Showing posts with label contemporary. Show all posts
Showing posts with label contemporary. Show all posts
মার্কিন বেনিয়া কনোকোফিলিপসের হাতে দেশের মূল্যবান গ্যাসসম্পদ অনেকটা বিনামূল্যেই তুলে দেওয়ার ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকাই শুধু নয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার রীতিমতো লুঙ্গি তুলে কনোকোফিলিপসের স্বার্থ রক্ষা করে যাচ্ছে। সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা বাইরে ভাব দেখাচ্ছেন তেল-গ্যাস আন্দোলন খুবই তুচ্ছ একটি ব্যাপার। কিন্তু তাদের বক্তব্য-প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্টই বোঝা যায়, এই আন্দোলনে তারা দারুণ ক্ষিপ্ত। ৩ জুলাইয়ের হরতাল সফল হওয়ার পর তারা এখন আরো বেশি ক্ষিপ্ত। নিচে কয়েকটি প্রতিক্রিয়ার ধরন লক্ষ্য করুন।

অমূল্য স্মরণীয় বাণী!
■ ‘তেল-গ্যাস রক্ষার নামে যারা হরতাল ডেকেছে ওরা কারা? ওরা সব সময় সামরিক শাসকদের পক্ষে কাজ করেছে। পাকিস্তান আমলে এরা বলেছে ভোটের আগে ভাত চাই। এরা বঙ্গবন্ধুর ৬ দফার বিরোধীতা করেছে। এদেশের জনগণের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।’ [উৎস লিংক]
- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম

■ "আপনারা হরতাল ডেকেছেন। কার স্বার্থে, কোন অধিকারে আপনারা হরতাল ডেকেছেন? আপনারা কি জনপ্রতিনিধি? আপনাদের তো জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে না। জনগণের স্বার্থে আমরা গ্যাস-কয়লা অনুসন্ধান করবো, গ্যাস-কয়লা উত্তোলন করবো। আপনারা যা পারেন করুন গিয়ে। দেশের মানুষের ভালোর জন্য যা করার তাই আমরা করবো। আপনারা চিৎকার করতে থাকেন। যুক্তিসঙ্গত কিছু থাকলে নিয়ে আসুন। [উৎস লিংক]
- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম

■ 'কোথাকার কোন মনু মোহাম্মদ এসে তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটির নামে তেল-গ্যাস উত্তোলনের বিরোধিতা করছেন। আসলে আলোচনায় থাকার জন্য মনু মুহাম্মদ-আনু মুহাম্মদরা বিদেশি গুপ্তচর হিসেবে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।' [উৎস লিংক]
- বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী হাছান মাহমুদের বাণী

ধরন দেখে মনে হয় এদের চেয়ে বড়ো দেশপ্রেমিক দেশে আর দ্বিতীয়টি নেই। তবে ইতিহাস বলে, দেশের সম্পদ অন্যের হাতে তুলে দেওয়া এইসব কমিশনখোরের অতীত ভালো নয়। শুনুন আলোচিত সেইসব অডিও টেপ। পাবেন অকপটে বলা অনেক অজানা তথ্য। পড়ুন কয়েকটি অডিও টেপের লিখিত রূপও।

শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সেই স্বীকারোক্তি
পর্ব - এক
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি ■ আকার : ৩.৬৭ মেগাবাইট
পর্ব - দুই
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি ■ আকার : ১৩ মেগাবাইট
পর্ব - তিন
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি ■ আকার : ৪৪ মেগাবাইট
পর্ব - চার
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি ■ আকার : ১৮ মেগাবাইট

লিখিত রূপ (পিডিএফ)
আবদুল জলিল, শেখ সেলিম ও আবদুল আউয়াল মিন্টুর স্বীকারোক্তির লিখিত রূপ
ফাইলের ধরন : পিডিএফ ■ আকার : ১১৬ কিলোবাইট
ওবায়দুল কাদেরের স্বীকারোক্তি
ফাইলের ধরন : টেক্সট/এইচটিএমএল
গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াকিল উদ্দিনের স্বীকারোক্তি
ফাইলের ধরন : টেক্সট/এইচটিএমএল

তখন আর মিনমিনে স্বর নয়
টেন্ডার নিয়ে লুটপাট করুন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যা ইচ্ছে তাই করুন কিংবা হাজার লিমনের পা কেটে নিন - কিছু বলার নেই। বুকের কষ্ট চেপে রেখে দেখেও না দেখার ভান করে অন্য পথে হাঁটবো। কিন্তু প্রশ্নটা যখন দেশের স্বার্থ নিয়ে, দেশের অমূল্য সম্পদ নিয়ে, তখন আর নিরবে চোখের জল ফেলা নয়, বুকের কষ্ট চাপা দেওয়া নয়, মিনমিনে স্বরে রবীন্দ্রগীতিও নয় - সরাসরি চোখে চোখ রেখে বলবো -
দেশের স্বার্থ নিয়ে ছিনিমিনি খেলবি না অমানুষের বাচ্চা! বঙ্গোপসাগর থেকে পাইপলাইন যদি টানা হয়, সেটা দিয়ে দালাল আর কমিশনখোর রপ্তানি হবে, আমার দেশের অমূল্য সম্পদ তেল-গ্যাস যাবে না কিছুতেই।



প্রথম প্রকাশ


স্কুলে ভাষণ দিতে গিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী গতকালও সেই একই শিবের গীত গাইলেন এই বলে- 'একটি কুচক্রী মহল বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করতে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ও মহাজোট সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন থামিয়ে দিতে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।'

সেই একই রেকর্ড...
শুনে আসছি গত দু বছর ধরে। সরকার, বলা ভালো আওয়ামী লীগের বিপক্ষে কেউ অবস্থান নিলেই 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতেই' কিংবা 'ধারাবাহিক উন্নয়ন থামিয়ে দিতেই এই অপচেষ্টা' বলে হুঙ্কার ছাড়েন সরকারের প্রধান থেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরাও। প্রতিমন্ত্রীর দেখছি অতো সাহস নেই। আড়িয়ল বিলের দিকে যেতে পারছেন না। উস্কানিমূলক বক্তব্য-টক্তব্য দিয়ে ঘুরে আসছেন আশেপাশের এলাকা থেকে। তার আগেই আড়িয়ল বিলে মানুষের পিঠ ঠেকে গেছে দেয়ালে। নারীরা ঝাড়ু নিয়ে তৈরি, তরুণদের মাথায় কাফনের কাপড় আর হাতে লাঠি, এমনকি যে বৃদ্ধার চলার শক্তিও নেই তিনিও দা হাতে পাহারা দিচ্ছেন নিজেদের ভূমিটুকু। এদের কারোরই রাজনৈতিক পরিচয় নেই, বেশিরভাগই নির্দলীয়। এই লোকগুলোর সামনে দাঁড়ানোর সাহস নেই সরকারের। তারা পারছে শুধু নিরীহ মানুষগুলোর ওপর পুলিশ লেলিয়ে দিতে, নিরীহ মানুষগুলোকে মামলার পর মামলা দিয়ে হয়রানি করতে। সবমিলিয়ে সরকারের অবস্থান জনতার বিপক্ষে, জনমতের বিরুদ্ধে। আচরণ পুরো মাফিয়ার মতো।

অথচ ভালো যুক্তি নেই একটিও
দেখবেন, বিমানবন্দর স্থাপনের পক্ষে সরকারের হাতে ভালো যুক্তিও নেই। বিমানসচিব যুক্তি দেখিয়েছেন, ঢাকায় যেহেতু একটিমাত্র রানওয়ে, ফলে কোনো বিমান দুর্ঘটনায় পড়লে ভবিষ্যতে সমস্যা হবে। আর 'সমস্যা' হবে বলে ঢাকা বিমানবন্দরের পাশেই দ্বিতীয় আরেকটি রানওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ না নিয়ে ২৫ হাজার একর ভূমি নষ্ট করে ১০ লাখ মানুষকে কর্মহীন করে দিয়ে আরেকটি বিমানবন্দর বানাতে হবে, তাও ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে? এমন তো নয় যে, ঢাকা বিমানবন্দরের পাশে জায়গা নেই। জায়গা যথেষ্টই আছে, নইলে পাশের ১৩০ একর জমি শ্রেফ লুটেপুটে খাওয়ার জন্য কিভাবে তুলে দেওয়া হল নামসর্বস্ব এক প্রতিষ্ঠানের কাছে? আর রানওয়ের অজুহাত যদি জীবিত রাখাও হয়, তাহলে উদাহরণ হিসেবে জানানো যায়, জাপানের নারিতা বিমানবন্দরেও রানওয়ে একটি। নারিতার তুলনায় ঢাকা বিমানবন্দর নিতান্তই মফস্বলস্থানীয়। ফলে বোঝা যায়, এটা কোনো ভালো কাজ নয়, বরং জনগণের অর্থের অপব্যবহার। এদিকে আমরা দেখছি, বিমানবন্দরই শুধু নয় নিরীহ কৃষককে আরো বিপদে ফেলে বিশাল 'বঙ্গবন্ধু সিটি' করারও উদ্যোগ আছে সরকারের।

যেখানে মানুষের চেয়ে পরিবার বড়ো
আড়িয়ল বিলে বিমানবন্দর স্থাপনের এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক একটি ইচ্ছা - তাতে কোনোই সন্দেহ নেই। শুধু পিতার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য শেখ হাসিনা ও তার সরকার কয়েক শত বছরের ঐতিহ্যবাহী জলাশয় ও আড়িয়ল বিলকে বিপন্ন করতে চাইছে। বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর আর বঙ্গবন্ধু সিটি যদি বাস্তবায়িত হয়েই যায়, হাজার হাজার মানুষ যে নিজেদের ভূমি থেকে উচ্ছেদের শিকার হবে তা শুধু নয়, ঢাকা ও মুন্সিগঞ্জ জেলার তিন উপজেলায় বিস্তৃত মধ্যাঞ্চলের সবচেয়ে বড় জলাধারটির প্রায় পুরোটা শেষ হয়ে যাবে। ঢাকার আশপাশে বন্যার প্রকোপও আরো বাড়বে। সরকার সেসব নিয়ে ভাবছে না।
শীতটা কেটে গেলেই আবার নামবে ভ্যাপসা গরম। বাড়বে বিদ্যুতের চাহিদা। উৎপাদন যেহেতু মোট চাহিদার ভগ্নাংশের সমপরিমাণ, সুতরাং জনজীবনে শীঘ্রই নেমে আসবে সেই পুরনো হাহাকার। সরকারের নজর সেদিকে নেই। বিদ্যুতের টাওয়ারের নাম তো আর বঙ্গবন্ধুর নামে করা যায় না, শোভনও নয়! সুতরাং বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয়, বানাও বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর, বানাও ফজিলাতুন্নেসা নৌবন্দর...

