Showing posts with label internet. Show all posts
Showing posts with label internet. Show all posts

আমি এখনো নিশ্চিত নই। তবে ধরনধারণ, অস্বাভাবিক কিছু লক্ষণ দেখে মনে হচ্ছে, গুগল বাংলাদেশের ডোমেইন আবার হ্যাকারদের কবলে পড়েছে। তার চেয়েও বিপজ্জনক একটি কাণ্ড ঘটতে দেখছি এই মুহূর্তে।

এই মুহূর্তের বাস্তবতা হল
গুগল বাংলাদেশ খুলছে না।
টেকটিউনস ব্লগ বন্ধ।

যা সবচেয়ে অস্বাভাবিক
জিমেইল সিকিউর সার্ভারে (HTTPS) লগইন করি বরাবরই। কিন্তু আজই প্রথম দেখলাম যে, জিমেইলে লগইন করার পর সেটা গুগল ডট কম ডট বিডিতে (http:// Click This Link.) রিডাইরেক্ট হয়ে যাচ্ছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। (ছবিতে দেখুন) এই ধরনটা আমার কাছে বিপজ্জনক মনে হচ্ছে।

আবার ডিএনএস হ্যাক?
এর আগে গত ৮ জানুয়ারি একদফা গুগল.বিডি ডোমেইন হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছিল। টেকটিউনসকে তো বড়োসড়ো ধকলই পোহাতে হয়েছিল। টাইগার মেইট নামে হ্যাকারদেরর একটি দল কাজটি করেছিল। তখন এটাকে ডিএনএস হ্যাক হিসেবে দাবি করা হয়েছিল ক্ষতিগ্রস্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে।

আমি বিটিসিএল ইন্টারনেট ব্যবহার করছি। অন্য ইন্টারনেট প্রভাইডারের কী অবস্থা, সেটা কেউ শেয়ার করলে বোঝা যেত আসলেই হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে, নাকি অন্য কোনো সমস্যা?


প্রথম প্রকাশ


গুগল আসলে একটি ক্যালকুলেটর। আপনি যতো যাই হিসাব করতে চান না কেন, সেটা যতো জটিল গাণিতিক সমীকরণই হোক না কেন, গুগলের ছোট্ট সার্চ বক্সটায় সেটা পারবেন। একইসঙ্গে সেটা আবার ভালো এক কনভার্টার, জটিল অভিধান, ফোনবুক, নির্ভরযোগ্য উত্তরদাতা- আরো কতো কী। কিছুটা গুগলসূত্রে আর বাকিটা ইন্টারনেট ঘেঁটে তারই কিছু খোঁজখবর থাকছে এখানে, যদিও ব্লগারদের অনেকেরই এসব বিষয়আশয় ভালোই জানা।

গুগল আসলে একটি ক্যালকুলেটর
গুগলের ক্যালকুলেটরটা যে কতোভাবে কতো কায়দায় ব্যবহার করা যায়, 'তার উদাহরণ পাবেন এখানে। ক্যালকুলেটর কখনো কখনো উত্তরদাতার ভূমিকাও পালন করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আবার ভৌতিক কাজকারবারও দেখায়। যেমন আপনি যদি গুগলের সার্চ বক্সে গিয়ে প্রশ্ন করেন- The answer to life, the universe, and everything is. গুগল সঙ্গে সঙ্গেই উত্তর দেবে '42'. অথবা যদি লিখেন- once in a blue moon. গুগল কী উত্তর দেয় দেখুন! সার্চ বক্সে 'number of horns on a unicorn' লিখলেও গুগল রসিকতা করতে ছাড়বে না। গণিতে আবার গুগল বেশ পাকা। দেখুন কিছু উদাহরণ- e, pi, phi, G.

