Showing posts with label politics. Show all posts
Showing posts with label politics. Show all posts
[পূর্ণ রেজ্যুলেশনে দেখার জন্য ছবির ওপর ক্লিক করুন]

 
সংযুক্তি :
ই-প্রথম আলো  |  প্রথম আলো ওয়েব
প্রকাশকাল :

[পূর্ণ রেজ্যুলেশনে দেখার জন্য ছবির ওপর ক্লিক করুন]
গত এক বছরে রাজনৈতিক দলগুলো কতটা এগিয়েছে, কিভাবে আগাচ্ছে নিজ নিজ লক্ষের দিকে? চলুন একবার মূল সড়কে নেমে দেখা যাক-



সংযুক্তি :
ই-প্রথম আলো  |  প্রথম আলো ওয়েব
প্রকাশকাল :

[পূর্ণ রেজ্যুলেশনে দেখার জন্য ছবির ওপর ক্লিক করুন]
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ওরফে সাকা চৌধুরীকে কে না চেনেন! পাকভূবনে তিনি এক নিষ্ঠাবান পাকপ্রেমী। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গ্রেপ্তার হলেন দিনকয়েক আগে। শোনা যায়, পুলিশের ওপর চড়াও হওয়ার জের ধরে খানিকটা মারধরও চলেছে ইতিমধ্যে।
এই গুণধর প্রতিভার সাম্প্রতিক দুরবস্থা দেখে একটি ক্যারিকেচার করার ইচ্ছে জেগেছিল মনে। যথারীতি সেটা ছাপা হয়েছে আজকের প্রথম আলোর রস+আলোতে। দেখতে পারেন...

ক্যারিকেচারটি দেখুন বড়ো আকারে

সংযুক্তি :
ই-প্রথম আলো  |  Rosh+Alo অফিসিয়াল ফ্যান পেজ
সামহোয়্যারইন ব্লগ

প্রকাশকাল :



২০০৭ সালে ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ সেলে খোলাখুলি স্বীকারোক্তি দেন আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিল, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ওবায়দুল কাদের, ওয়াকিল উদ্দিন, শিল্পপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু ছাড়াও আরো অনেক রাজনীতিবিদ। পরে স্বীকারোক্তির অডিও সংস্করণ ইন্টারনেটে প্রকাশিত হয় অজ্ঞাত সূত্র থেকে। তারই কিছু সংরক্ষণ করা হল এই লেখায়-




আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলের স্বীকারোক্তি

গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াকিল উদ্দিন সম্পর্কে-১
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি  ■  আকার : ১.৮৫ মেগাবাইট

গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াকিল উদ্দিন সম্পর্কে-২
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি  ■  আকার : ৩ মেগাবাইট

গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াকিল উদ্দিন সম্পর্কে-৩
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি  ■  আকার : ২ মেগাবাইট

গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াকিল উদ্দিন সম্পর্কে-৪
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি  ■  আকার : ৮৬০ কিলোবাইট

সাবের হোসেন চৌধুরী এবং প্রশিকা সম্পর্কে
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি  ■  আকার : ৭ মেগাবাইট



'পুলিশের ওপর হামলা' ও 'সরকারি কাজে বাধা দেওয়া'——বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা কৌতুককর দুটি প্রবাদ! রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কাউকে জব্দ করার জন্য এই দুটি অজুহাতের ব্যবহার হয়ে আসছে সম্ভবত বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই। আজও তার ব্যতিক্রম হল না। পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সেই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মানিক মিয়া এভিনিউতে বেআইনিভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে জয়নুল আবদিন ফারুক, পাপিয়া সরোয়ারসহ ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এ ছাড়া তাঁদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার হারুনুর রশিদ, সহকারী কমিশনার বিপ্লব কুমার ও থানার এক উপপরিদর্শককে (এসআই) মারধর করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তারও আগে ফারুকের ওপর হামলার ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে ডিএমপির এক অতিরিক্ত কমিশনারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আগে মামলা এবং পরে তদন্ত কমিটি গঠনের সূত্রটি আমাদের অনেকেরই জানা। স্পষ্টই বোঝা যায়, মহানগর পুলিশ কমিশনারের তদন্ত কমিটি কী আবিস্কার করবে! পুলিশের পোশাক পরা মহামান্য ছাত্রলীগ নেতা হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার আর পরম শ্রদ্ধেয় কনস্টেবলদের ওপর 'সংঘবদ্ধ হামলার' অভিযোগে উল্টো বিরোধীদলীয় চিফ হুইপকেই দোষী সাব্যস্ত করা হবে——এটা আগামই বলে দেওয়া যায়।

পুলিশ পারে, কিন্তু কতোটা পারে?
ফারুক যদি গালাগাল কিংবা হামলা করেও থাকেন, তাহলেও রাষ্ট্রের নিম্নপদস্থ কর্মচারী হিসেবে পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার, সহকারী কমিশনার কিংবা কনস্টেবলদের বিন্দুমাত্র অধিকার নেই তার ওপর পাল্টা নারকীয় হামলা করার। তারা মামলা দিতে পারতো, সেই মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনে তাকে গ্রেপ্তার করতে পারতো। বাংলাদেশের ওয়ারেন্ট অফ প্রিসিডেন্স অনুসারে চিফ হুইপের স্থান পঞ্চম। আর খোদ পুলিশের যিনি সর্বেসর্বা, সেই আইজিপির স্থান ১৬ নম্বরে। এই উপকমিশনার আর সহকারী কমিশনাররা গোণাতেই নেই। অনেকেরই যুক্তি, ফারুক লোকটি সুবিধার নয়। হ্যাঁ, আমি ধরলাম যে, লোকটি ডাকাতদলের সর্দার। কিন্তু তবুও কি পুলিশ এই বর্বরতা চালাতে পারে?

এক ছবি সব আমলেই
এর আগে বিএনপি শাসনামলেও আমরা দেখেছি, তারা পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর একইভাবে অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম, তোফায়েল আহমেদ ছাড়াও দিলীপ বড়ুয়া, রাশেদ খান মেননদের ওপর বিএনপির পুলিশ লেলিয়ে দেওয়া—এই সেদিনকার ঘটনা। তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির হরতালের দিনও সরকারের লেলিয়ে দেওয়া এই পুলিশ হামলে পড়েছিল নিরীহ মানুষের ওপর। নিজেই চোখেই দেখেছি, সে কী নির্মমতা! এই অসুস্থ সংস্কৃতি পরিবর্তনের সুযোগ ছিল আওয়ামী লীগের সামনে। তারা সুযোগটা নেয়নি। উল্টো তার অপব্যবহার করেছে মনের সব বিদ্বেষ একত্র করে। কিন্তু এই দিন তো দিন নয়। আওয়ামী লীগ তো নিশ্চয়ই নিশ্চিত নয় যে, তারাই ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে পরবর্তী মেয়াদে। আগামী নির্বাচনে বিএনপিও তো ক্ষমতায় যেতে পারে। তখন যদি এই পুলিশকেই লেলিয়ে দিয়ে সাহারা খাতুন কিংবা শামসুল হক টুকুদের লাঠির আগায় নাচায়? কিংবা আরো ওপরমহলকে চ্যাংদোলা করে যদি নিয়ে যায়?

বলতে দ্বিধা নেই
পুলিশের এই বর্বর হামলা যদি হতো আওয়ামী লীগের চিফ হুইপের ওপর, এমনকি সাহারা খাতুনের ওপরও——অবিকল একই বেদনা স্পর্শ করে যেতো আমাকে, একইরকম ক্ষোভে দগ্ধ হতাম আমরা। আমি কেবল ভাবছি, এইরকম এক পরিস্থিতিতে আমি নিজে কিংবা আমার মতোই কোনো সাধারণ মানুষ যদি পুলিশরূপী এই হায়েনাদের কবলে পড়তো, কী ঘটতো তাহলে? রক্তাক্ত বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তবু প্রাণ নিয়ে হাসপাতালে যেতে পেরেছেন, কোনো সাধারণ মানুষ কি নিজের প্রাণটা বাঁচাতে পারতো? প্রাণ বাঁচানো গেলেও থানায় নিয়ে কী বর্বর অত্যাচারটাই চালানো হতো! হয়তো ১০১ মামলার আসামিও।

দরকার একটি সুনামি
না, কোনো সংস্কার কর্মসূচি নয়——সে তো শুধুই সময়ের অপচয়। মানবাধিকার শেখানোর কোনো প্রশিক্ষণ কর্মশালা নয়——সে শুধুই আইওয়াশ। এমনকি কোনো আন্দোলনও নয়——সে হল সমস্যাকে আরো বেশি দিন জিইয়ে রাখার পদ্ধতি মাত্র। এই চির অমানুষ বর্বর পুলিশের বিরুদ্ধে দরকার একটি সুনামি—শুধুই একটি সুনামি



গত বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, সংসদ নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কেন মেনে নেওয়া হবে না, সেটা স্পষ্ট নয়। ই-ভোটিংয়ের সুবিধাগুলো যেমন আওয়ামী লীগ-বিএনপি দু দলের জন্যই সমান, অসুবিধাগুলোও সমান। ই-ভোটিংয়ে আওয়ামী লীগ যদি কারচুপি করে, বিএনপিরও সেই একই কারচুপি করার সুযোগ আছে। তাহলে কেন বিরোধিতা? অনেক ভেবেচিন্তে দুটো বিষয় অনুমানের চেষ্টা করলাম-
অনুমান ১ : উপদেষ্টাদের কেউ কেউ তাকে ধারণা দিয়েছেন, ই মানে ইলেকট্রনিক। এবং এই ভোট দিতে হলে আপনাকে কম্পিউটার চালানো শিখতে হবে। কিন্তু এই বয়সে তার পক্ষে মোটেও সেটা সম্ভব নয়। বরং তাকে কম্পিউটার শেখানোর চেষ্টাটা রীতিমতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল হবে।
অনুমান ২ : খালেদা জিয়া বিএনপিপন্থী ব্লগারদের মাধ্যমে জেনেছেন, সম্প্রতি ডয়চে ভেলে ইলেক্ট্রনিক জালভোট প্রতিযোগিতায় ব্যাপক কারচুপির ঘটনা ঘটেছে। চোখের সামনে এইরকম একটি উদাহরণ থাকার পর তিনি কিভাবে ই-ভোটিং মেনে নিতে পারেন?