জনতার বিপক্ষে জনমতের বিরুদ্ধে
বঙ্গবন্ধুকে আমরা শ্রদ্ধা করি, বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়ের নায়ক ছিলেন তিনি। কিন্তু গরিব মানুষের ভিটেবাড়ি কেড়ে নিয়ে যে বঙ্গবন্ধুর 'নাম প্রতিষ্ঠা'র উদ্যোগ নিতে হয়, সেই বঙ্গবন্ধুকে আমরা চিনি না, সেই বঙ্গবন্ধু আমাদের লোক নন! যে সরকার জনতার বিপক্ষে জনমতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, সেই সরকারও আমাদের নয়।

জীবন যায়, যাক দু একটা, তবু রুখে দিন নামকরণের জন্য মরিয়া এই ম্যানিয়াকদের। 


দেশে সমস্যার শেষ নেই। খাতার পর খাতা লিখে ভরে ফেলা যাবে, তবু তালিকা শেষ হবে না। তার মধ্যে জনসংখ্যা, খাদ্য, বাসস্থান কিংবা যানজটের মতো নাগরিক সমস্যাগুলো আপাতত পাশ কাটিয়ে রাখছি। আজ ব্লগারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি সাম্প্রতিককালের গুরুত্বপূর্ণ চারটি জাতীয় সমস্যার দিকে। সুখের বিষয়, তার মধ্যে অন্তত দুটি সমস্যার সমাধান সাম্প্রতিক সময়ে আমরা পেয়েছি মূলত সরকারের ত্বরিৎ উদ্যোগে।

১.
সমস্যা : প্রথম রাকাতের ৩ তাকবির ছাড়া নামাজ আদায় সংক্রান্ত জটিলতা।
মূল ঘটনা : ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ৬ তাকবিরের সঙ্গে আদায় করতে হয়, যা বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব মাওলানা সালাউদ্দিন ভুলে যান। তিনি প্রথম রাকাতের ৩ তাকবির ছাড়াই নামাজ শুরু করেন।
প্রতিক্রিয়া : ওহ্ আল্লাহ! মুসলিম বিশ্ব এই ধরনের ঘটনা অতীতে প্রত্যক্ষ করেনি। বায়তুল মোকাররমের মুসল্লি সমাজ ন্যাক্কারজনক এ ঘটনায় ঈদের জামাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিজ্ঞ আলেম সমাজও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে খতিব সালাউদ্দিনের অপসারণ দাবি করেন। তবে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের হুমকির পরই বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বলেছেন, 'প্রথম রাকাতে ৩ তাকবির ছাড়া নামাজ আদায়ের ঘটনা আমাদের স্তম্ভিত করেছে। এই ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে বাধাগ্রস্থ করবে।' হোয়াইট হাউস মুখপাত্র ক্রিস্টোফার খাঙ্ক্ ইর্পো বায়তুল মোকাররমের এই ঘটনায় সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

২.
সমস্যা : বঙ্গবন্ধুর অধিকার শ্রদ্ধার সঙ্গে পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
সমাধান : সেশনজটে পড়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন নষ্ট হোক কিংবা র‌্যাংকিংয়ে পাঁচ হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে 'প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের' স্থান না হোক- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার মূল দায়িত্বসমূহ ভালোভাবেই পালন করে চলেছে। উদাহরণস্বরূপ গত ১৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় সর্বসম্মতভাবে বঙ্গবন্ধুর ছাত্রত্ব বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ নিয়ে পুরো দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ছিল গভীর উৎকন্ঠায়। ওইদিন দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে আদেশ প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে দেশবাসীর মনে স্বস্তি নেমে আসে। এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, 'আমরা সকলেই বঙ্গবন্ধুর অধিকার শ্রদ্ধার সঙ্গে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাই ।' উপসংহার : এভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা কার্যক্রম নিয়মিত জোরদার করা গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে- এ বলাই বাহূল্য!

৩.
সমস্যা : দেশে দেশে ক্ষমা চাহিয়া পত্র পাঠানোয় উদ্বেগজনক দীর্ঘসূত্রতা।
সম্ভাব্য সমাধান : সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি "ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশ অধিদপ্তর" গঠনের সিদ্ধান্ত গভীরভাবে বিবেচনা করতে পারে। এই অধিদপ্তর বিশ্বের দুর্বলতম দেশগুলোকে প্রতি তিন মাস অন্তর মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকার জন্য একবার করে ক্ষমা/দুঃখ প্রকাশ করার প্রস্তাব পাঠাবে। প্রাথমিকভাবে তালিকার শীর্ষে রাখা যেতে পারে আফ্রিকার মোজাম্বিক, সোমালিয়া এবং এশিয়ার ভূটান ও শ্রীলংকাকে। অথবা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সম্ভাব্য দেশের তালিকা চেয়ে এইরকম রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে।
বিশেষ সতর্কতা : মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে বিরোধিতাকারী ক্ষমতাধর রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সৌদি আরব এবং বিশেষভাবে পাকিস্তানকে এই তালিকার বাইরে রাখার নীতি কঠোরভাবে পূর্বের মতো বহাল থাকবে।

৪.
সমস্যা : এটা খুবই দুঃখজনক যে, স্বাধীনতার ৩৯ বছরেও মুক্তিযুদ্ধের দলিলাদি সমুন্নত রাখা সম্ভব হয়নি। অতীতে এজন্য অনেকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে দায়ী করেছেন, কেউ কেউ আবার সরাসরি আঙ্গুল তুলেছেন ক্ষতিকর পোকা ও রোগবালাই দমন বিভাগের দিকে।
সমাধান : দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে দলিলাদি সমুন্নত রাখার কাজটি সম্পন্ন হল গত পরশু। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের দুই পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ আবু নাসের, আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও শেখ ফজলুল হক মণিসহ ৫ মুক্তিযোদ্ধাকে সনদ দেওয়ার মাধ্যমে সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পাদিত হল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ প্রদান করে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব উজ্জ্বল বিকাশ দত্ত সম্প্রতি বাসসকে বলেছেন, 'বীরপ্রতীক তারামন বিবি, বীরপ্রতীক লালুর সন্তান কিংবা ফজলুদের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে অবশ্য চিন্তার কিছু নেই। এইসব ছাইপাশ দেখার যথেষ্ট সময় বাংলাদেশের সামনে আছে!


প্রথম প্রকাশ


বাংলাদেশ বিমান দুর্ঘটনায় পড়েছে- এটা এতোই মামুলি ব্যাপার যে, কেউই সাধারণত এইসব খবরে বিচলিত হন না। যেন ওটাই হওয়ার কথা, বরং না হওয়াটাই উদ্বেগের বিষয়! কোথাও কৌতূহল যদি কিছু থাকে, সেটা দুর্ঘটনার ধরনে। এর আগে আস্ত বিমান রানওয়ের বদলে খালে-বিলে-খাদে আছড়ে পড়ার দৃশ্য আমরা দেখেছি। গতকালের ঘটনা আরো মজাদার। ৩০৫ জন যাত্রী নিয়ে ওমানের মাসকট থেকে আসা একটি বিমানের আস্ত পাখা খসে পড়েছে চট্টগ্রামের আকাশে। চট্টগ্রামের পটিয়ায় সেই পাখা তিন টুকরো হয়ে ভূপাতিত হয়।

ভাবতে ভালো লাগে, বাংলাদেশ বিমান খালে-বিলে আছড়ে পড়লেও, আকাশে এমনকি পাখা খসে গেলেও প্রাণহানির ঘটনা তেমন একটা নেই। যাত্রীগুলো কিভাবে কিভাবে বেঁচে যান। গিনেস বুক অফ রেকর্ডের স্বীকৃতির অপেক্ষা করে লাভ নেই। আমরা এখনই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে, বাংলাদেশ বিমানের যাত্রীরাই পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী মানুষ!