ভালো এক কনভার্টার
ভ্রমণে গিয়ে আপনি যখন ভেবে হয়রান, এক পাউন্ডে কতো ডলার চলছে বর্তমান বাজারে, গুগল তখন আপনার জন্য নির্ভরযোগ্য সমাধান। পাউন্ড থেকে ডলার, ইউরো থেকে ইয়েন - এভাবে প্রায় সব মুদ্রার মান রূপান্তর করে দিতে পারে অনায়াসে, যদিও টাকা (BDT) তার হিসেবে এখনো নেই। তাপমাত্রার সূচক রূপান্তরই হোক আর কিংবা এক কিলোমিটারে কতো ফুট কিংবা এক ইঞ্চি সমান কতো সেন্টিমিটার- সবই মহূর্তে রূপান্তর করে দিতে পারে গুগলের ছোট্ট সার্চ বক্সটা। কিলোমিটার থেকে ফুটে রূপান্তরের জন্য লিখুন 1 km in feet. ইঞ্চি থেকে সেন্টিমিটারে রূপান্তরের জন্য 1 in in cm. মূদ্রাকে পাউন্ড থেকে ডলারে রূপান্তরে জন্য লিখুন 1 GBP in USD. ইউরোকে ইয়েনে রূপান্তরের জন্য 1 EUR in YEN. উল্টোটাও করতে পারেন।

মাথায় কতো প্রশ্ন আসে
বিখ্যাত কারো জন্মদিন কিংবা মৃত্যুদিন জানতে চান কোনো কিছু না ঘেঁটেই? তাহলে শুধু লিখুন এভাবে- barack obama born in * কিংবা Einstein died in *. লক্ষ্য রাখবেন শেষে শুধু একটি স্পেস দিয়ে একটি অ্যাসটারিস্ক চিহ্ন (*) শুধু যোগ করে দেবেন। ঠিক এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জনসংখ্যা কতো জানার ইচ্ছে হতেই পারে আপনার, শুধু লিখুন population bangladesh আর দেখুন। কিংবা আপনি জানতে চাইতে পারেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বা গ্রিসের প্রেসিডেন্টের নাম কী।

বেশ কাজের একটা অভিধান
গুগল আবার ডিকশনারিও। বাংলা থেকে ইংরেজি আর ইংরেজি থেকে বাংলা অভিধানটি খুবই কাজের জিনিস

ভালো থাকুন, আপডেটেড থাকুন
■ ঠিক এখনই জেনে নিন নিউ ইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, প্যারিস কিংবা লন্ডন অথবা আমাদের ঢাকার আবহাওয়ার খোঁজখবর। শহরের নাম লিখে একটি স্পেস দিয়ে শুধু forecast শব্দটি লিখে সার্চ দিন। 'temperature' লিখলেও চলবে।
■ সূর্যাস্ত কবে আর সূর্যোদয় কখন- সেটাও জেনে নিন এক সেকেন্ডে। সূর্যাস্তের জন্য 'Sunset in' লিখে তার পাশে যে কোনো শহরের নাম লিখুন। আর সূর্যোদয়ের সময় জানার জন্য লিখবেন 'Sunrise in'. দেখুন- আজ ঢাকায় সূর্য অস্ত কবে গেছে?
■ বাইরের তো বটেই, বাংলাদেশের স্থানীয় সময়ও জানিয়ে দিতে পারে গুগল। time in লিখে একটি স্পেস দিয়ে যে কোনো শহরের নাম লিখে সার্চ দিন কেবল। যেমন এই মুহূর্তে সিলেটে ক'টা বাজে?

নির্দিষ্ট ফরম্যাটের ফাইল খোঁজা
ধরুন নির্দিষ্ট কোনো ফরম্যাটের ফাইল চান আপনি। সেটাও পারবেন। সার্চ টার্মের জায়গায় আপনি কোন্ বিষয়ে ফাইল চান, সেটা লিখুন। যেমন আপনি যদি পিডিএফ ফরম্যাটে শুধু হুমায়ূন আহমেদের বইগুলো চান, তাহলে লিখুন- humayun ahmed filetype:pdf
গুগলের সার্চ বক্সে সার্চের বিষয়টি লিখে একটি স্পেস দিয়ে ফাইল টাইপ লিখুন- মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের ফাইল চাইলে filetype:doc কিংবা পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন চাইলে filetype:ppt. এভাবে অন্যান্য যে কোনো ফরম্যাটের ফাইল আপনি খুঁজে বের করতে পারবেন।

