয়। এদিকে বিএসএফ গত পরশুও সীমান্তে এক বাংলাদেশীকে গুলি করে হত্যা করেছে। যে কোনো বিচারেই জাতীয় নিরাপত্তার শেষ খুঁটি- সেনাবাহিনী ও বিডিআর। এর মধ্যে বিডিআরকে প্রায় শক্তিহীন করে দেওয়া গেছে।
সীমান্তের এই প্রহরীদের শক্তিহীন করে কার লাভ কী? তালপট্টি-মালপট্টি টাইপের ইনকিলাবীয় গৎবাঁধা প্রচারণায় সায় দেই না। বিএনপি-জামাতি কথিত বুদ্ধিজীবীদের কল্পিত ভারতীয় আধিপত্যবাদেও মন দেই না কখনোই। আমরা শুধু জানি, আমাদের বিডিআরের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিডিআরের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া মানে সীমান্তকে অরক্ষিত করে দেওয়া। এখন আঘাতটা যখন গায়ের ওপর এসে পড়েছে, দেশের ওপরে এসে পড়েছে, তখন দেশের শত্রুদের চিহ্নিত করা আর জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মাথার ওপর কলকাতা নেই, ইসলামাবাদও নেই। এই দেশটাই আমাদের সবকিছু- সুখে-শান্তিতে-বিদ্রোহে-সংগ্রামে।

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bdr mutinybangladesh rifles revoltbangladesh riflesbdr mutiny day ;

প্রথম প্রকাশ


পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সন্দেহের তীর এখন ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স- বিএসএফের দিকে। তবে এর আগে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে একটি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জামাতের সংশ্লিষ্টতা ছিল। বিডিআরের সাধারণ সদস্যদের মধ্যে জামাত, হিজবুত তাহরীরসহ মৌলবাদী সংগঠনগুলোর অনুগত অনেকেই ছিলেন। সেদিক থেকে এ সন্দেহও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে গোয়েন্দাদের দৃষ্টি এখন বিএসএফের দিকেই।

প্রধানমন্ত্রী নিজেও কিছুক্ষণ আগে টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ঘটনাটিতে তৃতীয় শক্তির ইন্ধন ছিল। প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, ঘটনার আগে বিডিআর সদর দপ্তরে লাখ লাখ টাকা বিডিআর সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা থেকে পিছিয়ে এসেছেন। তিনি বলেছেন, যারা পিলখানায় গণহত্যা ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ছিল- তারা সাধারণ ক্ষমার আওতায় পড়বে না।

সেনাসূত্রগুলো বলছেন, বিএসএফের লক্ষ্য ছিল বিডিআরকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া। পিলখানার ঘটনার পরপরই সীমান্তে রেডএলার্ট জারি করে বিএসএফ। লিফলেট বিলিসহ নানা আলামতে ইতিমধ্যে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, পুরো ঘটনাই পূর্বপরিকল্পিত। মূলত বিডিআরের "থিংকট্যাংক" বা পুরো মাথাকেই ইতিমধ্যে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে সেনাকর্মকর্তাদের গণহত্যার মধ্য দিয়ে।

গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, পুরো এই ঘটনায় সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ ছিল পিলখানার ওপর। এই সুযোগে ভারত কিংবা মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে বড়ো ধরনের অস্ত্রের চালান দেশের ভেতরে ঢুকেছে বলে তারা সন্দেহ করছেন।

তবে এর মধ্যেই এই সরকারের সঙ্গে ভারতের একটি ভালো সম্পর্ক থাকায়- তাও একটি মহলে অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে। সামনে সম্ভবত কিছু চমক অপেক্ষা করছে।

বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে লেখাটি তৈরি করা হয়েছে।

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bdr mutinybangladesh rifles revoltbangladesh riflesbdr mutiny day ;

প্রথম প্রকাশ


গুগল আর্থে একবার অনেক খুঁজেটুজে নৌবাহিনীর ফ্রিগেট খালিদ বিন ওয়ালিদকে চট্টগ্রাম বন্দরের কাছাকাছি জায়গায় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলাম। এর ওপর আমি একটি গুগল ফ্ল্যাগও গেড়ে দিয়েছিলাম। এখনও থাকতে পারে সেই চিহ্ন। সেই ফ্রিগেট এই মুহূর্তে আছে মংলা সমুদ্র বন্দরের ফেয়ারওয়ে বয়া থেকে ১৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে। গত বৃহস্পতিবার বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় ভারতের তিনটি জাহাজের অনুপ্রবেশের পর খালিদ বিন ওয়ালিদ ওই জায়গায় অবস্থান নেয়।