ছবিটি বড়ো আকারে দেখুন এইখানে ক্লিক করে
ছবিতে ব্যবহৃত বিমানের শ্লোগানটি পথ হারা পাখির সৌজন্যে।

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bangladesh bimanbangladesh airlinesbiman ;

প্রথম প্রকাশ

প্রবাস থেকে অনেক পত্রিকাই বের হয়- সাপ্তাহিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক। এর মধ্যে বিশেষভাবে নজর কাড়ে কানাডা থেকে প্রকাশিত বাংলা পত্রিকা 'নতুন দেশ'। মূল কারণ এর পেশাদারিত্ব। নতুন দেশের অনেক খবর বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিকগুলোতে স্থান পেতে দেখেছি বিভিন্ন সময়ে। পত্রিকাটির নেপথ্যে আছেন যে দুজন- সেরীন ফেরদৌস ও শওগাত আলী সাগর, তাদের চিনি বহুদিন ধরে। কানাডা প্রবাসী হওয়ার আগে দুজনেই দীর্ঘকাল প্রথম আলোতে কর্মরত ছিলেন।

নতুন দেশের চলতি সংখ্যায় শীর্ষ নিউজটি পড়ে আমি স্তম্ভিত হয়েছি। সেরীন ফেরদৌসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটিতে সবিস্তারে উঠে এসেছে কিভাবে বাংলাদেশী কবিদের অভিনব প্রতারণার ফাঁদে আটকা পড়ছেন প্রবাসী নারীরা। দীর্ঘ প্রতিবেদনে সাহিত্য জগতের অনাবিস্কৃত এক অন্ধকার দিক তিনি উন্মোচন করেছেন।

সেরীন ফেরদৌস লিখেছেন- 'ফেসবুকে বন্ধু বানিয়ে রোমান্টিক কবিতায় প্রলুব্ধ করা হয়েছে প্রবাসী নারীদের। কিছুদিনের মধ্যেই তাঁরা পরিণত হয়েছেন বন্ধু বা প্রেমিকে। তারপর শুরু হয়েছে নানা অজুহাতে টাকা-পয়সা, অন্যান্য দামী সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়া । বেশ কিছু খসিয়ে নেবার পর এরা বন্ধু বা প্রেমিকা পাল্টান, টার্গেট করেন অন্যদের। প্রবাসী বাংলাদেশী নারী, বিশেষ করে চাকরিজীবী নারীরা এদের প্রধান টার্গেট, তবে গৃহবধুরাও এদের শিকার।'

প্রতিবেদক অনুসন্ধান চালিয়ে দেখেছেন, 'প্রতারণার শিকার প্রবাসী নারীরা দামি উপহারসামগ্রী ( ভিডিও ক্যামেরা, ডিজিটাল ক্যামেরা, গেরস্তালী সামগ্রীর মূল্য, মোবাইল ফোন ইত্যাদি) দেওয়া ছাড়াও নিয়মিত নগদ টাকা পাঠিয়েছে। একপর্যায়ে টাকা পাঠাতে কেউ কেউ অপারগতা প্রকাশ করলে, তাদের পাঠানো উপহার সামগ্রী, মেইল এবং ফেসবুক তথ্য তাদের স্বামী ও অন্যান্যদের জানিয়ে দেবার ভয় দেখানো হয়েছে। এদের মধ্যে দু’একজন দেশে বেড়াতে গেলে গোপনে ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। ঢাকায় গিয়ে থানা-পুলিশও করতে হয়েছে কাউকে কাউকে। তবে সামাজিকভাবে হেয় হবার ভয়ে এবং সংসারে অশান্তির আশংকায় প্রতারিত এসব নারীরা কোথাও মুখ না খুললেও মুষড়ে পড়েছেন এবং কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কানাডার টরন্টো, নিউইয়র্ক, অস্ট্রিয়া, সিডনি এবং মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত বেশ কয়েকজন নারী ‘ঢাকাই কবি’দের হাতে প্রতারিত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন নতুনদেশের কাছে।'

কাগুজে অভিযোগ নয়, সেরীন ফেরদৌস প্রমাণ হাতে রেখেই জানাচ্ছেন, ইতিমধ্যে এই কবিচক্রটির পাঁচ সদস্যকে সনাক্ত করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন একটিই- ঢাকার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে খ্যাতিমান এই পাঁচ কবির পরিচয় কী? এরা কারা?

বিস্তারিত পড়ুন এখানে


প্রথম প্রকাশ

একটি মাত্র ছবি গত রাত থেকে আমার ভেতরটা কেমন যেন ওলটপালট করে দিল। বাঁচার আশায় আতঙ্কিত অবোধ শিশুটি লোকটার লুঙ্গি টেনে ধরেছে- আজ সারাদিন ওই ছবিটাই শুধু চোখের সামনে ভাসছে । কতোইবা বয়স শিশুটির? এক-দেড় হবে হয়তো। এই বয়সী একটা শিশু যখন শূন্যে ঝুলছিল সজোরে, কতোটা আতঙ্কিত হয়েছিল সে? তার পেটের ওপর দুটো পা, আসলে দুটো পাহাড় যখন চেপে বসেছিল, কেমন লাগছিল শিশুটির?

এই বয়সে যে দৃশ্যের সঙ্গে সে পরিচিত হয়েছে, আজীবন তাকে সেই ভীতি তাড়িয়ে বেড়াবে নিশ্চিত। পৃথিবীর কোনো মনোচিকিৎসকের পক্ষে সম্ভব নয়- তার সেই ভীতি সারিয়ে তুলবে।

আমার শুধু মনে হচ্ছে, আজ সকালে গ্রেপ্তার হওয়া ওই ভণ্ডপীরকে ১০০ তলা বিল্ডিংয়ের ওপর থেকে যদি ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারতাম! সবকিছুই আসলে বিস্বাদ লাগছে। টের পাই, বুকের কোথাও কোনো এক কোণে অক্ষম কেউ একজন কাঁদছে সঙ্গোপনে।


প্রথম প্রকাশ

সন্ধ্যায় গলি দিয়ে রিকশাযোগে যাচ্ছিলাম। পথে তখন গার্মেন্টস কর্মীদের মিছিল। কারখানায় সারাদিন শ্রম দিয়ে ঘরে ফিরছিল ওরা। নারী কর্মীগুলোকে দেখে আমার রিকশাচালক হঠাৎই যেন গায়ক হয়ে উঠল। ঠোঁটে তার সদ্য হিট হওয়া কোনো বাংলা সিনেমার গান। চলতে চলতে হঠাৎ লক্ষ্য করলাম, রিকশাচালকের ডান হাতটি হ্যাণ্ডেল থেকে সরে গেল আচমকা। সেই হাত, আধো অন্ধকারেও স্পষ্ট দেখলাম, লাজুক এক নারী কর্মীর বুকের ওপর গিয়ে থেমেছে! হতচকিত মেয়েটি মাথা বাঁকিয়ে তাকালেন একনজর, চোখেমুখে ভয়। কয়েক সেকেন্ড পর হাত ছাড়িয়ে মাথা নিচু করে আবার পথ চলতে শুরু করলেন। যেন এই অপমান তাদের নিত্যদিনের পাওনা, যেন কোনো কিছুই ঘটেনি। কিন্তু ঘটেছে তো বটেই! নতমস্তকে হেঁটে যাওয়া মেয়েটি দেখলো না, ততোক্ষণে রিকশাচালকের শার্টটা পরিষ্কার দু ভাগ! আজ মনে পড়ছে, সেদিন এক অসুর ভর করেছিল আমার শরীরে। এ হল নিচুতলার গল্প।

উঁচুতলার গল্প এবার
■ হাসিব আজিজ উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে কয়েকদিন আগে তাকে ঢাকায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির কাছে হাসিবের দ্বিতীয় স্ত্রী সরাসরি অভিযোগ করেছেন, সাত বছর আগে তাকে বিয়ে করার পর থেকেই হাসিব আজিজ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। প্রতিবাদ করলে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন। এর আগে ২০০২ সালে হাসিব তাকে কাজের লোক সাজিয়ে লন্ডন নিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শী ও পাঠকের প্রতিক্রিয়া থেকে জানা যাচ্ছে, পররাষ্ট্র দপ্তরের এই ক্যাডারের পোস্টিং যে দেশেই হতো, সেখানেই তিনি আদমব্যবসা খুলে বসতেন। এই লেখায় সেই প্রসঙ্গ গৌণ অবশ্য। মূখ্য হচ্ছে, যে দেশেই তিনি যেতেন, সেই দেশেই তিনি একটি করে 'বিয়ে' করতেন। সর্বশেষ মরক্কোতে তার এই ধরনের একজন স্ত্রীর খোঁজ পাওয়া গেছে।
■ গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আবদুল্লাহ আল মামুনকে বাধ্যতামূলক ছুটি দেওয়া হয়েছে বিভাগের এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে। তার কয়েকদিন পরই জাহাঙ্গীর নগরে স্বয়ং এক শিক্ষিকা বিভাগের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনলেন।

একসঙ্গে মাত্র দুদিনের কিছু সংবাদ
জুড়িতে এক নারীর সম্ভ্রমের মূল্য ৩২ হাজার টাকা!
ভিকারুন নিসার ছাত্রী অপহরণের চেষ্টা
মোহনপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও চিত্র ধারণ!
মঠবাড়িয়ায় আপন ভাতিজিকে হত্যার অভিযোগে চাচা গ্রেফতার
হবিগঞ্জে যৌন নিপিড়নকারী শিক্ষক মইন সাময়িক বরখাস্ত
জাবি শিক্ষিকার অভিযোগ গ্রহণ করে যৌননিপীড়ন সেলে পাঠালেন ভিসি
ঢাবিতে বৈশাখের অনুষ্ঠানে ৩০ ছাত্রী লাঞ্ছিত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর আত্মহত্যা
অভয়নগরে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার

যেখানে সবাই এক চেহারার
মাত্র দুদিনে যৌন উন্মত্ততার এতোগুলো ঘটনা পড়া আমাদের অনেকের জন্য মামুলি ব্যাপার হয়তো, কিন্তু অনেকের জন্যই বিষয়টা নিশ্চিৎ পীড়াদায়ক। মনের ওপর এক ধরনের চাপ তৈরি করে। তবে এটা ঠিক যে, আমরা বোধহয় ক্রমশ যৌন উন্মাদ হতে চলেছি। সমাজের উঁচুতলা থেকে নিচতলা, নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত, কামলা থেকে আমলা- সবখানে, সবক্ষেত্রেই যেন অস্বাভাবিক এক দণ্ডঘটিত সমস্যা ছড়িয়ে পড়ছে, যেখানে রাষ্ট্রদূত থেকে রিকশাওয়ালা সবাই এক চেহারার, যমজ যেন!

ঘটনা হয়তো দিনাজপুর কি রংপুরের, শিকার হয়তো ২০০ কি ৪০০ মাইল দূরের কোনো নারী, জাবি শিক্ষিকা কিংবা অভয়নগরের স্কুল ছাত্রী। অনায়াসে এই সবকিছু থেকে গা বাঁচিয়ে চলা যায় নিশ্চয়ই। চোখ বুঁজে থাকলেই হয়। চলতি পথে অন্য দিকে তাকিয়ে থাকলেই হয়। কিন্তু চাপ পড়ে ঠিকই। শেষপর্যন্ত এই সবকিছু কোনো না কোনো সময় মনের ওপর এক ধরনের চাপ ফেলেই। হ্যাঁ!