গানের রাজ্য
এমপিথ্রি ফরম্যাটের ফাইল নিয়ে গুগল একধরনের লুকোচুরি খেলে সবসময়ই। সাদামাটা সার্চ করলে সহজে পাওয়া যায় না। এ থেকে মুক্তি পেতে গুগলের মাধ্যমে আপনি মিডিয়াফায়ার, ইস্লাইপস বা এই ধরনের আপলোডিং সার্ভিসে হানা দিতে পারেন। পদ্ধতিটাও সোজা। কেনি ওয়েস্টের গান দরকার আপনার, সেক্ষেত্রে গুগল সার্চ বক্সে গিয়ে আপনাকে লিখতে হবে
kanye west site:mediafire.com
এখানে মিডিয়াফায়ারের বদলে অন্য যে কোনো আপলোডিং সার্ভিসের নাম বসাতে পারেন ইচ্ছেমতো।

সাইট সার্চ
অনেকেই জানেন, আপনি যদি 'site:'-এর পাশে যে কোনো ওয়েবসাইটের নাম লিখে সার্চ করেন, তাহলে গুগল শুধু ওই সাইট থেকেই ফলাফল দেখাবে। উদাহরণস্বরূপ- আপনি যদি সামহোয়্যারইন ব্লগে 'ভূমিকম্প' বিষয়ক ফলাফলগুলো চান, তাহলে সার্চ করলে কী দাঁড়ায় দেখুন। চাইলে কোনো নির্দিষ্ট দেশের ডোমেইন দিয়েও সার্চ করতে পারেন।
সাইট সার্চের আরো সুবিধা আছে, ধরুন আপনার নিজের ব্লগের আর্কাইভ থেকে পুরনো একটি লেখা খুঁজছেন, সেক্ষেত্রে 'site:'-এর জায়গায় আপনার ব্লগের ঠিকানাটি দিয়ে দিন। উদাহরণ হিসেবে ধরুন, মোবাইল নিয়ে আমার পুরনো লেখাগুলো খুঁজছি। সেক্ষেত্রে আমার কাজ হবে গুগলের সার্চ বক্সে গিয়ে শুধু মোবাইল+site:http://www.somewhereinblog.net/blog/Fusion5 লিখে এন্টার করা।

আপনাকে নিয়ে কী বলাবলি হচ্ছে
আপনার সম্পর্কে অন্যরা কী বলছে, সেটা জানার ইচ্ছে আপনার হতেই পারে। যেমন আমি মাঝে মাঝে দেখি, ব্লগসাইটগুলো ছাড়া ইন্টারনেটের অন্যত্র আমার সম্পর্কে কী কী কুৎসা লেখা হচ্ছে সাম্প্রতিককালে। যেমন, আজ দেখলাম ডয়েচে ভেলে ব্লগ পুরস্কার বিজয়ী আলী মাহমেদ তার এক লেখায় আমার বিরুদ্ধে একটি ক্ষুদ্র কুৎসা রচনার চেষ্টা করেছেন। যা হোক, এই ধরনের সার্চের ফরম্যাটটি হবে এরকম-
ফিউশন ফাইভ -site:somewhereinblog.net -site:sachalayatan.com -site:amarblog.com -site:prothom-aloblog.com.com
অর্থাৎ যে সাইট থেকে আপনি সার্চের ফলাফল চান না, সেটা লিখে তার আগে একটি মাইনাস (-) চিহ্ন দিন। তাহলে ওই সাইটকে উপেক্ষা করেই গুগল তার সার্চের ফলাফল দেখাবে। 'ফিউশন ফাইভ'-এর জায়গায় আপনার ইচ্ছেমতো যে কোনো শব্দ বসাতে পারেন। ওটা কেবল উদাহরণ।

উন্মুক্ত ক্যামেরার খোঁজ
আইপি ক্যামেরা থেকে পাওয়া ভিডিও স্ট্রিমও দেখতে পারেন গুগল থেকেই। গুগলের "inurl" ফিচার ব্যবহার করে আপনি পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অনেকগুলো উন্মুক্ত ক্যামেরার খোঁজ পেতে পারেন। যেমন দেখতে পারেন এই ক্যামেরাগুলোর ভিডিও স্ট্রিমগুলো।
■ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত লাইভ ওয়েবক্যামের খোঁজ পাওয়ার জন্য ব্যবহার করতে পারেন গুগলের এই ফিচারটি