মনে পড়ে, মনে পড়ে...
মনে পড়ে, ১৯৯২ সালে যখন বাংলাদেশকে বিনামূল্যে সাবমেরিন ক্যাবলের (সি-মি-উই-২) সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়, তখন এই খালেদা জিয়াই সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। অজুহাত ছিল - ইমেইলের মাধ্যমে দেশের গোপনীয় তথ্য পাচার হয়ে যাবে! পাশের শ্রীলংকা ও ভারত ওই লাইনে ঠিকই যুক্ত হয়। এরপর সিঙ্গাপুর ও ফ্রান্স টেলিকম আরো একটি সাবমেরিন ক্যাবল লাইন (সি-মি-উই-৩) স্থাপনের উদ্যোগ নেয় ১৯৯৪ সালে। বাংলাদেশ সেখানেও যুক্ত হয়নি। অজুহাত ওই একই- দেশের গোপনীয় তথ্য পাচার হয়ে যাবে! এরপর ২০০৬ সালের ২১ মে বাংলাদেশের উপলব্ধি হয় যে, সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া দরকার। আর তাতে খরচ হল দরিদ্র এই দেশের মূল্যবান এক হাজার কোটি টাকা। শ্রেফ এই খালেদা জিয়ার বোকামির চড়া মাশুল।

মানুষের ক্ষোভ কোথায় বিএনপি জানে না
মানুষের ক্ষোভ কোথায়, মানুষের দুঃখ কোথায় - সেটা বিএনপি কখনোই বোঝেনি, বুঝতেও চায়নি। অথচ নিজের একটি বাড়ির জন্য খালেদা জিয়া ঈদের সময়টাতেও হরতাল ডাকতে দ্বিধা করেননি। এখনও যদি জরিপ হয়, এই বাড়ি ইস্যুতে অন্ধ বিএনপি সমর্থক ছাড়া বিএনপিরই সবগুলো ভোট খালেদা পাবেন না। নৃংশসতার নির্মম শিকার এক দরিদ্র কলেজছাত্রকে নিয়ে সাহারা খাতুন আর তার রেব শ্রেফ মাস্তানি করে যাচ্ছে। সেটা নিয়ে বিএনপি চাইলে ক্ষুব্ধ মানুষের মন জয় করতে পারতো। কিন্তু না, তারা আছে তারেক-কোকোর দুর্নীতি মামলা নিয়ে অহর্নিশ কান্নাকাটিতে। কৃষ্ণগহবরের কসম, মানুষের কাছে এইসব ইস্যুর দু পয়সার মূল্য নেই।
শেয়ারবাজারের অরাজকতা নিয়ে ক্ষুব্ধ মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভে ফেটে পড়ছে। লাখ লাখ মানুষ শেয়ার-ডাকাতদের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। সেটা নিয়ে বিএনপির কোনো মাথাব্যাথা নেই। একটি সংবাদ সম্মেলন তারা করেছিল বটে, সেখানেও মূর্খতাই স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়েছে। প্রথমে চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী শেয়ারবাজারের তদন্ত প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করা হল। এর পরপরই আবার তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, তাদের গ্রেপ্তার দাবি করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন যদি প্রত্যাখ্যানই করা হয়, সে অনুযায়ী অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারই বা কেন হবে? শীর্ষ শেয়ার-ডাকাত মোসাদ্দেক আলী ফালু খোদ খালেদা জিয়ার আপনজন। এই মূহুর্তে বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও আওয়ামী লীগের মতোই আচরণ করতো দলটি।



কেন প্রযুক্তি বিরোধিতা?
ই-ভোটিং বা ইলেকট্রনিক ভোটিংয়ের বিরোধিতা কেন? কেন দেশকে টেনে টেনে পিছনে নিয়ে যাওয়া? বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা? নাকি অজ্ঞতা? যদি বিএনপি মনে করে যে, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়, তারা জালিয়াতি করতে পারে, তাহলে আন্দোলন হোক বরং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। কিন্তু প্রযুক্তির বিরোধিতা কেন? প্রযুক্তির যদি কোনো গলদ থাকে, কোনো সীমাবদ্ধতা থাকে, তাহলে সেটা বিএনপির জন্য যেমন সমস্যা, আওয়ামী লীগের জন্যও কি নয়?

নিজেদের অজ্ঞতা-অক্ষমতা ঢাকতে গিয়ে প্রযুক্তির বিরোধিতা করবেন না, নিজ হাতে দেশকে আর পিছিয়ে দেবেন না, হে অষ্টম শ্রেণী!

ই-ভোটিং নিয়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা
চট্টগ্রামের নির্বাচনে ই-ভোট : সফলসূচনা
ই-ভোটিং যুগে বাংলাদেশ
দ্রুত ভোট দ্রুত গণনা
একটি ওয়ার্ডে বোতাম টিপে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন
চট্টগ্রামে ইলেকট্রনিক ভোটের মহড়া
আগামী সংসদ নির্বাচনে বড় পরিসরে ই-ভোট


প্রথম প্রকাশ


সামান্য কজন লোক সবার চোখের সামনে শেয়ারবাজার থেকে লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর সর্বস্ব ছিনিয়ে নিল, সরকার তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল। ৩০ লাখ বিনিয়োগকারীর অনেকে হয়েছে পথের ভিখারী, মানসিক বৈকল্যের শিকার হওয়া অনেকে হয়তো সারাজীবনেও আর সুস্থ হবেন না, কান পাতলে অনেক ঘরে এখনো কান্নার শব্দ শোনা যায়। সরকার বাধ্য হয়ে একটি তদন্ত কমিটি করল। ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে সেই তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিবেদনও দিল। এরপরই শুরু হল সরকারের অবিশ্বাস্য লুকোচুরি। অর্থমন্ত্রী প্রথমে বললেন তদন্ত প্রতিবেদন থেকে কিছু নাম 'ডিলিট' করতে হবে। পরে সেখান থেকে সরে এসে বললেন, কিছু বিষয় পুনঃতদন্ত করতে হবে। এরপর চাপ বাড়তে থাকলে দোহাই দিলেন মুদ্রণকাজে দেরি হওয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তারও পরে আবার নতুন অজুহাত দেখালেন, এসইসি আর বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত লাগবে। আপাদমস্তক দুর্নীতিবাজ যে এসইসির বিরুদ্ধে স্পর্শকাতর সব অভিযোগ আছে ইব্রাহিম খালেদের রিপোর্টে, সেই এসইসির টাউট কর্মকর্তাদেরও মতামত দরকার আমাদের অর্থমন্ত্রীর!

ডাকাত বাঁচাতে সরকারের অবিশ্বাস্য লুকোচুরি
তদন্ত প্রতিবেদনে শেয়ার ডাকাত হিসেবে যদি শুধু বিএনপির মোসাদ্দেক আলী ফালু কিংবা লুৎফর রহমান বাদলের নাম আসতো, তাহলে আমি নিশ্চিত শেয়ারবাজার তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দ্রুততার সঙ্গে প্রকাশ করা হতো, ঢাকঢোল পিটিয়েই। কিন্তু সেখানে সবার আগে জ্বলজ্বল করছে একটি নাম - সালমান এফ রহমান, যিনি একইসঙ্গে শেখ হাসিনা এবং তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। এই বিশেষ কয়েকজন লোককে বাঁচাতে সরকার এখন ৩০ লাখ বিনিয়োগকারী তো বটেই, বলা ভালো জনগণের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে। ওই লোকগুলো কি দেশের চেয়ে বড়ো, দেশের মানুষের চেয়েও বড়ো? একটি প্রতারক প্রতিষ্ঠান বিডিথাই অ্যালুমিনিয়াম তদন্ত কমিটির প্রধানের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করতে পারে? একজন শেয়ার-ডাকাত রকিবুর রহমান কী ভয়ানক স্পর্ধায় হুমকি দিয়ে যেতে পারেন 'এবার খেলা আমিই জমাব!' প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচিত ছিল প্রথমেই তার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। এই লোক '৯৬ সালের কুখ্যাত শেয়ারবাজার ধ্বসেরও অন্যতম হোতা। কিন্তু কোথায় কী! গতকাল সালমান উল্টো হুঙ্কার ছাড়লেন, তার সম্পদের তথ্য কোনোভাবেই প্রকাশ করা যাবে না। করা হলে তিনি মামলা করবেন। সরকার শুধু সালমান এফ রহমানকেই নয়, দুর্নীতিগ্রস্থ এসইসিকেও বাঁচাতে চাইছে একইসঙ্গে। আবার সুযোগ থাকলেও ফালু-বাদল-রকিবুর-নূর আলীদেরও আটকানো যাচ্ছে না, কারণ ওরা সালমানেরই একান্ত সহযোগী। আর এদিকে ইব্রাহিম খালেদকে প্রতারক চক্রটি নানা দিক থেকে একের পর এক আক্রমণ করে যাচ্ছে। আমার ধারণা, এর পেছনেও সরকারের পরোক্ষ মদদ আছে।