প্রথম প্রকাশ

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের আলোচিত সেই ভণ্ডপীর হারামজাদ হোসেন তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হয়েছে- এটা পুরনো খবর। এখন আনন্দের খবরগুলো বলি একেক করে-

১. সিরাজদিখান থানায় দুটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলার বাদী নির্যাতিত সেই শিশু দুটির মা। প্রক্রিয়া চলছে আরও একটি প্রতারণা মামলা দায়েরের।

২. জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। জেলা সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে চিকিৎসার নামে নির্যাতিত রোগীদের খোঁজখবর নিয়েছেন। আমজাদের নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন সিভিল সার্জন।

৩. পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আমজাদ দোষ স্বীকার করে বলেছে, ‘আমার ভুল হয়েছে। অভাবের কারণে গ্রামের কিছু লোকের প্ররোচনায় এই পেশায় নেমেছি। আমার এই কর্মের কারণে সাজা হওয়া উচিত, যাতে আর কেউ এই কাজ না করে।’

সবচেয়ে আনন্দের খবরটি হচ্ছে-
৪. আমজাদ শিশুদের যেভাবে ‘চিকিৎসা’ দিতো, তাকেও গ্রেপ্তারের পর মাটিতে ফেলে সেভাবে কিছু ‘নমুনা চিকিৎসা’ দেওয়া হয়েছে আজ দুপুর নাগাদ। সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান জানান, শিশুদের যেভাবে মাটিতে ফেলা হয়েছিল, তাকেও সেভাবে মাটিতে ফেলে দেখানো হয়েছে মাত্র।
মতিউর রহমান, আপনি আমাদের অভিনন্দন গ্রহণ করুন।

দুঃখের খবর একটিই-
সকালে ভন্ডপীর আমজাদের বাড়িতে হানা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই সময় রেবের একটি দলও সেখানে হাজির হয়। অথচ! :(

যা হোক, এর মধ্যে অবশ্য রেব-১১-এর এএসপি মিলন রহমান জানাচ্ছেন, আমজাদের বাকি সহযোগীদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
রেব যেহেতু, আশা করার অনেক কিছুই আছে। ওহে মিলন ভাই, একটু দেইখেন বস। গ্রেপ্তার-টেপ্তারের দরকার কি খামোখা! ;)


প্রথম প্রকাশ

কানাডা থেকে প্রকাশিত নতুন দেশ পত্রিকা এর আগে সবিস্তারে জানিয়েছিল, বাংলাদেশী কবিদের অভিনব প্রতারণার ফাঁদে কিভাবে আটকা পড়ছেন প্রবাসী নারীরা। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ব্লগ, ফেসবুক ছাড়াও ঢাকার সাহিত্য অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। আজ প্রকাশিত হল সেরীন ফেরদৌসের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব
কবিদের প্রতারণার ফাঁদে প্রবাসী নারীরা : কে এই
প্রতিবেদনে বেশ কিছু কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য পাওয়া গেছে। সেরীন তার অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য থেকে জানাচ্ছেন, '২০০৯ সালের শেষের দিকে একইসঙ্গে কানাডা, অস্ট্রেলিয়াএবং যুক্তরাষ্ট্রের তিন শহরের তিনজন নারীর সঙ্গেই একই মাত্রায় সম্পর্ক চালিয়ে গেছে এবং নিয়মিত দামি উপহার এবং টাকা পয়সা নিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, গত ২রা এপ্রিল ২০১০ রাতে রোকন মাথা ব্যথার কথা বলে একই সময়ে তিন শহরের তিনজনের কাছ থেকে সহানুভূতি আদায় ক

প্রথম প্রকাশ

কানাডা থেকে প্রকাশিত নতুনদেশে ঢাকার পাঁচ কবির প্রতারণার ঘটনা নিয়ে পর পর দু সংখ্যায় কবির প্রতারণার ফাঁদে প্রবাসী নারী এবং একজন রোকন সাকুরের প্রতারণার চিত্র শিরোনামে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যা ব্যাপক আলোড়ন তোলে বিভিন্ন মহলে। দেশে-বিদেশে শত শত ব্লগার ও ফেসবুকজীবী এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আবার অনেকে প্রতারক কবিদের পক্ষ নিয়ে ফেসবুকে প্রচারণা চালানোর চেষ্টাও করে। নতুন দেশের চলতি সংখ্যায় নতুন কোনো কবির বৃত্তান্ত প্রকাশিত না হলেও চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

নতুনদেশের সাম্প্রতিক রিপোর্টে জানানো হচ্ছে- "কবিতায় প্রলুব্ধ করে প্রবাসী নারীদের প্রতারণা করা নিয়ে নতুনদেশ ডটকম এ প্রকাশিত প্রতিবেদনটি এখন ঢাকার গোয়েন্দাদের হাতে। সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাইবার অপরাধ দমন সেলের পক্ষ থেকে রিপোর্টটির ব্যাপারে নতুনদেশের কাছে খোঁজখবর নেওয়া হয় এবং তারা এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য- চায়।"

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, "সাইবার প্রতারণার ক্ষেত্রে সংঘবদ্ধ বড় একটি অপরাধী চক্রকে ধরতে সরকারের গোয়েন্দারা কাজ করছেন। কবি নামধারীদের প্রতারণার এই তথ্য-উপাত্ত তাদের অনুসন্ধানে সহায়তা করবে বলে তারা মনে করছেন।"

এই ধরনের ব্যতিক্রমী ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থার জড়িত হওয়ার নজির এর আগে সম্ভবত নেই। সাইবার ক্রাইম দমনে গোয়েন্দা সংস্থার দক্ষতা আছে কি নেই- তাও আমাদের অজানা। ঘটনা কোনদিকে এগোচ্ছে- সেটাই এখন দেখার বিষয়। গোয়েন্দা সংস্থার জালে ঢাকার কোন্ কোন্ কবি আটকা পড়ছে- সেটাই এখন কৌতূহলের বিষয়।

সংযুক্তি
এরা কবি...


প্রথম প্রকাশ

দেশে এখন জনসংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বই লেখকের সংখ্যা। বাংলা ব্লগ চালু হওয়ার পর অনেকে আবার শুধু ব্লগার থাকতে চাইছেন না, তারাও লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে মরিয়া হয়ে উঠছেন। আর ওদিকে বাংলা একাডেমির বইমেলার দিকে তাকালে দেখি, লেখকের ছড়াছড়ি রীতিমতো! মুড়ি-মুড়কির মতো জন্ম নিচ্ছে লেখক। অনেকেই আবার বিরল প্রতিভার অধিকারী - ডান হাতে লিখছেন প্রেমের উপন্যাস, বাম হাতে জীবনঘনিষ্ঠ গল্প, ডান পায়ে রম্যরচনা, বাম পায়ে কবিতা, এমনকি কনুই দিয়ে লিখছেন সায়েন্স ফিকশনও। এই পর্যন্ত হলে ব্যাপারটা খারাপ কিছু নয়। কিন্তু নিজেদের বই বিক্রির জন্য ছোট-বড়ো-মাঝারি-জনপ্রিয় সব লেখকই পুরো ফেব্রুয়ারিজুড়ে এমন সব কাণ্ডকারখানা করেন, কাছ থেকে দেখে-টেখে শ্রেফ ঘেন্না লাগে!

বড়োদের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদ এবং তার প্রকাশক অন্যপ্রকাশের মাযহারুল ইসলাম এক্ষেত্রে বেশ কয়েক বছর ধরে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। গতবার আমরা দেখেছি, বইমেলা আর নুহাশ পল্লীতে হিমুরূপী ভাড়াটে তরুণদের কাণ্ডকারখানা। বাংলালিংক আবার টাকা দিয়ে সেটা স্পন্সর করেছে। প্রচারণার এমনই মরিয়া ধরন, সুযোগ ও সাধ্য থাকলে এরা সম্ভবত আধা নগ্ন মডেল ভাড়া করে বইয়ের প্রচারণা চালাতেন। অন্যদিকে মাঝারিগোছের লেখকরাও বইমেলায় নিজেদের বই বিক্রির জন্য যা কাণ্ডকারখানা করেন, সত্যিই লজ্জাজনক। নিজেদের বইয়ের প্রচারণা বা বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য তাদের কায়দা-কৌশলের শেষ নেই যেন। বিজ্ঞাপন শুধু প্রকাশকরাই দিচ্ছেন তা নয়, জনপ্রিয় লেখকরা নিজেদের গরজেও বিভিন্ন প্রকাশনীর বই একত্র করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ছাপছেন। সেসব বিজ্ঞাপনে প্রায়ই ভোজবাজির মতো "তিন দিনে তৃতীয় মুদ্রণ" প্রসবিত হচ্ছে। এবং অবধারিতভাবে তাদের প্রতিটি উপন্যাস আর গল্পই "আলোড়ন সৃষ্টিকারী!"