হোমপেজে ভিনদেশী হানা
গুগল হোমপেজ নিয়ে আগে আমি প্রায়ই ঝামেলায় পড়তাম। হোমপেজে হংকংয়ের লিংক দেখাতো। পরে জেনেছি, ইউজারের আইপির অবস্থান শনাক্ত করে গুগল ঠিক ওই দেশের হোমপেজে নিয়ে যায়। এটা অনেক সময় বিরক্তিকর হয়ে দাঁড়ায়, বিশেষ করে দেশের বাইরে কোথাও গেলে। এ থেকে মুক্তি পেতে, মানে গুগলের মূল হোমপেজ সবসময় অটুট রাখার জন্য নিচের ঠিকানাটি ব্যবহার করুন-
http://www.google.com/ncr

ভৌতিক কাণ্ডকারখানা
■ গুগল সবসময় যে সঠিক বলে, তা কিন্তু নয়। অনেক সময় সঠিক শব্দ লিখলেও সে একপ্রস্থ পণ্ডিতি করবেই! 'recursion' শব্দটি দিয়ে সার্চ করেই দেখুন না।
■ গুগলের বহুল পরিচিত 'I'm Feeling Lucky' বাটনটা ঠিক কতো মানুষ ব্যবহার করে, কিংবা আদৌ ব্যবহার করে কিনা- সেটা আমার কাছে এক রহস্য। আপনি গুগলের হোমপেজে xx-hacker লিখে "I'm Feeling Lucky" বাটনে ক্লিক করুন। কী কাণ্ড দেখুন! অথবা 'french military victories' লিখে "I'm Feeling Lucky" বাটনে চাপ দিন। সবচেয়ে মজা লাগবে, যদি গুগল হোমপেজের সার্চ বক্সে 'who's the cutest?' লিখে "I'm Feeling Lucky" বাটনে ক্লিক করেন।
■ গুগলের মাঝেই লুকিয়ে আছে বেশ কয়েকটি বিশেষায়িত সার্চ ইঞ্জিন। আপাতত মাইক্রোসফট আর লিনাক্সের দিকে তাকান একনজর।

বিবিধ
গুগলের নতুন ফন্ট ডিরেক্টরিটা বেশ কাজের মনে হল, বিশেষত ওয়েব ডেভেলপারদের জন্য। ওদিকে গুগলকে কিন্তু ফোনবুকও বলা যায়। আপাতত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব পাবলিক নম্বরই সেখানে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে সীমানা আরো বাড়তে পারে হয়তো। তবে গুগলের স্পেলচেকারটিকে সর্বজনীন বলতে হবে। এরপরও শুধু ব্রিটনি স্পিয়ার্সের নাম লিখতে গিয়ে মানুষ যে কী হারে ভুল করেছে, দেখুন একনজর! গুগল সার্চ সম্পর্কে আরো জানতে এটা দেখুন, আর সার্চ টিপস পাবেন এখানে।


প্রথম প্রকাশ

দুই কি তিন মাস মেইল চেক করা হয়নি বলে আমার অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ মেইল মুছে দিয়ে একাউন্টই ব্লক করে দিয়েছিল ইয়াহু। সেই থেকে মেজাজ খারাপ। নিতান্তই পরীক্ষামূলকভাবে ইয়াহুর কাছ থেকে একটি ডোমেইন কিনেছিলাম গত বছর। তার জন্যও আবার একটা ইয়াহু একাউন্ট লেগেছে। সেটাও দেখি কখনো অ্যাকটিভ, কখনো ইনঅ্যাক্টিভ। স্পাম তো আছেই। রাগে-ক্ষোভে সেই ডোমেইনই আর রিনিউ করিনি।