জুজুর ভয় দেখিয়ে কতো আর!
অর্থমন্ত্রীকে আমি দোষ দেই না। এই দেশে পদত্যাগ করাকে ভালো চোখে দেখা হয় না পশ্চিমের মতো। অতীতে যতো খারাপ কাজই করুন না কেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল যখন দলে গণতন্ত্রায়নের কথা সাহস করে বললেন, তখন তাকে অভিনন্দন তো দূরের, খোদ বিএনপিও আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে তাকে ধুইয়ে দিল। অথচ মার্কিন মুল্লুকে আমরা দেখি, কী অবলীলায় ডেমোক্র্যাট দলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে দ্বিধায় ভোগেন না সিনেটররাই। সেজন্য কেউ তাদের দুয়ো দেয় না। আমাদের দেশে এই সংস্কৃতি নেই। কাজেই পদত্যাগ না করায় দোষ দেখি না অর্থমন্ত্রীর। তিনি চলেন ওপরের নির্দেশে। এই ওপরমহল থেকে এখন এমনও বলা হচ্ছে যে, শেয়ারবাজারের তদন্ত রিপোর্ট নাকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে বাধাগ্রস্থ করবে। আওয়ামী লীগ এই এক জুজুর ভয় দেখিয়ে আসছে ক্ষমতায় আরোহণের শুরু থেকেই। কিন্তু কতো আর! সবকিছুতেই যদি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্থ হয়, তাহলে মানুষের হাঁটাচলা, যানচলাচল - সবকিছুই বন্ধ করে দিন!

জনতার বিচার সামনে
যদিও বলা হয়ে থাকে, জনগণই যদিও সকল ক্ষমতার উৎস, তবে বাংলাদেশে দু পেয়ে মানুষের চেয়ে তুচ্ছ আর কিছু নেই। তবু জানেন আশা করি, দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া জনতার বিচার একটু ভয়াবহই হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আর খুব বেশি হলে দু বছর!

সংযুক্তি
শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন



প্রথম প্রকাশ


রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদে কারা আছে জানেন? আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। সরকার তাদের পরিচালনা পর্ষদগুলোতে নিয়োগ দিয়েছে যোগ্যতা না থাকার পরও। সবুজকানন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক যেমন আছেন সেখানে, তেমনি আছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতাও। ছাত্রলীগের নেতারা যেমন আছেন, যুবলীগারও কম নয়। এদের প্রায় কারোরই ব্যাংকিং তো নয়ই, এমনকি ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়েও ন্যূনতম ধারণা নেই। পরিচালনা পর্ষদের এইসব সদস্যের মূল কাজ হল অর্থের বিনিময়ে বিশেষ বিশেষ লোককে ঋণ পাইয়ে দেওয়া, বদলি আর পদোন্নতিতে প্রভাব বিস্তার। প্রতিষ্ঠাতা ড. ইউনূসকে সরিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের দখল নিতে সরকার মরিয়া হয়ে ওঠার পর এই প্রশ্ন এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, গ্রামীণ ব্যাংক সরকারের দখলে যাওয়ার পর সফল ওই বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানটির ভাগ্যে কী ঘটবে? তার আগে দেখা যাক, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয়টি ব্যাংকের কী হাল-

অগ্রণী ব্যাংক
চেয়ারম্যান : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক।
পরিচালক :
১. বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি শাহজাদা মহিউদ্দিন
২. যুক্তরাজ্য আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা জাকির আহমেদ
৩. আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক আবদুস সবুর
৪. আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সহসম্পাদক নাগিবুল ইসলাম
৫. সাবেক কমিউনিস্ট নেতা, মণি সিংহ-ফরহাদ স্মৃতি ট্রাস্টের সম্পাদক শেখর দত্ত।
৬. আওয়ামী লীগ সমর্থক আবদুজ জহির চৌধুরী
৭. গ্লোবাল নিউজ এজেন্সির প্রধান সম্পাদক কে এম এন মঞ্জুরুল হক (প্রকৃতপক্ষে গ্লোবাল নিউজ এজেন্সি নামের কোনো সংবাদ সংস্থার অস্তিত্বই নেই)

সোনালী ব্যাংক
চেয়ারম্যান : কাজী বাহারুল ইসলাম (সোনালী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা )
পরিচালক :
১. মাদারীপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি লুত্ফর রহমান খান
২. কক্সবাজারের আওয়ামী লীগ নেতা সাইমুম সরওয়ার
৩. আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কমিটির সদস্য কাশেম হুমায়ুন
৪. সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সত্যেন্দ্র চন্দ্র ভক্ত
৫. সবুজ কানন উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মহিলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক জান্নাত আরা হেনরী (তিনি নবম সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন)
৬. বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি কে এম জামান।
৭. সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুভাষ সিংহ রায়।

জনতা ব্যাংক
চেয়ারম্যান : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবুল বারকাত।
পরিচালক :
১. রাজবাড়ী চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি নজিবর রহমান
২. ছাত্রলীগের সাবেক নেতা বলরাম পোদ্দার।

বেসিক ব্যাংক
চেয়ারম্যান : সাবেক সাংসদ শেখ আবদুল হাই
পরিচালক :
১. চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিম
২. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রাজিয়া বেগম
৩. অর্থ বিভাগের যুগ্ম-সচিব বিজয় ভট্টাচার্য
৪. সাবেক শুল্ক কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি)
পরিচালক :
১. নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া
২. বেসিক ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলাউদ্দিন এ মজিদ

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)
পরিচালক :
১. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও আওয়ামী লীগের সমর্থক রুস্তম আলী আহমেদ
২. কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য খোন্দকার জাহাঙ্গীর কবির।

এই হল অবস্থা! 



এক নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনকে নিয়ে শেখ হাসিনা যখন প্রসন্ন মনে ঘুরছিলেন বইমেলায়, তার কয়েক দিন আগে হাস্যকর সব মামলায় জামিন নিতে দৌড়াচ্ছিলেন ঘরের নোবেলজয়ী ইউনূস। হাসিনার হাসিমুখ দেখে মনে হচ্ছিল, ঘরের লোককে হেনস্তা করায় এতো সুখ!

ইউনূসের ওপর হাসিনার রোষ
২০০৬ সালে নোবেল জয়ের পর থেকেই শেখ হাসিনা কেন যেন রুষ্ট হয়ে পড়েন ড. ইউনূসের ওপর। কথামালায় তার আঁচ পাওয়া যাচ্ছিল, তবে অতোটা নয়। ওয়ান-ইলেভেনের পর ক্ষমতায় এসে হাসিনার মুখের ভাষা একটু একটু করে বিষ ছড়াতে থাকে। ওয়ান-ইলেভেনের সময় ইউনূস একটি দল গঠনের চেষ্টা করেছিলেন, সেটা হয়তো একটি কারণ, তবে মূল কারণ নয়। যদি মূল কারণই হতো, তাহলে ফেরদৌস কোরেশীর এতোদিনে মৃত্যুদণ্ড হওয়ার কথা! নরওয়ে টেলিভিশনে গ্রামীণ ব্যাংকের তহবিল স্থানান্তর-সংক্রান্ত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রচার হওয়ার পর হাসিনা ভদ্রতার মুখোশটা ফেলে স্বমূর্তিতে আবির্ভূত হলেন। প্রধানমন্ত্রীই শুধু নন, তার অমাত্যবর্গও অশ্লীল অশোভন বাক্যবাণে বিদ্ধ করে চলছিলেন ইউনূসকে। ওই যে চাঁদাবাজ ছাত্রলীগ, এমনকি তারাও একপর্যায়ে মামার বাড়ির আবদার জানিয়ে বসল যে, ইউনূসের নোবেল পদক কেড়ে নিতে হবে। মাহবুবুল আলম হানিফ, আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল মুখপাত্র, ইউনূসের বুড়ো আঙ্গুলের নখের যোগ্যতা যার নেই এবং হবেও না এই জীবনে, সেই তিনিও ইউনূসের নামে প্রকাশ-অযোগ্য সব বক্তব্য দিতে লাগলেন। একসময় দেখা গেল, ইউনূসের পক্ষে নরওয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির পরও সরকার ইউনূসের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য দ্রুততায় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে ফেলল। সেটা চলতে চলতেই ইউনূসকে জড়ানো হল একের পর এক হাস্যকর মামলায়, তাও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