ছোট লেখকদের অবস্থা রীতিমতো ভয়াবহ। অনেককে দেখছি, দিনরাত স্টলের সামনে পড়ে থাকছেন খদ্দের ধরার আশায়। বই পড়িয়েই ছাড়বেন- এমন এক প্রতিজ্ঞা নিয়ে তারা মেলাঙ্গনে মাটি কামড়ে পড়ে থাকছেন। নিজেদের বই বিক্রির জন্য এদের অনেকে পায়ে ধরাটাই শুধু বাকি রাখেন। এদের প্রচার কৌশল আবার ভিন্ন। বইমেলা এলেই তাদের অনেকে হামলে পড়েন ফেসবুক, ব্লগ আর বিভিন্ন ফোরামে। ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ওয়াল, ম্যাসেজ থেকে স্ট্যাটাস - সবখানেই নিজেদের বইয়ের বিজ্ঞাপন, ইনিয়ে-বিনিয়ে, আকারে-ইঙ্গিতে, কখনোবা খোলাখুলিই। রীতিমতো ক্ষ্যাপা কুকুরের অবস্থা। গত বছর থেকে ব্লগে আরেকটি ট্রেণ্ড তৈরি হয়েছে - লোক ভাড়া করে 'আলোচনা' লেখানো। আলোচনা তো নয় ঠিক, ভালোচনা বলাই ভালো। আমাদের সুহৃদ রাসেল (........) এ ধারার পথিকৃৎ। আবার আলোচনার ধার না ধেরে তমুকের বই কিনলাম শীর্ষক মিনি পোস্টও দেখা যাচ্ছে এবার।

বলাবাহূল্য, বইমেলায় প্রকাশিত দুই-তৃতীয়াংশ বই-ই শ্রেফ সময়ের নিদারুণ অপচয়। কাগজের দামের দিকে মানবিক দৃষ্টি রেখে এগুলোকে 'ফর্মা' হয়ে ওঠে, কিন্তু 'বই' কিছুতেই নয়। এমনিতে বই নিয়ে যতো মহতী কথাবার্তা, স্মরণীয় বাণী আছে, সবই কিন্তু বইলেখকদের লেখা। ফলে মাঝে মাঝে সেগুলো পুনর্বিবেচনা করে দেখা ভালো!

সংযুক্তি
বই বিক্রি হচ্ছে নতুন ফর্মূলায়

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ekushey book fairekushey boi melaboi melabook fairhumayun ahmed ;
প্রথম প্রকাশ

অফিস থেকে বেরুবো বেরুবো ভাবছি। তখনই আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ফোন। পল্টন থানায় তার কী যেন কাজ। সঙ্গে যাওয়ার কাতর অনুরোধ করেই ক্ষান্ত নয় বন্ধু, আধঘন্টার মাথায় গাড়িসমেত এসে হাজির, আমার অফিসের নিচে। অগত্যা যেতেই হল। থানা, সেটা যেখানেই অবস্থিত হোক না কেন, যাওয়াটা খুব সুখকর কাজ নয়। এমনিতে অনিয়মিত পর্যটক হয়েও বলে দিতে পারি, ঢাকার থানাগুলোর চেহারা খানিকটা বদলেছে, তবে খুব নজর কাড়ার মতো নয়। প্রত্যাশিত শ্রী খুঁজে পেলাম না যথারীতি পল্টনেও। যাওয়া ঢাকার ব্লগার মাত্রেই জানেন, রাজধানীর সবচেয়ে অপরাধপ্রবণ থানাগুলোর মধ্যে শীর্ষে আছে এই পল্টন থানা।

বন্ধুর উদ্দেশ্য তার পুরনো মামলা হলেও আমার কৌতূহল ছিল অন্যত্র। এর আগে শুনেছিলাম, ঢাকার ৪০টি থানায় পুলিশের কাজ পর্যবেক্ষণের জন্য ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কর্তব্যরত কর্মকতাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার কক্ষ তো বটেই, এমনকি থানায় ঢোকার পথেও সেই ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে জানি। কথা ছিল, থানাগুলো থেকে ধারণ করা চিত্র ডিএমপি কমিশনার স্বয়ং দেখবেন। কিন্তু আস্ত ক্যামেরা-ট্যামেরা দূরের কথা, পল্টন থানায় সেরকম কিছুর লক্ষণই খুঁজে পেলাম না। শুনেছি, এর আগে দুয়েকটি থানায় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও কিছুদিনের মধ্যেই সেগুলোতে নাকি অনিবার্যভাবে 'যান্ত্রিক ত্রুটি' দেখা দিয়েছে। এ দিকটা ভেবে ক্যামেরা সংক্রান্ত যাবতীয় জিজ্ঞাসা মনেই চাপা দিয়ে রাখলাম। কাউকে জিজ্ঞেস করে লজ্জা দিতে বা নিজে লজ্জা পেতেও ইচ্ছে হল না খুব একটা।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাকি বিস্তর ব্যস্ত। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। সেই ব্যস্ততার তোড়ে তার সহকারী নেইমকার্ড নিয়ে যেতে পর্যন্ত রাজি হল না। অগত্যা থানার ভেতরে একজন উপ-পরিদর্শকের সঙ্গে আলাপ জমানোর চেষ্টা চলল। আলাপ বলা ঠিক হবে না, মারেফতি লাইনের 'এই দেশের কী হবে গো' গোছের আর্তি কিংবা আর্তনাদই মিনিটদশেক ধরে অনুরণিত হল। এই করে করে যখন বিরক্তির প্রায় শেষ সীমায়, তখনই আশার প্রদীপ যেন দপ করে জ্বলে উঠল। টেবিলের ওপাশে হাতকড়া পরা এক লোক। হাত তুলে থানার সেই উপ-পরিদর্শক বৃত্তান্ত পেশ করলেন গর্বিত ভঙ্গিতে। এক লাখ টাকার চেক ঘষেমেজে এক কোটি টাকা করার মামলা!

ঘটনা তিন বছর আগের। কামাল আতাতুর্ক এভিনিউর একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে কাজের বিল বাবদ ১ লাখ টাকার একটি চেক নেন ছাপাখানা ব্যবসায়ী মাইনুদ্দিন আহমেদ। কর্মক্ষেত্র ছাপাখানা হলেও প্রতিভায় তিনি অসামান্য। সামান্য ঘষেমেজে দুটি শূন্য বাড়িয়ে ১ লাখ টাকার চেকটিকে তিনি মাত্র ১ কোটি টাকায় রূপান্তর করেন। তবে বেচারার দুর্ভাগ্য। চেকটি ব্যাংকে জমা দিতে গেলে ব্যাংক কর্মকর্তারা সন্দেহ করে বসেন। প্রতিভার চ্ছটা দেখিয়ে ব্যাংক থেকে তিনি বেরিয়ে আসেন বটে, তবে মামলা থেকে বেরুনোর সৌভাগ্য তার হয়নি। গত সোমবার পল্টন থানার পুলিশ অবশেষে তাকে প্রগতি সরণী থেকে গ্রেপ্তার করে।

দেহের ঘাম শুকানোর আগেই যেমন মজুরী প্রদান আবশ্যক, তেমনি এই ধরনের বিরল প্রতিভাকে তৎক্ষণাৎ স্বীকৃতি দেওয়াও প্রায় ফরজের অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে আসলেই প্রতিভার ছড়াছড়ি। বাব্বাহ্!


প্রথম প্রকাশ

বলি না যে, বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারবর্গকে নির্মমভাবে হত্যা করে ওরা ঠিক কাজ করেছে। বলি না যে, প্রকাশ্য আদালতে যে বিচার হয়েছে, সেই বিচারে পাওয়া শাস্তিটা অন্যায্য হয়েছে। ক্রসফায়ারে মেরে ফেললেও অতোটা বিষণ্ন বোধ করতাম না। কিন্তু রীতিমতো উৎসব করে মৃত্যুর এই আয়োজন- এই সভ্য দুনিয়ায় মেনে নিতে পারি না। সে হোক সাদ্দাম কিংবা কেমিকেল আলী, ফারুক কিংবা বজলুল হুদা, টিমোথি ব্রাউন কিংবা আকমল শেখ।

মৃত্যুদণ্ড ব্যাপারটা সম্ভবত বর্বর যুগের সর্বশেষ চিহ্ন, সভ্য দুনিয়ায় যা এখনো রয়ে গেছে। যদিও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ভাষ্যমতে, এখন বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি দেশ আইন করে বা প্রায়োগিকভাবে মৃত্যুদন্ড বিলোপ করেছে৷ ২০০৮ সালের জুন মাসের শেষে, এই সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩৭-এ৷ এই ১৩৭টি দেশের মধ্যে, ৯২টি সকল অপরাধের জন্য বিলোপ করেছে, ১১টি শুধুমাত্র সাধারণ অপরাধের জন্য বিলোপ করেছে এবং ৩৪টি প্রায়োগিকভাবে বিলোপ করেছে৷ এশিয়াতে যে ২৭টি দেশ সব ধরনের অপরাধের জন্য আইন করে বা প্রায়োগিকভাবে মৃত্যুদন্ড বিলোপ করেছে সেগুলো হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, ভূটান, কম্বোডিয়া, কুক দ্বীপপুঞ্জ, কিরিবাতি, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, মাইক্রোনেশিয়া (ফেডারেল রাষ্ট্র), নেপাল, নিউজিল্যান্ড, নিউই, পালাও, ফিলিপাইন, সামোয়া, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, তিমুর-লেস্তে, টুভালু ও ভানুয়াতু৷ ফিজি শুধুমাত্র সাধারণ অপরাধের জন্য বিলোপ করেছে৷ ব্রুনাই, দক্ষিণ কোরিয়া, লাওস, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নাউরু, পাপুয়া নিউগিনি, শ্রীলংকা ও টোঙ্গা প্রায়োগিকভাবে বিলোপ করেছে৷

আর এই বাংলাদেশে ফাঁসির রশি নিয়ে রসালাপ- পত্রপত্রিকা থেকে এমনকি ব্লগারদেরও প্রিয় বিষয়। অন্য দেশে হলে আর কেউ না হোক, ব্লগাররা নিশ্চিত মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়তো। অথবা এও হতে পারে যে, ফেটে না পড়াটাই স্বাভাবিক। হয়তো দলপ্রেমী, নেতাভক্ত নই বলে আমিই বুঝে উঠতে পারছি না। হয়তো সেটা আমারই সীমাবদ্ধতা। হতে পারে! তবু শালার সব মৃত্যুই কেন যেন বেদনাদায়ক। মন খারাপ করে দেয়।

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): death penaltystanley williamssheikh mujibcolonel faruk ;