একে একে বন্ধ হচ্ছে দোকানের ঝাঁপ
একদিন মেইল খুলে দেখি, আচমকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইয়াহু ফটো সার্ভিস। কিছু ছবি তুলে রেখেছিলাম সেখানে। মন খারাপ হল ঠিকই, কিন্তু ততোদিনে যেহেতু ফ্লিকার এসে গেছে, ফটো সার্ভিস বন্ধ করার ব্যাপারটা মেনে নেই। বুঝিনি তখন, দোকানের ঝাঁপ ফেলার সবে তো শুরু! এই বছরের ৩০ মার্চ হুট করে বন্ধ হল ফাইল হোস্টিং সার্ভিস ইয়াহু ব্রিফকেস। তাতে ৩০ মেগাবাইট পর্যন্ত ফাইল আপলোড করা যেতো। উপায়হীন গ্রাহক কী করবে- তা নিয়ে মাথাব্যাথা ছিল না ইয়াহুর। তারা মেইল পাঠিয়ে সোজাসাপটা বলে দিল, ফাইল ডিলিট করো দ্রুত। ইয়াহু ৩৬০° নামে ইয়াহুর একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সার্ভিস ছিল, ফেসবুকের মতোই অনেকটা। সেটা বন্ধ হল গত ১৩ জুলাই। ২৬ অক্টোবর বন্ধ হয়ে গেল ইয়াহু জিওসিটিস। বিনামূল্যে ওয়েব সাইট তৈরির এই সেবা চালু ছিল প্রায় ১০ বছর ধরে। কতো মানুষের কতো যে সাইট, কতো যে ফাইল, লাইনের পর লাইন কতো যে আবেগ-অনুভূতি - এক ঝটকায় সব শেষ! সর্বশেষ সামনের ১২ জানুয়ারি বন্ধ হতে চলেছে আরো একটি সার্ভিস জাভাভিত্তিক ফোন অ্যাপ্লিকেশন- ইয়াহু গো!

ধানাইপানাই সমগ্র
জিমেইল যদি না আসতো, ইয়াহু মেইল এই ২০০৯ সালেও ২ মেগাবাইট স্টোরেজই দিতো নিশ্চিত। ওদের যা স্বভাব, বরং সংকোচনই করতো- এক মেগাবাইট ফ্রি, বাকি এক মেগাবাইটের জন্য মাসিক ফি! জিমেইল আসার পর ইয়াহু মেইল কিছুটা বদলেছে বটে, তবে এখনো ইয়াহু মেইলে ঢুকতেই বিচিত্র সব বিজ্ঞাপনে আহত হতে হয় নিত্যই, অথচ জিমেইল সেখানে পরিচ্ছন্ন, বিজ্ঞাপনেও বুদ্ধিদীপ্ত। কে না জানে, বহুকাল ধরেই স্পামারদের প্রথম পছন্দ এই ইয়াহু মেইল। এই যুগেও মেইলে সামান্য POP সুবিধা দিতে কতো ধানাইপানাই ইয়াহুর! জিমেইল যেসব সেবা বিনামূল্যে অকাতরে দিচ্ছে, এই এখনো ইয়াহুর মেইল প্লাস সেই সেবাগুলো দেওয়ার জন্য বার্ষিক ফি নিচ্ছে প্রায় ১৫০০ টাকা। আগে এই ফি আরো বেশি ছিল।

গর্দভের প্রতিকৃতি
মেইল আর মেসেঞ্জার না থাকলে ইয়াহুর অস্তিত্বই থাকতো না বোধ করি। বিশেষ করে, অনেকেরই বদ্ধমূল ধারণা, মূলত মেইল সার্ভিসটা নিয়েই টিকে আছে তারা। গ্রাহকের সঙ্গে পথেঘাটে শুধুই 'স্মল বিজনেস' করতে চাওয়া ইয়াহুকে ১০ বছর আগে যেরকম দেখেছি, ১০ বছর পরও তাতে কোনোই পরিবর্তন টের পাই না।

পুরা ফকিন্নির স্বভাব ওই কোম্পানিটার


গত বৃহস্পতিবার অবশেষে বন্ধ হয়ে গেল মিনিনোভা । ২০০৭ সালে চালু হওয়া টরেন্ট সাইটটি অল্পদিনেই পেয়েছিল অভাবনীয় জনপ্রিয়তা। কপিরাইট নিয়ে মামলার জের ধরে সাইট চালু আছে বটে, তবে এখন সেখান থেকে কিছুই আর ডাউনলোডের সুযোগ নেই । টরেন্ট সাইটের ভক্ত নয়- এমন ইন্টারনেট ইউজার সম্ভবত পুরো বিশ্বেই হাতেগোনা। টরেন্ট সাইটগুলোতে সফটওয়্যার থেকে সিনেমা, গান থেকে গেইম- সবই পাওয়া যায় বিনামূল্যে। মিনিনোভাই প্রথম নয়। এর আগে পাইরেট বে'র ওপর নেমে এসেছিল কপিরাইটওয়ালাদের খড়গ।