আসলে কারণটা কী?
সর্বশেষ ইউনূসকে সরিয়ে দেওয়া হল তার নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক থেকে। এমন অবস্থায় হঠাৎ দৃশ্যপটে নাজিল হলেন হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। দেশ, দেশের ভাষা, সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এই লোকের যোগাযোগ ক্ষীণ বললেই চলে। ইউনূসকে নিয়ে কথা বলার যোগ্যতা তো তার নেই-ই। অথচ এই লোকটিই ইউনূসের কুৎসা গেয়ে দেশে-বিদেশে গণহারে ইমেইল বার্তা পাঠিয়ে চলেছে। জানতে ইচ্ছে করে, জয় এই সরকারের কোন্ পদে আছেন, ইউনূস বিষয়ে জনে জনে ইমেইল করে বেড়ানোর তিনিই বা কে? দৃশ্যত, এক ইউনূসকে হেনস্থা করার জন্য সরকার তার পুরো শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে। আজ মঙ্গলবার দেখেছি, 'সম্ভাব্য গোলযোগ' দমনের নামে গ্রামীণ ব্যাংকের শাখাগুলোর দখল নেওয়ার জন্য পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে, বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, ইউনূস নোবেল জিতেছিলেন বলেই তার ওপর যতো আক্রোশ হাসিনার। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির জন্য শেখ হাসিনা নিজে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার জন্য ব্যয়বহুল করে যাচ্ছিলেন অনেকদিন ধরেই - এই খবর খুব গোপন থাকেনি। অপ্রাপ্তবয়স্কেরও বুঝতে বাকি নেই, ইউনূসকে হেনস্তা করাটা হাসিনার ব্যক্তিগত আক্রোশ ছাড়া আর কিছুই নয়। এটাও একবিন্দু মিথ্যা নয় যে, সারা বিশ্বে জনপ্রিয়তার বিচারে শেখ মুজিবুর রহমানের চেয়ে অনেকগুণ এগিয়ে আছেন ইউনূস। এটাও কি অন্যতম একটি কারণ? কানাডা প্রবাসী এক বাংলাদেশী সেদিন বলছিলেন, ৯০ ভাগ কানাডিয়ান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নামও জানেন না, কিন্তু ড. ইউনূসের নাম তারা জানেন।

সরকারবান্ধব আদালত?
সরকার আইনের দোহাই দিয়ে ইউনূসকে সরিয়েছে, ইউনূসও সেই আইনের কাছেই তার বিচার চাইতে গিয়েছিলেন। টানা তিন দিন আদালতের অস্বাভাবিক আচরণ দেখে ইউনূসের আইনজীবীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, ন্যায়বিচার তারা পাবেন না। ইউনূসের আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ, যিনি নিজেই আওয়ামী লীগ ঘরানার, সেই তিনিই ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন গত সোমবার। আদালত টানা তিনদিন ধরে বিষয়টির ওপর শুনানি গ্রহণ করেছেন। অথচ কোনো রুল দেননি। দেশের সেরা আইনজীবীরা বলছেন, একটি রিটের ওপর এতো দীর্ঘ শুনানি গ্রহণ নজিরবিহীন। হাইকোর্টে সেই নজিরবিহীন কাণ্ড ঘটেছে। আইনজীবীদের আশঙ্কাকে সত্যি প্রমাণ করে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অপসারণের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা দুটি রিট খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। ইউনূসের আইনজীবী সারা হোসেন বলেছেন, 'আজ বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি দুঃখের দিন। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি অবৈধ নোটিশকে আদালত আজ বৈধতা দিলো। গত কয়েকদিন শুনানির সময় আমরা যে আশঙ্কা করেছিলাম, আজ রিট খারিজের মধ্য দিয়ে তা সত্যি প্রমাণিত হলো।' শেখ হাসিনা ও তার পারিষদ যখন নিজেই ড. ইউনূসের বিপক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন, তখন আদালতের কি বিপক্ষে যাওয়ার শক্তি কিংবা সাহস আছে? বিচার বিভাগ যদিও 'স্বাধীন', তবু সচরাচর সরকারকে তারা চটায় না। বিচার বিভাগ আলাদা হওয়ার পর এমন একটি উদাহরণও আমি খুঁজে পাচ্ছি না, যেখানে আদালত সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। হতে পারে, উদাহরণ খুঁজে না পাওয়াটা আমার নিজেরই অক্ষমতা।

আওয়ামীকরণ প্রকল্প
গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা আছে, অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো ভিত্তিহীনও নয়। তবু মনে রাখতে হবে, অনেক ত্রুটি-বিচ্যূতি সত্ত্বেও দারিদ্র বিমোচনে গ্রামীণ ব্যাংকের অবদান অসামান্য - সেটা শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও। বিশ্বের কোটি কোটি লোক এই গ্রামীণ ব্যাংক ও ইউনূসের মাধ্যমে তৃতীয় বিশ্বের এই ক্ষুদ্র দেশটাকে চিনেছে। গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের অংশীদারিত্ব আছে বটে, তবে ব্যাংকটা একান্তই ইউনূসের ব্রেইন চাইল্ড, তার সারাজীবনের স্বপ্ন। সুতরাং গ্রামীণ ব্যাংকে ইউনূসের থাকা-না থাকা হেলাফেলার কোনো বিষয় নয়। ইউনূসের মতো লোকের জন্য বয়স কোনো অজুহাত হতে পারে না। সরকার নিজেদের ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থেও প্রচলিত বহু আইন সংশোধন করেছে ইতিপূর্বে, এই জায়গায় আইনও সম্ভবত সংশোধন করার প্রয়োজন পড়বে না, শুধু একটি আদেশই যথেষ্ট। সেটাও যদি সরকারের জন্য কষ্টকর হয়, তারা একজন বাংলাদেশের একমাত্র নোবেলবিজয়ীকে সম্মানজনকভাবে বিদায় দিতে পারতো। কারণ এর সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তি যেমন, তেমনি গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত কয়েক কোটি মানুষের স্বার্থও জড়িত। এই ঘটনায় আমরা দেখলাম সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি বেশিরভাগ আওয়ামী সমর্থকও সরকারের পক্ষে নেই। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা ইতিমধ্যে যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, সেটা অভূতপূর্ব। তবু লক্ষণ দেখে মনে হচ্ছে, গ্রামীণ ব্যাংককে পুরো আওয়ামীকরণ না করে এই সরকার থামবে না।

শেষপর্যন্ত এটা রাষ্ট্রীয় মাস্তানিই...
এই পোড়ার দেশে কৃতীর সম্মান নেই - এটা ঐতিহ্যবাহী প্রথা। নতুন করে সেটা আরো একবার জানা হল কেবল। এক ইউনূসকে সরানোর জন্য সরকার আইনের দোহাই দিচ্ছে, কুৎসা গেয়ে বেড়াচ্ছে দেশজুড়ে, কিন্তু না হাসিনা, আপনার নেতৃত্বে এটা রাষ্ট্রীয় মাস্তানিই এবং নিশ্চিতভাবেই আপনার ব্যক্তিগত আক্রোশ। অতিঅবশ্যই এটা আমরা মানছি না। আপনি জানেন, মনের ওপর আওয়ামী মাস্তানি অকার্যকর। 



স্কুলে ভাষণ দিতে গিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী গতকালও সেই একই শিবের গীত গাইলেন এই বলে- 'একটি কুচক্রী মহল বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করতে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ও মহাজোট সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন থামিয়ে দিতে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।'

সেই একই রেকর্ড...
শুনে আসছি গত দু বছর ধরে। সরকার, বলা ভালো আওয়ামী লীগের বিপক্ষে কেউ অবস্থান নিলেই 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতেই' কিংবা 'ধারাবাহিক উন্নয়ন থামিয়ে দিতেই এই অপচেষ্টা' বলে হুঙ্কার ছাড়েন সরকারের প্রধান থেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরাও। প্রতিমন্ত্রীর দেখছি অতো সাহস নেই। আড়িয়ল বিলের দিকে যেতে পারছেন না। উস্কানিমূলক বক্তব্য-টক্তব্য দিয়ে ঘুরে আসছেন আশেপাশের এলাকা থেকে। তার আগেই আড়িয়ল বিলে মানুষের পিঠ ঠেকে গেছে দেয়ালে। নারীরা ঝাড়ু নিয়ে তৈরি, তরুণদের মাথায় কাফনের কাপড় আর হাতে লাঠি, এমনকি যে বৃদ্ধার চলার শক্তিও নেই তিনিও দা হাতে পাহারা দিচ্ছেন নিজেদের ভূমিটুকু। এদের কারোরই রাজনৈতিক পরিচয় নেই, বেশিরভাগই নির্দলীয়। এই লোকগুলোর সামনে দাঁড়ানোর সাহস নেই সরকারের। তারা পারছে শুধু নিরীহ মানুষগুলোর ওপর পুলিশ লেলিয়ে দিতে, নিরীহ মানুষগুলোকে মামলার পর মামলা দিয়ে হয়রানি করতে। সবমিলিয়ে সরকারের অবস্থান জনতার বিপক্ষে, জনমতের বিরুদ্ধে। আচরণ পুরো মাফিয়ার মতো।

অথচ ভালো যুক্তি নেই একটিও
দেখবেন, বিমানবন্দর স্থাপনের পক্ষে সরকারের হাতে ভালো যুক্তিও নেই। বিমানসচিব যুক্তি দেখিয়েছেন, ঢাকায় যেহেতু একটিমাত্র রানওয়ে, ফলে কোনো বিমান দুর্ঘটনায় পড়লে ভবিষ্যতে সমস্যা হবে। আর 'সমস্যা' হবে বলে ঢাকা বিমানবন্দরের পাশেই দ্বিতীয় আরেকটি রানওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ না নিয়ে ২৫ হাজার একর ভূমি নষ্ট করে ১০ লাখ মানুষকে কর্মহীন করে দিয়ে আরেকটি বিমানবন্দর বানাতে হবে, তাও ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে? এমন তো নয় যে, ঢাকা বিমানবন্দরের পাশে জায়গা নেই। জায়গা যথেষ্টই আছে, নইলে পাশের ১৩০ একর জমি শ্রেফ লুটেপুটে খাওয়ার জন্য কিভাবে তুলে দেওয়া হল নামসর্বস্ব এক প্রতিষ্ঠানের কাছে? আর রানওয়ের অজুহাত যদি জীবিত রাখাও হয়, তাহলে উদাহরণ হিসেবে জানানো যায়, জাপানের নারিতা বিমানবন্দরেও রানওয়ে একটি। নারিতার তুলনায় ঢাকা বিমানবন্দর নিতান্তই মফস্বলস্থানীয়। ফলে বোঝা যায়, এটা কোনো ভালো কাজ নয়, বরং জনগণের অর্থের অপব্যবহার। এদিকে আমরা দেখছি, বিমানবন্দরই শুধু নয় নিরীহ কৃষককে আরো বিপদে ফেলে বিশাল 'বঙ্গবন্ধু সিটি' করারও উদ্যোগ আছে সরকারের।