প্রথম প্রকাশ

নিজের জন্য একটা সোয়েটার কিনতে যাচ্ছিলাম। পথে দেখলাম, ফুটপাতেই ভাসমান কিছু মানুষ মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনোর আয়োজন করছেন। নারী-শিশু-বৃদ্ধও আছে সেই কাফেলায়। পাঁচ-ছয় বছর বয়স হবে বোধহয়, এক শিশুকে দেখলাম বড়োদের এক জীর্ণ কোট গায়ে জড়িয়ে বসে আছে ফুটপাতের এককোণে। আধো অন্ধকারে তার কাঁপুনি আমিও স্পষ্ট টের পাচ্ছিলাম। কি থেকে কী হয়ে গেল, নিজেই টের পেলাম না। শুধু মনে হল, বুকের কোনো একটা জায়গা খালি হয়ে গেল হঠাৎ! কম দামে কোথায় কাপড় পাওয়া যায়, সেটা জানা ছিল। বন্ধুকে নিয়ে পকেটে যা টাকা ছিল, সবটা দিয়ে প্রথমে শিশুদের কিছু সোয়েটার কিনলাম, তারপর বড়োদের জন্য আরো কয়েকটি। ইচ্ছে হল, আরো কিনি। কিন্তু ঘরে ফেরার টাকা ছাড়া আর কিছু ছিল না মানিব্যাগে। ঘন্টাখানেকের মধ্যে সেই জায়গায় ফিরে আসি বটে, কিন্তু লজ্জা আর কাটিয়ে উঠতে পারি না। শীতার্ত শিশু আর কয়েকজন বৃদ্ধের হাতে পোশাকগুলো তুলে দেয় আমার বন্ধুটি। তখনই জন্ম হয় আরেক দৃশ্যের। মুহূর্তের মধ্যে ভোজবাজির মতো প্রচুর মানুষ ছুটে আসে সেখানে। সবাই এক টুকরো কাপড় চান শীতের ছোবল থেকে বাঁচার জন্য। ভিক্ষা দেওয়ার বেলায় এমনিতে আমি চূড়ান্ত নির্মম। কিন্তু সামান্য দূরে দাঁড়িয়েও এইবার নিজেকে শ্রেফ একটা অসহায় মানুষ বলে মনে হচ্ছিল।

প্রতিরাতে অভাবী মানুষের যুদ্ধ
খোদ এই ঢাকায় কমলাপুর রেলস্টেশন, কারওয়ান বাজার, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন ফুটপাত ও ওভারব্রিজে লাখ লাখ মানুষ শীতবস্ত্র ছাড়াই খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে এখন। ঢাকার বাইরে অবস্থা আরো করুণ, আরো মর্মন্তুদ। দেশের অনেক জায়গায় সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে না। তীব্র শীত সইতে না পেরে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। দিনাজপুর, গাইবান্ধা, শ্রীমঙ্গলে ইতিমধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে এই সংখ্যা আরো বাড়বে। যদিও মৃত্যুসংখ্যা দিয়ে এই শীতের তীব্রতা মাপা যায় না। শুধু বলতে পারি, এই কষ্টের ওপরে আর কষ্ট নেই। এর সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে ক্ষুধার কষ্ট। সাধারণভাবে শীতের সময় ছিন্নমূল ও দরিদ্র মানুষের আয় কমে যায় সার্বিকভাবে। ফলে ক্ষুধা মেটানোই এখন দায় হয়ে পড়েছে অনেকের পক্ষে। আমার এক বন্ধু ফলোআপ করতে গিয়ে সেদিন দেখে অভাবী এক মানুষকে দেওয়া কম্বলটি পরদিনই তিনি ৫০ টাকায় আরেকজনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। ক্ষুধা যেখানে বড়ো, সেখানে এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ডাস্টবিন ঘেটেও হয়তো ক্ষুধা মেটানো যায়, কিন্তু শীত মানানো যায় না। কনকনে শীতের মধ্যেই এখন হু হু বাতাস আরেক উপদ্রব হয়ে উঠেছে। ফলে শীতের তীব্রতা বাড়ছে ক্রমেই। সুরম্য দালানের ভেতর বসে ইদানিং কাঁপছি রীতিমতো। অসহায় বিপন্ন মানুষের অবস্থা সহজেই অনুমান করা যায়। প্রতি সন্ধ্যায় হাঁটতে হাঁটতেই মানুষের প্রাণপণ সংগ্রাম দেখতে পাই। কিন্তু খড়কুটোতে আগুন জ্বালিয়ে কতোক্ষণ আর বসে থাকতে পারে ওরা? ছেঁড়া কাঁথা, চট কিংবা ছালা দিয়ে কতোটা আর শীত ঠেকাতে পারে তারা? আমার নিজের দেখায়, বৃদ্ধ আর শিশুরাই বেশি বিপন্ন হয়ে পড়ছে শীতে।

মানবতার অপমান!
দেশের দরিদ্র মানুষগুলো শীতের সঙ্গে প্রতি রাতেই এখন অসম যুদ্ধে লড়ে যাচ্ছে প্রাণপণ, শীতের ছোবল সইতে না পেরে তাদের অনেকে বরণ করে নিচ্ছে মৃত্যুকে, অথচ এই ঢাকাতেই বিলাসী জীবন যাপনে প্রতিদিনই ব্যয় হচ্ছে কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে একজনমাত্র সফরসঙ্গী কমালে সেই খরচে এক হাজার গরিব মানুষের গায়ে শীতের পোশাক তুলে দেওয়া যায়। সারা দেশে বিএনপির বাকি সম্মেলনগুলোর আয়োজনে যে খরচ হবে, তা থেকে সামান্য সাশ্রয় করলেও হাজার হাজার ছিন্নমূলকে শীতের অসহ্য কষ্ট পোহাতে হয় না প্রতিরাতে। এই শহরের বিত্তবানরা মাত্র একবেলা মদ না খেলে অন্তত একলাখ মানুষের একটা গতি হয়ে যায়। সংসদে একবেলা বেয়াই-বেয়াইনসুলভ অর্থহীন গল্পগুজব বাদ দিলে যে সাশ্রয় হয়, তা দিয়ে অন্তত ১০ হাজার মানুষের যন্ত্রণা লাঘব করা যায়। কিন্তু এই দেশের নাম বাংলাদেশ। এখানে কুকুরের চেয়েও অধম মানুষের জীবন। গুলশান-ধানমণ্ডি-বনানীতে পোষা কুকুরও শীতের পোশাক পায়, নিজের দেখা, কিন্তু দরিদ্র মানুষের সেই সৌভাগ্য হয় না।

একটিবার ফিরে তাকান
আপনি যখন এই লেখায় চোখ বুলোচ্ছেন, তখনও নিশ্চিত আপনার আশেপাশেই বহু মানুষ শীতের সঙ্গে অসহায় লড়ে যাচ্ছে। কৃষ্ণগহবরের কসম, পথের এই মানুষগুলোর দিকে একটিবার ফিরে তাকান, মাত্র একটিবার। কাল কিংবা পরশুর মধ্যেই। ওরা আমাদেরই লোক। আমার দেশের লোক। এদের কষ্টে রেখে আপনি ঘুমোতে পারেন না।

ছবির শিশুটির দেশের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইলে। মায়ের সঙ্গে থাকে মোহাম্মদপুরে বেড়িবাঁধে। ছবি সৌজন্য : প্রথম আলো

প্রথম প্রকাশ

আমরা ভুক্তভোগী নই বলে ঠিক টের পাই না। কিন্তু ঢাকায় যারা বসুন্ধরা বা যমুনা গ্রুপ কিংবা অন্যান্য লুটেরা আবাসন প্রতিষ্ঠানের হাতে প্রতারিত হয়েছেন, তারাই শুধু জানেন এই প্রতারণা কতোটা ভয়াবহ। এক প্রবাসীকে জানি, একযুগ আগে হাড়ভাঙা পরিশ্রমে অর্জিত ২০ লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন বসুন্ধরার কাছে, প্লট কেনার আশায়। পরে কিস্তি হিসেবে পরিশোধ করেছিলেন আরো টাকা। কিন্তু বসুন্ধরা পরে সেই প্লট তিনগুণ দামে অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। শেষমেশ সেই প্রবাসী দেনদরবার করছিলেন মূল টাকাটা ফেরত পাওয়ার জন্য- এই খবর জানতাম। আর খোঁজ নেওয়া হয়নি পরে।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর খোদ প্রভাবশালী মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ভূমিদস্যুতা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, 'তাদের হাত অনেক লম্বা।' আমরাও জানতাম, আসলেই লম্বা। ফলে এদের বিরুদ্ধে কোথাও কিছু বলা যায় না, লেখাও যায় না এবং প্রকৃতপক্ষে ভূমিদস্যুতার খুব একটা বিচারও নেই। কিন্তু কদিন আগে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান হঠাৎ করেই রুখে দাঁড়ালেন ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে। মন্ত্রী বললেন, ‌"আপনারা পানিতে টাকা ঢাল, স্বপ্নের ঠিকানা নামে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে প্রতারিত করছেন। আপনারা ঘুমান কীভাবে? ছেলেমেয়েদের বিয়ে দেন কীভাবে? আপনাদের লজ্জা হয় না! বিষ খেয়ে আপনাদের মরতে ইচ্ছে করে না? অন্যের জমি নিজের নামে বিক্রি করেন, লজ্জা হয় না! এসব আমার কথা নয়। এগুলো পত্রপত্রিকায় সাংবাদিকেরা প্রকাশ করেছে।"
নাগরিক সমাজ ছাড়াও সরকারেরই আরেক মন্ত্রী স্বয়ং তাকে এজন্য অভিনন্দন পর্যন্ত জানিয়েছেন। অন্যদিকে অপমানিত ভূমিদস্যুরা, খবর পাচ্ছি, ওপরমহলে ইতিমধ্যে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছেন। ভূমি প্রতিমন্ত্রীকে যে কোনো সময় সরিয়ে দেওয়া হতে পারে- এমন কথাও শোনা যাচ্ছে। কুৎসা রটনার জন্য নিজেদের মালিকানাধীন পত্রপত্রিকাগুলো ইতিমধ্যে আদাজল খেয়ে লেগেছে প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। থেমে নেই অসৎ সাংবাদিকরাও। আমাদের সময় সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান আজকে লিখেছেন - "গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান মনে হয় একটু বেসামাল হয়ে পড়েছেন। তিনি ইতিমধ্যে অন্তত দুবার শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছেন।" হায়, এমন নির্লজ্জ লোকও কি হয়, সামান্য কটা টাকার জন্য যে ভূমিদস্যুদের দালালি করে আর শিষ্টাচার শেখায়!