পাইরেট বে হত্যাযজ্ঞ
এই বছরের শুরুতে ওয়ার্নার ব্রাদার্স, এমজিএম, কলাম্বিয়া পিকচার্সসহ হলিউডের মহারথীরা একজোট হয়ে পাইরেট বে'র বিরুদ্ধে কপিরাইট ভঙ্গের অভিযোগে মামলা করে। বিশ্বের বৃহৎ এই ইন্টারনেট ফাইল শেয়ারিং সাইটের বিরুদ্ধে সুইডেনের আদালতে দায়ের করা সেই মামলা তোলপাড় তোলে বিশ্বজুড়ে। পাইরেট বে'র আইনজীবীরা আদালতকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে, তাদের সাইট পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্কে কাজ করে। সুতরাং একজন ইউজার আরেকজনের সঙ্গে কিছু বদলাবদলি করল সেজন্য তাদের দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। তাছাড়া তারা এ থেকে আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন না। বলাবাহূল্য, পাইরেট বে'র যুক্তি আদালতে টেকেনি। সুইডিশ আদালত পাইরেট বে'র সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারজনকে এক বছরের জেল তো দিয়েছেনই, জরিমানাও করেছেন বিপুল অংকের অর্থ- ৩৮ লাখ ডলার!
মামলা নিষ্পত্তির পর সুইডিশ একটি প্রতিষ্ঠান গেমিং ফ্যাক্টরি এক্স ৮০ লাখ ডলার দিয়ে পাইরেট বে'র স্বত্ত্বাধিকার কিনে নিলেও তাতে আশা জাগানোর মতো কিছু নেই। গেমিং ফ্যাক্টরি এক্স কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, আইটিউন বা ন্যাপস্টারের মতো পে-সাইট না হলেও তারা ইউজারদের কাছ থেকে একটি মাসিক ফি নিতে পারেন ভবিষ্যতে। ২০০৩ সালে চালু হওয়া পাইরেট বে'র গ্রাহক দুই কোটিরও বেশি।

একে একে নিভিছে দেউটি!
মিউজিক, ভিডিও, সফটওয়্যার ও গেমিং ইন্ডাস্ট্রি এই ইস্যুতে একজোট হচ্ছে। ফলে অন্যান্য টরেন্ট ক্লায়েন্টগুলোর ওপরেও আঘাত আসবে সামনে- এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। কী হবে আমাদের, যেখানে একে একে নিভিছে দেউটি!

ছবিতে পাইরেট বে'র প্রতিষ্ঠাতাদ্বয়


হাসবো কি কাঁদবো- ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। মনে হয় কাঁদতেই ইচ্ছে করছে। বাংলাদেশ, যেখানে একটুকু ব্যান্ডউইডথের জন্য মানুষ হাহাকার করছে, সেই বাংলাদেশ এবার বিদেশে ব্যান্ডউইডথ বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তথ্যমতে, সাবমেরিন ক্যাবলের মোট ধারণক্ষমতার মাত্র ৩১ শতাংশ ব্যবহার করা হচ্ছে। আর বাকিটা নেপাল ও ভুটানে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নেপাল ও ভুটানে সাবমেরিন ক্যাবলের সংযোগ নেই। একসময় আমরা যা করতাম, নেপাল-ভুটানও সেই স্যাটেলাইট ব্যবহার করে এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। সে কারণেই তারা বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইডথ কিনতে আগ্রহী। প্রসঙ্গত, আমাদের সাবমেরিন ক্যাবলের মোট ধারণক্ষমতা ২৪.১২ জিবিপিএস।