যেখানে মানুষের চেয়ে পরিবার বড়ো
আড়িয়ল বিলে বিমানবন্দর স্থাপনের এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক একটি ইচ্ছা - তাতে কোনোই সন্দেহ নেই। শুধু পিতার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য শেখ হাসিনা ও তার সরকার কয়েক শত বছরের ঐতিহ্যবাহী জলাশয় ও আড়িয়ল বিলকে বিপন্ন করতে চাইছে। বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর আর বঙ্গবন্ধু সিটি যদি বাস্তবায়িত হয়েই যায়, হাজার হাজার মানুষ যে নিজেদের ভূমি থেকে উচ্ছেদের শিকার হবে তা শুধু নয়, ঢাকা ও মুন্সিগঞ্জ জেলার তিন উপজেলায় বিস্তৃত মধ্যাঞ্চলের সবচেয়ে বড় জলাধারটির প্রায় পুরোটা শেষ হয়ে যাবে। ঢাকার আশপাশে বন্যার প্রকোপও আরো বাড়বে। সরকার সেসব নিয়ে ভাবছে না।
শীতটা কেটে গেলেই আবার নামবে ভ্যাপসা গরম। বাড়বে বিদ্যুতের চাহিদা। উৎপাদন যেহেতু মোট চাহিদার ভগ্নাংশের সমপরিমাণ, সুতরাং জনজীবনে শীঘ্রই নেমে আসবে সেই পুরনো হাহাকার। সরকারের নজর সেদিকে নেই। বিদ্যুতের টাওয়ারের নাম তো আর বঙ্গবন্ধুর নামে করা যায় না, শোভনও নয়! সুতরাং বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয়, বানাও বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর, বানাও ফজিলাতুন্নেসা নৌবন্দর...

জনতার বিপক্ষে জনমতের বিরুদ্ধে
বঙ্গবন্ধুকে আমরা শ্রদ্ধা করি, বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়ের নায়ক ছিলেন তিনি। কিন্তু গরিব মানুষের ভিটেবাড়ি কেড়ে নিয়ে যে বঙ্গবন্ধুর 'নাম প্রতিষ্ঠা'র উদ্যোগ নিতে হয়, সেই বঙ্গবন্ধুকে আমরা চিনি না, সেই বঙ্গবন্ধু আমাদের লোক নন! যে সরকার জনতার বিপক্ষে জনমতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, সেই সরকারও আমাদের নয়।

জীবন যায়, যাক দু একটা, তবু রুখে দিন নামকরণের জন্য মরিয়া এই ম্যানিয়াকদের। 



ব্লগারদের যতো উদ্যোগ, সেখানে নেতা-টেতা গোছের কাউকে দেখা যায় না। সবাই যার যার মতো অংশ নিয়ে থাকেন। ব্লগাররাই সেখানকার প্রাণ। সিদ্ধান্ত যা নেওয়ার, সেসবও ব্লগাররাই নেন। ব্লগের উদ্যোগে ব্লগাররাই সম্পৃক্ত হবেন - সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা দেখলাম, সাধারণ মানুষের আবেগকে পুঁজি করে হঠাৎ উদিত হল এক মানববন্ধন কর্মসূচি। হুটহাট তার একটি কমিটি গঠিত হয়ে গেল। সেই কমিটিতে কারা কারা আছেন, সেটা জানার উপায় নেই। তাহলে এই মানববন্ধনের উদ্যোক্তা কারা? উদ্যোক্তা হিসেবে যোগাযোগের জন্য দুজনের নাম আর মোবাইল নম্বর কিছুক্ষণ আগেও স্টিকি পোস্টে আমরা দেখেছি। এদের একজন সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট মঈনুল করিম জাতীয়ভাবে পরিচিত কেউ নন। তবে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, তিনি জামায়াত সমর্থক একজন আইনজীবী। কিছুক্ষণ আগে দেখলাম, এই লোকের নাম স্টিকি পোস্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মানব বন্ধন আয়োজক কমিটির সহ-আহবায়ক হিসেবে বাকি যে লোকের নাম এখনো স্টিকি পোস্টে ঝুলছে - হেলাল এম রহমান, এই লোকও ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত। এই লিংকে ক্লিক করে নিচের দিকে শেষ তিনটি মন্তব্য দেখুন।


এদের সঙ্গে, এই মানববন্ধনের সঙ্গে ব্লগ আর ব্লগারদের সম্পর্ক কী? স্টিকি পোস্টে উল্লেখিত এই অনুষ্ঠানসূচিইবা প্রণয়ন করলো কারা? একটু ভালোভাবে লক্ষ্য করলেই বোঝা যায়, সাধারণ মানুষের ভারত বিরোধী আবেগকে পুঁজি করে সামহোয়্যারের মতো একটি জায়গায় মূলত মৌলবাদীরাই মহড়াই দিচ্ছে। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণ থেকে এটা স্পষ্ট যে, এই আয়োজন, প্রেসক্লাবের সামনে আহূত এই মানববন্ধনের নেপথ্যে সক্রিয় রয়েছে জামায়াত ও ছাত্রশিবির।

সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের জঘন্য মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড কোনো বিবেকবান মানুষের পক্ষেই সমর্থন করা সম্ভব নয়। ফেলানী হত্যার ঘটনায় ভারত ইতিমধ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছে, সেটা যথেষ্ট নয়, তাদের ক্ষমা চাইতে হবে আনুষ্ঠানিকভাবে। এবং সেই সঙ্গে ফেলানীসহ সীমান্তে বিএসএফের হাতে খুন হওয়া প্রতিটি বাংলাদেশী হত্যার বিচার করতে হবে। এই দাবি বাংলাদেশের প্রতিটি বিবেকবান মানুষের। কিন্তু যথেষ্ট সতর্কতার সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে, এই দাবি জানাতে গিয়ে আমরা, সাধারণ ব্লগাররা যেন মৌলবাদীদের স্বার্থে ব্যবহৃত না হই। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, জামায়াত-শিবিরের মতো মৌলবাদী চক্র যেন সাধারণের ব্লগের মতো প্রগতিশীল ক্ষেত্রকে তাদের হীনস্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে। লক্ষ্য করবেন, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তকাজ শুরু হওয়ার পর জামায়াত-শিবিরসহ মৌলবাদী যে চক্রটি স্পষ্টতই বিপাকে পড়েছে, তারা এখন সুকৌশলে বিভিন্নভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিভিন্ন স্পর্শকাতর ইস্যুতে সাধারণ মানুষের আবেগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে, বাস্তবে যেমন, এমনকি ভার্চুয়াল ভুবনেও। আগামীকালের মানববন্ধন কর্মসূচি তারই একটি অংশ। দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, সামহোয়্যারের মতো একটি প্রগতিশীল প্রতিষ্ঠান নিজেদের অজান্তেই মৌলবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। যার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ বর্তমান স্টিকি পোস্টটি।

ভারতীয় বিএসএফের জঘন্য হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ প্রয়োজনে রাস্তায় একা দাঁড়িয়ে করুন, পাশে থাকবো, কিন্তু যে মানববন্ধন আয়োজনের নেপথ্যে জামায়াত-শিবির সক্রিয় সেখানে কিছুতেই নয় - হোক সেটা প্রেসক্লাবে, হোক সেটা রমনা উদ্যানে। প্রিয় ব্লগার, দেশের জন্য আপনার আবেগ মূল্যহীন নয়, মৌলবাদীদের হাতে এর অপব্যবহার হতে দেবেন না।

প্রতিক্রিয়া পোস্ট : পক্ষে-বিপক্ষে
২১ শে জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে- আসবেন তো সবাই?
জামাত শিবিরের স্টিকি পোস্ট সরানো হোক
২১ জানুয়ারির মানববন্ধন নিয়া বিভ্রান্তি, অপপ্রচার ও চক্রান্ত
সাধারন মানুষের সেন্টিমেন্টের কান্ধে বন্ধুক ফালাইয়া গুলি করতাছে ছুপা ছাগুরা ..ভালু ভালু
ফিউশন ফাইভ ভাইকে বলছি, দেশকে ভালবাসলে সামনে আসুন
দলমত নির্বিশেষে কাল মানববন্ধনে আসুন (ছাগুরা পিঠে ছালা বাইন্ধা আসতে ভুইলো না)
স্টিকি পোস্টে যে কথাগুলো বলা যায় না
প্রসংগঃ মানববন্ধন ও এর বিরোধিতা...
স্টিকি পোস্ট বিতর্কের সর্বশেষ আপডেট
যারা আসার তাঁরা আসবেন......সময় এবং আন্দোলন কারো জন্য যেমন বসে থাকেনা, তেমন কারো নেতৃত্বের জন্যও অপেক্ষা করেনা
জামাত শিবিরের পোস্ট স্টিকি রাখতে কর্তৃপক্ষের প্রতিজ্ঞা!
আসুন তায়েফ কে বীরশ্রেষ্ঠ আর ফিউশন ফাইভকে রাজাকার এর ব্যাজ পরিয়ে দিই
আগামিকাল দুটি মানববন্ধন এর আয়োজন করা হোক
বিএসএফ এর দালাল প্রথম আলোর সাংবাদিকের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশী আশা করিনি
আসুন পাগলদের একটা লিষ্ট তৈরি করি,অতপর বয়কট করি..
স্টিকি পোস্টের বিষয়ে যেমন ব্যক্তি জানাকে বা প্রতিষ্ঠান সামুকে দোষারোপ করা যায়না তেমনি পোস্ট সরাতেও তাদের কার্পন্য করা উচিত নয়
শিবির চেনার নতুন তরিকা.. বেশি কষ্ট করতে হবে না.. শুধু 'ভাদা' শব্দটা খুঁজে দেখুন এদের কমেন্টে
শিবির চেনার নতুন তরিকা.. বেশি কষ্ট করতে হবে না.. শুধু 'ভাদা' শব্দটা খুঁজে দেখুন এদের কমেন্টে
নব বন্ধন হোক, তবে সেটা হোক রাজনীতিমুক্ত অহিংস মানবতাবাদী আন্দোলন
বিদায় সামু...