পত্রিকার প্রথম পাতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। নাঈমুল ইসলাম খান গত মাসখানেকে সেই জায়গার কীরকম ব্যবহার করেছেন এবং কতোটা নির্লজ্জতার পরিচয় দিয়েছেন, দেখুন একনজর-

একজন নুরুল ইসলাম বিএসসি বড় কাজে লাগানো উচিত ছিল
Kool Shaving Cream উন্নয়নের ২০ বছর
কিউট আফটার শেভ লোশন ব্যবহার করছি
নাঈমুল ইসলাম খান সপরিবারে কানাডায়
সানিডেইল স্কুল প্লে গ্র“প শো অতুলনীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
কানাডার টরন্টোয় স্থানীয়দের সংবর্ধনা পেলেন নাঈমুল ইসলাম খান
নাঈমুল ইসলাম খান জাপান সফরে গেছেন
মালয়েশিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে নাঈমুল ইসলাম খান
দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক ওয়ার্ল্ড নিউজপেপার কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন
দৈনিক আমাদের সময়ে বিজ্ঞাপনমূল্য যুক্তিসঙ্গত করা অত্যন্ত জরুরি
মাহফুজ আনাম-মতিউর রহমানকে ঝওজওটঝ জরিপ বিষয়ে খোলা চিঠি
নির্বাহী সম্পাদক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি (তাও একেবারে নিজের নামে লেখা)

আগের দুটি পোস্ট
খবরটি দেখে কেন যেন বুক ফেটে কান্না আসছে!
নাঈমুল ইসলাম খানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আবেদন!

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): kool shaving creambashundharashah alamnayeemul islam khannayemul islam khannaimul islam khanamader shomoybangla daily newspaper ;

প্রথম প্রকাশ

প্রতিদিন কতো তুচ্ছ জিনিস ডাউনলোড করি আমি নিজেই। গান থেকে ই-বুক, সফটওয়্যার থেকে ছবি- আরো কতো কী! কেবল সামহোয়্যারইনের ব্লগারদের কথাই যদি ধরি, আছেন কি এমন কেউ, যিনি প্রতিদিন কমপক্ষে দু-চার দশ মেগাবাইট হাবিজাবি ডাউনলোড করছেন না? নিশ্চিত যে, এরকম কাউকে খুঁজে পাওয়াটা কঠিন। অথচ কিনা প্রথম থেকে নবম শ্রেণীর সমস্ত পাঠ্যবই ডাউনলোডের জন্য ওয়েবসাইটে দেওয়ার পরও লাখ লাখ ছাত্রছাত্রী আর তাদের অভিভাবকরা বইয়ের জন্য হন্যে হয়ে উঠেছে! সারাদেশের প্রাথমিক, কিন্ডারগার্টেন ও ইংরেজি মাধ্যমের আট লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী এখনো বই পায়নি। এসব শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজন প্রায় ৮৪ লাখ বই। কবে শিক্ষার্থীরা এসব বই পাবে তা আপাতত জানাতে পারছে না মন্ত্রণালয় কিংবা পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। বই না পেয়ে ছেলেমেয়েরা কাঁদছে- এমন খবরও আসছে। ভাবা যায়!

ওয়েবসাইটে পাঠ্যবই ডাউনলোড রাখাটা শিক্ষা মন্ত্র্রণালয় এবং সর্বোপরি এই সরকারের একটি ভালো কাজ- তাতে সন্দেহ নেই। প্রধানমন্ত্রী নিজেই সেই ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেছেন। এর মাধ্যমে শুধু যে হাতের কাছে বই পাওয়া যাচ্ছে তা নয়, কারো বইয়ের একটি পৃষ্ঠা হারিয়ে গেলে সেই শিক্ষার্থী ওয়েবসাইট থেকে ওই পৃষ্ঠাটি ডাউনলোড করে নিতে পারবে। সবচেয়ে আশার কথা, সরকার যদি ইন্টারনেটকে সহজলভ্য কিংবা সহজপ্রাপ্য করে তুলতে পারে, তাহলে হয়তো হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বই মুদ্রণেরও প্রয়োজন পড়বে না আগামীতে।

তবে সমস্যা আসলে অন্যত্র। দরিদ্র অভিভাবক, সংখ্যায় যারা গরিষ্ঠ, তারা বলছেন বই ডাউনলোড করতে গিয়ে যে খরচ পড়ছে, অতো টাকা ব্যয়ের সামর্থ্য তাদের নেই। একজন শিক্ষক হিসাব করে দেখিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যায়ের প্রতিসেট বই ডাউনলোড করতে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত লাগছে।

এই জায়গায় আমরা যারা ব্লগার আছি, এক টাকা খরচ না করেও সম্ভবত ভালো একটা উদাহরণ তৈরি করতে পারি, যাদের বইয়ের সমস্যা আছে তাদের কাছে। মাত্র ৩০০ জন ব্লগার ৩০০টা বই প্রিন্ট করলেও ৩০০ জন দরিদ্র ছাত্রছাত্রীর মুখে হাসি ফোটানো যায়। সন্তানের কাছে অপমানজনক দায় থেকে মুক্তি দেওয়া যায় দুশ্চিন্তাগ্রস্থ অভিভাবককে। সেক্ষেত্রে কাজ মূলত দুটি-
১. বই ডাউনলোড করা - এটা আমাদের জন্য একেবারেই মামুলি ব্যাপার।
২. বই প্রিন্ট করা - এখানে সামান্য খরচের ব্যাপার আছে। তবে কায়দা করে সেটাও কাটানো খুবই সহজ। বিশেষ করে চাকরিজীবি যারা আছেন, তারা প্রিন্ট করার কাজটুকু অফিস থেকে করিয়ে নিতে পারেন।

উপদেশ বিলিয়ে নিজে বসে থাকা ভালো দেখায় না। সেক্ষেত্রে আমাদের অফিসের লেজার প্রিন্টারটার কাছে আগাম দুঃখ প্রকাশ করে রাখছি!
বই ডাউনলোড করা যাবে এখান থেকে
বইমেলা ওয়েবসাইট থেকেও বইগুলো স্বচ্ছন্দে পড়ার ব্যবস্থা আছে

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): text booktextbooknctbtextbook download ;
প্রথম প্রকাশ


খুব, খুবই ভালো লাগছে আজ। আবার খারাপও লাগছে কিছু কিছু ব্যাপার নিয়ে। বলা যেতে পারে, মিশ্র অনুভূতি। শুনেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলাগুলি করেছে ছাত্রদলের দুই গ্রুপ। দায়িত্ব মনে করে বসে ছিল না ছাত্রলীগও। টেন্ডুলকারীয় সেঞ্চুরির সাদামাটা খবরে যেমন, সাধারণ গোলাগুলির ওইটুকু তথ্যেও তেমন কি আর মন ভরে? খুব কৌতূহল নিয়ে জানতে মন চাইছে, তারা কী অস্ত্র ব্যবহার করলো, নতুন কী কী অস্ত্র যুক্ত হল বহরে? যদিও ব্যক্তিগতভাবে চরম হতাশ হয়েছি, কয়েকজনের হাতে রামদা গোছের কিছু যন্ত্রপাতি দেখে। বলি, চোরাই বাজারে আজকাল আধুনিক অস্ত্রের খুব কি আকাল পড়েছে?

সকালের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপের পর ছাত্রদলের উভয়পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলল বেশ অনেকক্ষণ। কিন্তু হায়, কোনো বৈচিত্র্যই দেখলাম না। সেই ষাটের দশকের বিরক্তিকর পুনরাবৃত্তি যেন! বিশ্ববাসীর সামনে এই সাধারণ ইটপাটকেল আর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া নিয়ে দাঁড়ানো কতোটুকু শোভনীয়, তা ছাত্রনেতারাই জানেন। পরে আবার পরস্পরের ওপর হামলার একটি মনোগ্রাহী ঘটনা ঘটেছে বটে, কিন্তু সেটা খুব একটা আশানুরূপ হয়নি। রড-কিরিচ নিয়ে এইসব কোন্ ধরনের সেকেলে হামলা, বুঝে উঠতে এই এখনো সময় লাগছে আমার। ঢাকার অস্ত্র ব্যবসায়ীদের মান সম্পর্কে এই প্রথম খুবই বাজে একটা ধারণা হল। বিএসটিআই যদি এখনই অস্ত্র ব্যবসাকে তাদের আওতাভূক্ত করার উদ্যোগ না নেয়, তাহলে রড-কিরিচের সাবেকী ব্যাপার-স্যাপার হয়তো আরো বহুদিন আমাদের দেখতে হবে। :(

হ্যাঁ, যথারীতি ভালো লেগেছে পুলিশের ভূমিকা। তবে তারা পুরোপুরি নিরব না থেকে নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করেছে। সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিক্ষেপ করা হয় আট রাউন্ড টিয়ারগ্যাস। কী আর বলবো! শুধু বলি যে, পুলিশের এই নাক-গলানি স্বভাব বন্ধ হওয়া উচিত। তাদের বরং উচিত ছিল, আট রাউন্ড টিয়ারগ্যাসকে তিন ভাগ করে ছাত্রদলের দু গ্রুপ এবং ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে, শেষের দিকে এসে ছাত্রলীগও সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল। এক পর্যায়ে তারা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দীন টুকুর ওপর হামলা চালায়। তবে তার মাথা যথেষ্ট ফাটেনি- এটাই বেশি দুঃখ দিল। এরকম একটা সুযোগ আবার কবে মিলবে কে জানে! ছাত্রলীগ আবার অভিযোগ করছে, টুকুও নাকি পুলিশের ওপর হামলা করেছে। সত্যি হলে টুকুর পুলিশ পদক অবশ্যপ্রাপ্য।

মন খারাপের মেঘটুকু অবশ্য পরে উবে গেছে, যখন শুনলাম, মিছিলকারীরা প্রকাশ্যে চাপাতি, রড, কিরিচ উঁচিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেছে। গর্বে বুকটা স্ফীত হয়ে ওঠে। স্পর্ধিত চেতনায় সূতীক্ষ্ম চিৎকারে বলি- 'আমরা শক্তি আমরা বল, আমরা ছাত্রদল!'