ভারতের গোয়ার্তুমি, সংঘাত কি অনিবার্য?
ভারতীয় জাহাজগুলো বঙ্গোপসাগরের যে এলাকায় সিসমিক জরিপ করছে, ওই এলাকাটি বাংলাদেশ ও ভারত দু পক্ষই নিজেদের বলে দাবি করছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জলসীমার বিতর্ক শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই সেখানে অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করতে পারে না। ভারত সেই আইনকে যে গা করেনি, সেটা বোঝা যায় স্পষ্টই। বৃহস্পতিবার নৌবাহিনীর ফ্রিগেট খালিদ বিন ওয়ালিদ ভারতীয় জাহাজগুলোকে সরে যেতে বলার পর তারা প্রথমে কিছুটা পথ সরে গিয়েছিল। কিন্তু পরে আবার সদর্পে ফিরে আসে এবং এলাকা ছেড়ে চলে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। এই ঘটনায় তাদের গোয়ার্তুমিটা টের পাওয়া যায়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সম্মতি ছাড়া জাহাজগুলো নিশ্চয়ই একটি বিরোধপূর্ণ জায়গায় আসে না। এই মুহূর্তে, মিয়ানমারের ঘটনার মতো কূটনৈতিক উদ্যোগে ঘটনার সুরাহা হলে ভালো। আর যদি না হয়, তাহলে প্রথমেই প্রশ্ন আসে- সীমিত শক্তি নিয়ে বাংলাদেশ ভারতের মতো শক্তিশালী সামরিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যাবে কিনা। যদি যায় তাহলে কী ঘটতে পারে?

নৌশক্তির তুলনা
বলাবাহূল্য ভারতের নৌশক্তি অকল্পনীয়। ভারতীয় নৌবাহিনীর কেবল জাহাজবহর আর সাবমেরিনের তালিকাটা দেখলেই মাথা ঘুরে ওঠার জোগাড় হয়। সে তুলনায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর শক্তি খুবই সামান্য। চুলচেরা হিসেব করলেও শক্তি বলতে দেখা যায় পাঁচটি ফ্রিগেট, ২৪টি পেট্রল ক্রাফটস, পাঁচটি মাইন সুইপার, নয়টি মিসাইল বোট, আটটি টর্পেডো বোট এবং ১২ হাজার ১৫০ নৌসেনা ও কর্মকর্তা। একটি সাবমেরিন কেনা হচ্ছে কেনা হচ্ছে বলে আর কেনা হয়ে ওঠেনি।

মিয়ানমারের অভিজ্ঞতা
গত নভেম্বরে ভারতের মতো একইভাবে মিয়ানমার সেন্ট মার্টিন দ্বীপের প্রায় ৬০ নটিক্যাল মাইল দূরে তাদের জরিপ জাহাজ পাঠিয়েছিল। বাংলাদেশের কড়া প্রতিবাদের মুখে কয়েকদিন পর জাহাজ সরিয়ে নেয় মিয়ানমার। সেদিনের ঘটনায় মিয়ানমার সীমান্তগুলোতে আমরা দেখেছি, বাংলাদেশ রাইফেলস যথেষ্ট পেশাদারি, যথেষ্ট দৃঢ়তার পরিচয় রেখেছে ঘটনার আগাগোড়া। মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী নাসাকা প্রায় যুদ্ধাবস্থা থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় কিছুটা সাফল্য এসেছে বটে, তবে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সামরিক শক্তির খুব বেশি পার্থক্য নেই। বরং নানা দিক থেকে শক্তিতে বাংলাদেশই এগিয়ে থাকবে।

ভারতের মাথাব্যথা
ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার মতো নিবুর্দ্ধিতা করবে বলে মনে হয় না। প্রথমত গা লাগালাগি প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশে ভারতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ আছে। এই স্বার্থের কারণেই বাংলাদেশের সঙ্গে সংঘাতে যেতে তাদের ভাবতে হবে কমপক্ষে দুবার। দ্বিতীয়ত ভারতকে সারা বছরই বিভিন্ন রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ে তটস্থ থাকতে হয়। তৃতীয়ত দুই বৈরী প্রতিবেশী পাকিস্তান এবং চীনের কথা সবসময়ই ভারতের ভাবনায় থাকে, থাকতে হয় প্রতিনিয়ত।

স্যালুট!
এই অবস্থায়, দেশে যখন নির্বাচনের ডামাডোল, বঙ্গোপসাগরে খালিদ বিন ওয়ালিদ দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের প্রতীক হয়ে। নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ মেঘলাও বঙ্গোপসাগর ধরে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটছে। তাদের জন্য শুভকামনা। স্যালুট!