প্রথম প্রকাশ



গতকালই বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত হয়েছিল আমাদের হতভাগা বোন ফেলানীকে নিয়ে ব্লগারদের ব্যবহার করে জামায়াত-শিবিরের ঘৃণ্য তৎপরতার কথা। এর প্রতিক্রিয়ায় মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিসহ সাধারণ ব্লগাররা ঢাকা প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত আজকের তথাকথিত মানববন্ধন (আসলে ছিল ঘরবন্দি জামায়াতের শোডাউনের চেষ্টা) প্রত্যাখ্যান করেছেন। আমরা টুপিখোলা অভিনন্দন জানাই সেই সব ব্লগারদের, যারা জামায়াতিদের পাতা ফাঁদে পা দেননি। এই প্রত্যাখান অভূতপূর্ব।

জামায়াতি এই বন্ধনের ফলাফল কী হল?
আজকের এই মানববন্ধনের ফলাফল কী? একটা বড়োসড়ো শূন্য। বরং এই মানববন্ধন যেহেতু জামায়াতিরা করেছে বলে চারদিকে চাউর হয়েছে, সরকার একে দু পয়সার মূল্যও দেবে না। এইখানে উল্টো একটা ক্ষতি হয়ে গেল। তবে তার চেয়ে ক্ষতি হয়েছে জামায়াত-শিবিরের নেপথ্য আয়োজকদের। দলীয় কর্মসূচিতে ব্লগারদের ব্যবহার করার যে আশা তারা করেছিল, সেটা পুরো মাঠে মারা গেছে। মানববন্ধনের প্রকৃত রহস্য প্রকাশ পাওয়ার পর স্টিকি পোস্ট থেকে জামায়াতের আয়োজকদের নাম মুছে, পুরো পরিকল্পনায় রাতারাতি যোজন-বিয়োজন-পরিবর্তন ঘটিয়ে নিজেদের আড়াল করার জন্য যথেষ্ট কসরত করতে হয়েছে তাদের।

কারা ছিল আজকের ছাগবন্ধনে?
মানববন্ধনে যাওয়া হাতেগোনা যে কজন ব্লগার হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন পোস্টে পোস্টে, দু একজন ছাড়া তাদের সবাই জামায়াত সমর্থক কিংবা শিবির কর্মী হিসেবে ব্লগে অনেকদিন ধরে চিহ্নিত। আর মাত্র তিনজনের ব্যাপারে বলতে পারি, তারা শ্রেফ বিভ্রান্ত হয়ে কিংবা আয়োজকদের সম্পর্কে না জেনে সেখানে হাজির হয়েছিলেন। ব্লগার কৌশিকের নাম আমরা দেখেছি। তিনি মূলত গিয়েছিলেন মোশরেফা মিশুকে আয়োজিত এক মানববন্ধনে অংশ নিতে, যা আয়োজিত হয়েছিল আজকের জামায়াতি মানববন্ধনের পাশেই। নিতান্ত কৌতূহলবশত তিনি ঢুঁ মেরেছিলেন ছাগবন্ধনে। ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কয়েকজন মেয়েকে সামনে রেখে আরেক কৌতুককর কাণ্ড করার চেষ্টাও করেছিল দেখছি।

স্টিকি পোস্টে দলীয় প্রচারণা
স্টিকি পোস্ট এডিট করে দলীয় প্রচারণা চালানো যায় কিনা - সেটা একটা বড়ো প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্লগাররা জানেন, স্টিকি পোস্টের লেখক তায়েফ আহমেদ কর্তৃপক্ষের সরলতার সুযোগ নিয়ে পোস্ট এডিট করে দুজন জামায়াত-শিবির নেতার নাম ও ফোন নম্বর যুক্ত করেছিলেন। ব্লগার সামী মিয়াদাদ এ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের অবতারণা করেছেন এই পোস্টে। প্রসঙ্গত, এর আগে ২০০৮ সালে প্রায় এই ধরনের কাজ করার অভিযোগে ব্লগার এস্কিমো ও রাশেদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।

ভারতীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা সবাই
ভারতের দাদাগিরি আর সীমান্তে বিএসএফের অব্যাহত সন্ত্রাসের প্রতিবাদ নিয়ে কারোরই কোনো দ্বিমত নেই। তবে এর প্রতিবাদে জামায়াতিরা খোলা রাস্তায় মলত্যাগ করে আসলে, আমরা মনে করি না তার জবাব হিসেবে পাল্টা মলত্যাগ করে আসতে হবে। মূল প্রশ্নটা হচ্ছে, স্বাধীনতাবিরোধী ঘৃণ্য জামায়াতিদের সঙ্গে আমরা এককাতারে শামিল হতে পারি কিনা। একজন জিজ্ঞেস করেছিলেন, একজন পতিতা যদি ভারতবিরোধী আন্দোলনে নামে, তার সঙ্গে যাবো কিনা। বলেছি, পতিতার সঙ্গেও প্রতিবাদে শামিল হতে রাজি, কিন্তু ঘৃণ্য জামায়াতিদের সঙ্গে কিছুতেই না, কখনোই না - যে বেশেই তারা আসুক না কেন।

তবে ঘৃণ্য স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে কিছুতেই না
এই ঘৃণ্য জামায়াতিরা একাত্তরে আমার দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করতে গিয়ে গণহত্যাসহ এমন কোনো উপায় নেই যা অবলম্বন করেনি। আজ তারা সাধারণ মানুষের ভারতবিরোধী মনোভাবকে পুঁজি করে দেশপ্রেমের প্রদর্শনী করতে চাইছে - এর থেকে হাস্যকর, এর চাইতে ভণ্ডামি আর কী হতে পারে? দেরিতে হলেও সাধারণ ব্লগাররা জামাতিদের ভণ্ডামির স্বরূপ বুঝতে পেরেছেন।
যে যেভাবে পারি, যার যার অবস্থান থেকে সীমান্তে বিএসএফের অব্যাহত সন্ত্রাসের প্রতিবাদ করে যাবো। ভারতকে এজন্য শুধু দুঃখ প্রকাশ করলেই হবে না, আনুষ্ঠানিকভাবে চাইতে হবে ক্ষমা। আর এই যাবত বিএসএফের হাতে আমার দেশের যতো মানুষ খুন হয়েছে, প্রতিটি হত্যার বিচার করতে হবে। তবে শুধু মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতাবিরোধী ধর্মব্যবসায়ী ঘৃণ্য জামায়াতিদের সঙ্গে কিছুতেই নয়, কখনোই নয়।

প্রতিক্রিয়া পোস্ট : পক্ষে-বিপক্ষে
জামায়াতের প্রতি সমবেদনা
জাশিদের জন্য দুঃখ হলো। একটা মানব বন্ধন সেটাও নিজেদের ব্যানারে করতে পারলো না
শত শত ছাগলের প্রতিবাদী ল্যাদাতে সফল হলো আজকের ছাগ বন্ধন
সাইবার ক্যাম্পেইন থেকে রাজপথে মাইকিং.. বাংলার তারুন্যের ঐক্যের মানববন্ধন
ছবিব্লগ : প্রেসক্লাবে আজকের মানববন্ধন অবশেষে সফল হল...
ল্যাঞ্জা দেখান, গেলমান হোন। জাতীয় প্রেসক্লাব হোক আজ মগবাজারীদের ল্যাদানিস্থান
সুশীল যে কারণে দেখতে পারি না
ফেলানি মানববন্ধন : কিছু রহস্য যার উত্তর খুঁজে ফিরি
ফিউশন ফাইভ বোমা
সফল মানববন্ধন : ছবিব্লগ
আজকের মানববন্ধনে আপুদের (বোরখা ছাড়া) উপস্থিতি কি প্রমান করলো এটা ছাগুদরের মানববন্ধন?? (উৎসর্গ ফিফা দাদাকে)
চলমান যুদ্ধাপরাধী বিচার প্রক্রিয়া রূদ্ধ করার হাস্যকর প্রচেষ্টা এই 'ভারত পাকিস্তান সমান অপরাধী' প্রপাগান্ডা!
ব্লগার মুন্সিয়ানা, শ মশীর, কৌশিক, স্পেলবাইন্ডার, খোমেনী এহসান, শিপুভাই...
স্টিকি-পরবর্তী সময়ে পোষ্টে গুরুত্বপূর্ন তথ্য সংযোগ কতটুকু নৈতিক?
কেন আমি আইজকার মানব{ছাগ}বন্ধনে যাই নাই
ফিকশন পাইপ ভাইকে বলছি, আমাদের ভালবাসলে সামনে আসুন ,একসাথে কাডল পাতার ভাগ দিমু