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): dhaka university ;

প্রথম প্রকাশ

মূল ঘটনা হল
দিনাজপুরে কর্মরত বিচারক একেএম ফজলুল হকের স্ত্রী রাবেয়া সুলতানার পেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হওয়ায় গত শুক্রবার তিনি স্ত্রীকে নিয়ে শহরের বালুবাড়ি এলাকায় চিকিৎসক জাহানারা বেগমের চেম্বারে নিয়ে যান। ওই চিকিৎসক ফজলুল হককে তার স্ত্রীর একটি আলট্রাসনোগ্রাম করে আনার জন্য ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন। ফজলুল হক ব্যবস্থাপত্র নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় চিকিৎসক জাহানারা তার কাছে ৩০০ টাকা পরামর্শ ফি দাবি করেন। এ সময় ফজলুল হক তাঁকে সরকারি চিকিৎসাসুবিধা বিধিমালার কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি ফি নিতে পারেন না। ডা. জাহানারা ফজলুল হকের কাছ থেকে ব্যবস্থাপত্র চেয়ে বলেন, ফি না দিলে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া যাবে না। স্ত্রীর পেটে প্রচণ্ড ব্যথার কথা বিবেচনা করে ফজলুল হক চিকিৎসককে ৩০০ টাকা ফি দিয়ে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে বেরিয়ে যান।
এ ঘটনায় বিচারক ফজলুল হক নিজে আবেদনকারী হিসেবে রাষ্ট্রকে বাদি করে গত রোববার ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দিনাজপুর অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা করেন। আদালতের আদেশনামায় উল্লেখ করা হয়, “সরকারি কর্মচারীর (চিকিত্সাসুবিধা) বিধিমালা, ১৯৭৪-এর ৪ বিধিতে বলা হয়েছে, ‘সরকারি কর্মচারী অনুমোদিত চিকিত্সক কর্তৃক বিনা খরচে চিকিত্সাসুবিধা পাইবেন।’ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে চিকিৎসক জাহানারার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং তা কার্যকর করার জন্য কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।

পরের ঘটনা এই
ডা. জাহানারা বেগম মুন্নীর বিরুদ্ধে বিচারকের দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানার ঘটনায় পুলিশ গত ৩ দিনেও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি অথবা ইচ্ছে করেই গ্রেপ্তার করেনি। বাংলাদেশে সাধারণত যা হয়, গতকাল এই ঘটনারও রাজনৈতিকায়ন হয়ে গেল যথারীতি। আজ জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ) শীঘ্রই এ মামলার বিরুদ্ধে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে। বিএমএ নেতারা বলছেন, দোষ স্বীকার পূর্বক লিখিত আবেদন করে ডা. মুন্নীকে যদি আদালতে হাজির হতে হয়, তাহলে তারা আজ বৃহস্পতিবার আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

ডাক্তারের গরমি
বাংলাদেশের জনগণ মাত্রেই জানেন, চিকিৎসা বাণিজ্য কাকে বলে, কতো প্রকার ও কী কী! পেশার প্রতি সৎ- এমন চিকিৎসকও নিশ্চয়ই আছেন আমাদের আশেপাশে। তবে 'ডাক্তার' শব্দটি দেখলেই কেন যেন এক রক্তচোষার ছবি ভেসে উঠে মনে। বিচারক নিজে ভুক্তভোগী হওয়ায় এক রক্তচোষা চিকিৎসকের কাণ্ড আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। কিন্তু এইরকম হাজার হাজার অমানবিক ঘটনা আমাদের চোখের আড়ালেই থেকে যায়। আমরা দেখছি, দিনাজপুরের ঘটনায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। কিন্তু ওই চিকিৎসক আদালতে হাজির হতে রাজি নন। ক্ষমা প্রার্থনাও করবেন না। ওদিকে ভাড়াটে মাস্তানের মতো বিএমএ আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। যেন তারা আলাদা রাষ্ট্রের বাসিন্দা। যেন এই দেশের আইনকানুন তাদের ওপর প্রযোজ্য নয়। রে, তোদের এতো গরমি কিসের! 


জীবনে যিনি এক ওয়াক্ত নামাজ পড়েছেন কিনা সন্দেহ, তিনিও এখন শোকরানা আদায় করতে করতে বেহুঁশ হওয়ার জোগাড়। মসজিদ ছাড়িয়ে উপাসনালয়গুলোতে হচ্ছে স্পেশাল প্রার্থনা। (প্রার্থনাও আবার দুরকম হয় নাকি!) মোটামুটি হুলস্থূল অবস্থা। সাজ সাজ রব চারদিকে। আকামকুল শিরোমনি এরশাদের পর্যন্ত গলা ধরে আসছে এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে। আর একেবারে বিচারের দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনই বোধহয় সবচেয়ে ভালো পারফর্ম করেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে একেবারে 'রিয়েল টাইমে' কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি।
বিচারকই বা বাদ থাকবেন কেন! দেশটিভির মারফতে আমরা দেখলাম বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে রায় প্রদানকারী বিচারক কাজী গোলাম রসুলও লাইমলাইট থেকে বাদ থাকতে চাইছেন না। বিচারক কাজী গোলাম রসুল বলেছেন, ‌'আমাকে বিচার বিলম্বিত করার জন্য বহুবার বিশেষ মহল থেকে হত্যার হুমকি পর্যন্ত দেয়া হয়েছিলো।' শেষ পর্যন্ত বিচারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় তিনি সন্তুষ্টিও প্রকাশ করেছেন এবং তার কর্মজীবনে নানা রায়ের মধ্যে এই রায়কে সেরা সাফল্য হিসেবে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমার ওপর একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল তখন। আমি মনে মনে ঠিক করেছিলাম, যে কোনো কিছুর বিনিময়ে দায়িত্বটা যথাসাধ্য পালন করতে চেষ্টা করব। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর রহমতে সে অর্পিত দায়িত্ব আমি পালন করেছি। এর মধ্যে আমার সিনসিরিয়াটি ছিল, নিরপেক্ষতা ছিল শতভাগ।
রায়ের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, সত্যি বলতে আমার মধ্যে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। আমিও তো মানুষ। একদিকে আমার কলমের খোঁচায় ১২জনের(একজন মৃত) ফাঁসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। অপরদিকে একটি জঘন্য বর্বরোচিত হত্যার সঠিক বিচার করতে পেরেছি। এটা আমার কর্মজীবনের একটি বড় সাফল্য।

বিচারকের চিরাচরিত ভাবমূর্তি ভেঙে বিচারক কাজী গোলাম রসুল একটু কি বাইরে বেরিয়ে আসলেন? নাকি অন্য সবার মতো কৃতিত্ব দেখাতে চাইছেন? নাকি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছেন? আদালতের বিচারকরা অন্দরে থাকবেন- সেটাই আমাদের কাছে প্রত্যাশিত। তারা নিজেরাই উচ্চকণ্ঠ হলে ব্যাপারটা ভালো দেখায় না।

এই বিষয়ে একটি রিপোর্ট


যৌনকর্মী, মাদকসেবী এবং দুর্নীতিবাজদের মিলনকেন্দ্র ঢাকা ক্লাবের প্রেসিডেন্ট সাদাত হোসেন সেলিম মাদারী বলতেছেন, লুঙ্গি নাকি "কোনো বিবেচনায়ই কোনো অনুষ্ঠান বা পস এলাকার পোশাক হতে পারে না।" পস এলাকা কি রে সেলিম? তারপর তিনি ফরমাইতেছেন যে, এর নাকি "ব্যতিক্রমও আছে। ২০০৮ সালে ঢাকা ক্লাবে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা লুঙ্গি পরে এসেছিলেন।" লুঙ্গিপরা মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকা ক্লাবের দারোয়ানদের বিশেষ অনুগ্রহ নিয়ে ঢুকতে পেরেছিলেন। আহা, বেশ বেশ বেশ!

পস এলাকাবাসী সেলিম ইরশাদ করতেছেন, "স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় রাজাকার-আলবদররা কাবুলি পোশাক পরে বাঙালি নিধনযজ্ঞ চালিয়েছিল। এই কারণে স্বাধীনতার পর ক্লাব পরিচালনা কমিটির সভায় কাবুলি পোশাক ঢাকা ক্লাবে নিষিদ্ধ করা হয়। এর কিছুদিন পর পাকিস্তানের তৎকালীন হাইকমিশনার রিয়াজ খোকা কাবুলি পোশাক পরে ঢাকা ক্লাবের একটি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। কিন্তু তাকে ওই পোশাকে ক্লাবে ঢুকতে দেয়া হয়নি।" আহা রে! এরপরই তিনি তৈলের ভাণ্ড হাতে নিয়ে জানাইতেছেন যে, "এক সময় পায়জামা-পাঞ্জাবীও ঢাকা ক্লাবে নিষিদ্ধ ছিল। জাতির জনক পায়জামা-পাঞ্জাবী পরতেন বলে পরে তা ঢাকা ক্লাবের সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়- যা এখন চালু আছে।" তাহলে মুজিব কোট কেন নিষিদ্ধ, জনাব সেলিম?

তবে, ওই লুঙ্গিপরা মুক্তিযোদ্ধারা একাত্তরে জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ না করলে সাদাত হোসেন সেলিমরা করাচি কি লাহোরে বড়জোর যৌনকর্মীর দালাল হয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন, এর বেশি কিছু না!

সংযুক্তি :
আমাদের সময়ে সেলিমের একান্ত সাক্ষাৎকার