প্রথম প্রকাশ

উইকিপিডিয়ার মতে, পঞ্জিকা বা ক্যালেন্ডার হল দিনসমূহকে হিসাব করার জন্য ব্যবহৃত পদ্ধতি। নতুন বছরে সরকার ও আওয়ামী লীগ দিনসমূহকে কিভাবে হিসাব করতে পারে, কিভাবে ব্যবহার করতে পারে—সেটা নিয়ে গবেষণায় মেতেছিলাম। তারই ফলাফল এই ক্যালেন্ডার—২০১১ সালের। অবশ্যই সারা বছর সংগ্রহে রাখার মতো।

তারিখ — ইভেন্ট
১ — যথারীতি নৌকা মার্কা দিয়ে শুরু...
৩ — অবশ্যই গোপালগঞ্জ, জেয়ারত, পুষ্পাঞ্জলি...
৫ — দেশে উন্নয়নের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে আর যাচ্ছে...
৭ — ঘন ঘন বিদেশ ভ্রমণ খুবই জরুরি...
৯ — লোডশেডিং জীবনের অনিবার্য সঙ্গী...
১১ — পরিবারতন্ত্র আছে, থাকবে...
১৩ — আরো ভিত্তিপ্রস্তর - আরো নামকরণ...
১৫ — শোক দিবস পালন...
১৭ — আরো বেশি বৈদেশিক ঋণ সংগ্রহের চেষ্টা
১৯ — সংসদে খিস্তিখেউড়
২১ — বেচারা এরশাদের হতাশা নিরসন
২২-২৩ — ছাত্রলীগের ক্যাম্পাসভিত্তিক নিবিড় অনুশীলন চলবেই
২৫ — চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি থাকবেই
২৭-২৮ — বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের নির্বিচার গ্রেপ্তার-ধরপাকড়
২৯ — টেলিভিশনে আত্মপ্রচার চলবেই
৩১ — যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিচার আবহ তৈরি অব্যাহত থাকবেই
১ — বিরোধীদলকে দোষারোপ
২ — 'সব দোষ বিরোধীদলের', হ্যাঁ ওই বিরোধী দলেরই...
৩ — আরো বেশি ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার চেষ্টা
৪ — পূর্ণ অমাবস্যা...

মোহতারাম...
ক্যালেন্ডারটা বড়ো আকারে দেখার ইচ্ছে আপনার হতেই পারে। সেক্ষেত্রে ঠিক এই জায়গায় ক্লিক করা কি খুব পরিশ্রমের কাজ হবে, হে মোহতারাম?


প্রথম প্রকাশ

নতুন বছরে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির নিজস্ব ক্যালেন্ডারটি কেমন হতে পারে—এ বিষয়ক নাতিদীর্ঘ গবেষণার ফলাফল এই পোস্ট। এর আগে একইরকম গবেষণা হয়েছিল আরেকটি ক্যালেন্ডার নিয়ে। তার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছিল গতকাল। এবার দেখুন ২০১১ সালের সহীহ্ সচিত্র জাতীয়তাবাদী ক্যালেন্ডার। অবশ্যই সারা বছর সংগ্রহে রাখার মতো।

তারিখ — জাতীয়তাবাদী ইভেন্ট
১ — যথারীতি ধানের শীষ দিয়ে শুরু...
৩ — অবশ্যই বগুড়া, সঙ্গে চন্দ্রিমা উদ্যান, পুষ্পাঞ্জলি...
৫ — দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যাচ্ছে আর যাচ্ছে...
....
৩ — যেনতেনভাবে ক্ষমতা যাওয়ার চেষ্টা
৪ — এবং যথারীতি পূর্ণ অমাবস্যা...

মোহতারাম...
এই ক্যালেন্ডারটাও বড়ো আকারে দেখার ইচ্ছে আপনার হতেই পারে। সেক্ষেত্রে ঠিক এই জায়গায় ক্লিক করা খুব পরিশ্রমের কাজ হবে, আশা করি!


প্রথম প্রকাশ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বার্বার পুলিশী তল্লাশির প্রতিবাদে আজ রাজধানীতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের্হয়েছিল। নতুন কেনা মোবাইল ফিলিপস ডিগায় সদ্য তোলা সেই বিক্ষোভ মিছিলের একটি ছবি সহ-ব্লগার্দের্সঙ্গে শেয়ার্কর্লাম।


ধন্যবাদ।

---
ছবিটি বড়ো আকারে দেখার্জন্য এইখানে ক্লিক কর্তে হবে।


প্রথম প্রকাশ

কোরবানির ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত সুপার-ডুপার হিট সিনেমা 'ঘর আমার ঘর'। তবে একজন পরিচালক চাইলেই তার সিনেমার সব দৃশ্য দর্শককে দেখাতে পারেন না, যেখানে সেন্সর বোর্ডের কাঁচি সদা প্রস্তুত। যা হোক, কথা আর না বাড়াই। 'ঘর আমার ঘর'-এর আনসেন্সরড ভার্সনের শুভ প্রিমিয়ার ব্লগেই হোক। মূলটা দেখতে চাইলে আজকের রস+আলো তো আছেই, নিচের সংযুক্তিগুলো দেখলেও চলবে।


সংযুক্তি
১. ই-প্রথম আলোতে মূল পাতা
২. দৈনিক আমাদের সময়ে প্রকাশিত সংবাদ
৩. ফিউশন ফাইভের পরিকল্পনায় নতুন ছবি "ঘর আমার ঘর"
৪. খালেদা জিয়ার বাড়ী ছাড়া নিয়ে রস+আলো এর পোস্টার
৫. আওয়ামী লীগের 'রাজনৈতিক মুখপাত্র'-এর দায়িত্বে দৈনিক প্রথম আলো
৬. আম্মা আমার ঘর ফিরাইয়া দে
৭. আসুন বাস্তুহারা লেদা-বিবির প্রতি একটু দয়া করে...
৮. নয়া ছিঃনেমা : ঘর আমার ঘর : হোয়েন শি লেফট দি হাইজ
৯. আসিতেছে ........
১০. ফেসবুক ফ্যান পেইজ
১১. ফেসবুক ওয়াল


প্রথম প্রকাশ

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া শুরুর পর জামায়াত নেতা, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে, তারা যে মরিয়া হয়ে আবোলতাবোল বকবে- এটা অনুমান করা গিয়েছিল আগেই। যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদের মুখে যখন বিলাপ শোনা যায়, 'রাজনৈতিক জিঘাংসা চরিতার্থ করতেই সরকার এই বিচার করছে' - তখন প্রত্যুত্তরও তৈরি থাকে- 'সিটিএন'- ুদার টাইম নাইক্যা!

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সরকারের বাজেট ১০ কোটি টাকা। নিজের বাপ-ভাই-মা-বোনের নামে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনার সাইনবোর্ড বদল বাবদ বিস্তর অর্থ খরচ করে সরকার শেষমেশ এই টাকা জোগাড় করতে পেরেছে! অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় জামায়াতের বাজেট ১০০ কোটি টাকা। সেটাই স্বাভাবিক। কারণ বিচার নিয়ে মাথাব্যাথা একান্তই জামায়াতের, যেহেতু দলটির গায়ে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের কড়া গন্ধ জড়িয়ে আছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই ইস্যুতে বিএনপি কেন জামায়াতের ধ্বজা ধরছে? যুদ্ধাপরাধের মতো একটি স্পর্শকাতর ইস্যুর সঙ্গে বিএনপি কেন গায়ে পড়ে জড়িয়ে যাচ্ছে? খন্দকার মোশাররফ কিংবা খন্দকার দেলোয়ার কেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বারবার বাগড়া দিচ্ছেন? বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন গতকাল বললেন, 'যুদ্ধাপরাধীর বিচারের নামে সরকার আজ যে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে, তা কোনোভাবে দেশের মানুষ মেনে নেবে না।' তারও আগে বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন প্রচুর বাজে কথা বলেছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সরাসরি বিএনপি শিবির থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিপক্ষে নানা ধরনের অশালীন উক্তি তো করেই যাচ্ছেন। বিএনপি কেন এই যুদ্ধাপরাধীকে দলের ছায়া ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে?

দলটির শীর্ষ নেতারা কি জানেন না, এই বিচারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু মানুষের আবেগ, যাদের এক-পঞ্চমাংশ লোকও হয়তো আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে না, দু চোখে দেখতে পারে না কালো কোটধারীদের? আমরা যারা আওয়ামী লীগের একনায়কসুলভ আচরণের বিরোধী, দ্বিতীয় প্রধান দল হিসেবে আমাদের অনেকেরই সহানুভূতি বিএনপির দিকে যাওয়ার কথা। কিন্তু লক্ষ্য করে দেখেছি, শেষ পর্যন্ত সেটা যায় না। যুদ্ধাপরাধীদের আঁচলের নিচে আশ্রয় দিয়ে, দুধ-কলা দিয়ে তাদের পুষে বিএনপি কিভাবে আশা করতে পারে যে, এই প্রজন্মের সমর্থন তারা পাবে?

বিএনপি বোধহয় বড়ো একটা ভুল করতে যাচ্ছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত পশুদের বিচার চাই। এই একটা জায়গায় কোনো আপোষ নেই, কোনো ক্ষমা নাই - নো মার্সি!

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bnpwar crimejamatjamaatjamaat-e-islami1971muktijuddhoindependence wartrial of war criminalswar criminal ;

প্রথম প্রকাশ

ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহবায়ক ডা. এম এ হাসান অসামান্য এক মানুষ। দিনের পর দিন অসীম ধৈর্য্য নিয়ে তিনি সংগ্রহ করেছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে নানা তথ্য, উপাত্ত, প্রামাণ্য দলিল। কদিন আগে এই সবকিছু তিনি হস্তান্তর করেছেন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ তদন্তে গঠিত ট্রাইব্যুনালের কাছে। নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রাজাকার, আলবদর ও শান্তি কমিটির সদস্যদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকাটি গুরুত্বপূর্ণ নিঃসন্দেহে। এই তালিকার ওপর নির্ভরও করা যায়। তবে একটা কিন্তু আছে!

গোটা ফরিদপুর অঞ্চল খুঁজেও শেখ হাসিনার বেয়াই বর্তমান শ্রম ও জনশক্তিমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পিতা নুরু মিয়া, যিনি একাত্তরে শান্তি কমিটির স্থানীয় চেয়ারম্যান ছিলেন, তার নাম ওই তালিকায় খুঁজে পেলাম না! ফরিদপুর জেলায় শান্তি কমিটির সদস্যদের তালিকায় দেখছি চারটি মাত্র নাম- ডা: কাজী ইমদাদুল হক, আজিরুদ্দীন খান, আনিস কাজী ও আদিল উদ্দীন হাওলাদার। তাহলে কি নুরু মিয়া ইতিমধ্যে মৃত বলে তার নাম যুক্ত করা হয়নি? সেটাই বা কিভাবে হয়! ঢাকার রায়েরবাজারের এক ঘৃণ্য রাজাকার হেদায়েত উল্লাহ, মৃত হলেও তার নাম তালিকায় এসেছে। অবশ্য এমন না যে, নুরু মিয়ার নাম না থাকায় তালিকাটি গুরুত্ব হারিয়েছে। সেটা হতেই পারে না। নুরু মিয়া না থাকলেও সেটা যথেষ্টই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ওই তালিকায় নুরু মিয়ার থাকাটা জরুরি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই বর্তমান শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রীর পিতা হলেও তার একাত্তরের অপরাধ ম্লান হয়ে যায় না- এটা জানান দেওয়ার জন্যই জরুরি। হ্যাঁ, নিজামী-মুজাহিদ-কামারুজ্জামান কিংবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে নুরু মিয়াকে মেলানো যায় না। ওই নরপশুদের যে অপরাধ, নুরু মিয়া সেই মাপের অপরাধীও হয়তো নয়। কিন্তু শান্তি কমিটির শীর্ষ সারির নেতা মানেই সে অপরাধী, দ্বিধাহীনভাবেই। মরণোত্তর বিচার হয়তো না হতে পারে তার, কিন্তু শান্তি কমিটির ঘৃণ্য সদস্যদের তালিকায় নুরু মিয়ার নাম গোটা গোটা অক্ষরে লেখা থাকতেই হবে। এর প্রতীকী গুরুত্ব আছে। শেখ হাসিনার বেয়াইয়ের পিতা হওয়ার সুবাদে শান্তি কমিটির এক ঘৃণ্য সদস্যের নাম কাটা গেছে বা যাবে- এমন ছোটলোকী, এমন অন্যায়, এমন জোচ্চুরি জীবনেও মেনে নেবো না। এই অপবাদ শেষ বিচারে আওয়ামী লীগের জন্যও ভালো হবে না।


ঘৃণ্য রাজাকার মুসা বিন শমশের তাহলে 'মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক'?
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায়, তখন দৈনিক জনকন্ঠে 'তুই রাজাকার' শীর্ষক এক ধারাবাহিক সিরিজে ফরিদপুরের কুখ্যাত রাজাকার মুসা বিন শমশেরের একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে লোমহর্ষক কাহিনী ছাপা হলে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। জনকন্ঠের সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের ওপর নারকীয় হামলা চালায় মুসা বিন শমশেরের ভাড়াটে গুন্ডারা। পরে গুরুতর আহত ওই সাংবাদিকের পা কেটে ফেলতে হয়েছিল। শুরু হয় তার পঙ্গুজীবন। আরো পরে শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই ও আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছেলের সঙ্গে মেয়ে বিয়ে দিয়ে আলোচনায় আসে মুসা বিন শমশের। ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির তালিকায় ফরিদপুর জেলার প্রধান ১৩ জন রাজাকারের মধ্যে তার নাম আছে শুরুর দিকেই। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর, আজ থেকে মাত্র দুদিন আগে মুসা বিন শমশের ওরফে নুলা মুসা নিজেকে রীতিমতো 'মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক' হিসেবে দাবি করে বসে আছে!

আমাদের সময়ের সংবাদটি দেখুন- 'ডেটকোর চেয়ারম্যান ড. মুসা বিন শমশের নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক দাবি করে বলেছেন, গতকাল দৈনিক আমাদের সময়-এ প্রকাশিত ‘আওয়ামী লীগে যুদ্ধাপরাধী খুঁজছে বিএনপি’ শীর্ষক সংবাদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক যে অভিযোগ করেছেন তা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। গতকাল পাঠানো প্রতিবাদলিপিতে তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে আমার বলিষ্ঠ ভূমিকা ও নেতৃত্ব ছিল। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের একপর্যায়ে ২২ এপ্রিল পাক-হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দি হই। পাক-হানাদার বাহিনী আমাক দীর্ঘ ৮ মাস আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। ৯ ডিসেম্বর কয়েদখানা থেকে মুক্তি লাভ করে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হই। বর্তমান সরকারের যুদ্ধাপরাধী বিচারের কার্যক্রমকে নস্যাৎ করার জন্য কিছু স্বার্থান্বেষীমহল এ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলে তিনি প্রতিবাদলিপিতে দাবি করেন।'

হায়!
---
ছবিতে বসা অবস্থায় (বাঁ থেকে) কানিজ ফাতেমা, ববি হাজ্জাই, শেখ জহরত মাহ্না, ব্যারিস্টার রাশমা ইমাম, মুসা বিন শমশের। দাঁড়ানো আছেন ব্যারিস্টার রেশাদ ইমাম, শেখ ফজলে ফাহিম, ন্যান্সি জাহরা, ব্যারিস্টার জুবি ইজ্জত, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম


প্রথম প্রকাশ

জনপ্রতিনিধি হয়েও আওয়ামী লীগের ২৫ নেতা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। তাদের কেউ ছিলেন এমএনএ (জাতীয় পরিষদ সদস্য) আবার কেউ ছিলেন এমপিএ (প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য)। মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যাসহ নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গেও তাদের কয়েকজন যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সরকারি ও দলীয় সিদ্ধান্তে ’৭১ ও ’৭২ সালেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ বিষয়ে আজ দৈনিক আমাদের সময়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

শাহেদা খানমের লেখা ওই প্রতিবেদনে এরকম ২৫ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তারা হচ্ছেন, একেএম মাহবুবুল ইসলাম (পাবনা), একে ফায়জুল হক (বরিশাল), অধ্যাপক শামসুল হক (চট্টগ্রাম), অংশু প্রু চৌধুরী (পার্বত্য চট্টগ্রাম), ডা. আজাহার উদ্দিন (ভোলা), একেএম মাহবুবুল ইসলাম (সিরাজগঞ্জ) ও আহমদ সাগির হোসেন। এছাড়া তৎকালীন আওয়ামী লীগ থেকে আরো যেসব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি স্বাধীনতার বিরোধিতা করেন তারা হচ্ছেন- আবু সোলায়মান মণ্ডল (পীরগঞ্জ, রংপুর), আজিজুর রহমান (গাইবান্ধা), নুরুল হক (রংপুর), এনসান আলী মুক্তার (টাঙ্গাইল) একেএম মোশাররফ হোসেন (ময়মনসিংহ), আফজাল হোসেন (নারায়ণগঞ্জ), ওবায়দুল্লা মজুমদার (নোয়াখালী), সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী (চট্টগ্রাম), মো. মঈনুদ্দীন মিয়াজী (যশোর), হাবিবুর রহমান খান (খুলনা), মো. হাবিবুর রহমান (বগুড়া), জহির উদ্দিন (মোহাম্মদপুর, ঢাকা), সৈয়দ হোসেইন মনসুর (পাবনা), মো. আবদুল গাফফার (সাতক্ষীরা), মো. সাঈদ (খুলনা), মোশাররফ হোসেন শাহজাহান (ভোলা), , সৈয়দ বদরুজ্জান ওরফে এসবি জামান (ময়মনসিংহ)।

সংযোজনী
মোশাররফ হোসেন শাহজাহান পরে বিএনপিতে যোগ দেন। এবং অনুমান করছি, ফরিদপুরের এবিএম নুরুল ইসলাম সম্ভবত বর্তমান শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বাবা। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, মুক্তিযু্দ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিল আওয়ামী লীগই। তবে ভালো হোক কিংবা মন্দ হোক- ইতিহাস এড়িয়ে যাওয়া কিছুতেই নয়, ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।


প্রথম প্রকাশ