অথচ হায়, আমি নিজে ইউটিউব থেকে ৫-৬ মেগাবাইটের একটি ছোট্ট ভিডিও নামাতে, জিমেইলের স্ট্যান্ডার্ড ভার্সনটা লোড করতে গিয়ে মাথাকুটে মরি প্রতিদিন। স্লথগতির ইন্টারনেটের জন্য টুকটাক আউটসোর্সিং থেকে পর্যন্ত প্রত্যাখ্যাত প্রায়। ব্যান্ডউইডথের ছড়াছড়ির পরও স্বয়ং বিটিসিএল এই এখনো যে মূল্যে যে গতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ দিচ্ছে, ডায়ালআপের জন্য যে চার্জ নিচ্ছে- ভাবতেই অবাক লাগে। যে দেশে ইন্টারনেট এখনো ব্যয়বহুল একটি সেবা, মাসে এক হাজার টাকা খরচ করেও যেখানে কিলোবাইটের ওপরে গতি উঠে না, সেই দেশ কিভাবে বেঁচে যাওয়া ব্যান্ডউইডথ বিক্রি করার মতো নির্লজ্জ হয়?

এই সেই সাবমেরিন ক্যাবল, যা একসময় বিনামূল্যে দেওয়া হলেও বাংলাদেশ তা নিতে সম্মত হয়নি দেশের গোপন তথ্য পাচার হয়ে যাওয়ার অজুহাতে। ফলে এই সাবমেরিন ক্যাবল কিংবা ব্যান্ডউইডথ নিয়ে তুঘলকি কারবার হবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে রীতিমত ব্যান্ডউইডথ বিক্রি? এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবেই মাথামোটা আমলাদের মাথা থেকে বেরিয়েছে। আর মন্ত্রী-পাতিমন্ত্রীরা তাতে মাথা নেড়ে সায় দিয়েছেন। সাবমেরিন ক্যাবল তত্ত্বাবধানকারী সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবশ্য ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, এর ফলে নাকি কোনো সমস্যা হবে না। বরং দেশের আয় বাড়বে।

এইগুলারে আন্ডারওয়্যার পরিয়ে জাতীয় জাদুঘরে জীবন্ত সাজিয়ে রাখা উচিত। 


অনেকেই জানেন, মোবাইল কোম্পানিগুলোর মধ্যে ইন্টারনেট নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রতারণাটি করছে একটেল। এদের যে কী রকম নিম্নমানের ইন্টারনেট সেবা, ব্যবহার না করলে বোঝার উপায় নেই। মাসে ৩০ দিনের মধ্যে কমপক্ষে ১০ দিন, অনেক সময় তারও বেশি সময় ইন্টারনেট সার্ভিস বন্ধ থাকছে নিয়ম করে। অথচ বকেয়া বিলের জন্য মিনিটে মিনিটে এসএমএস, প্রতি চারদিন পর পর সুকণ্ঠীর (ভুটকিই হবে!) ফোন- ‌‌‌‌‌‌‌'স্যার, আপনার বিল হয়েছে এতো টাকা...অতো পয়সা।' কিন্তু ইন্টারনেট সার্ভিসের নামে এই যে এতো এতো টাকা প্রতি মাসে নেওয়া হচ্ছে, সেটা বন্ধ থাকলে এসএমএস তো দূরের কথা, আপনি এমনকি অভিযোগও জানাতে পারবেন না। অভিযোগ জানানোর জন্য যে নম্বরটি (১২৩) আছে, সেখানে কল করলে প্রতিদিনই একই অবস্থা। কি রাত কি দিন সবসময়ই নাকি এদের কাস্টমার কেয়ার এক্সিকিউটিভরা বিজি থাকে।

ওই নম্বরে ফোন করলে তিন দফায় দীর্ঘ নির্দেশনা শোনার পর কাস্টমার কেয়ার ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে কম্পিউটারের স্বয়ংক্রিয় কন্ঠে শোনা যায় ‌‌‌‌‌‌'দুঃখিত, এই মুহূর্তে আমাদের সকল কাস্টমার কেয়ার এক্সিকিউটিভ ব্যস্ত আছেন! আপনাকে অপেক্ষা করতে হতে পারে ছয় মিনিট ২০ সেকেন্ড।' আমি একজনের কাছ থেকে জেনেছি, এই সময় প্রতি মিনিটে আড়াই টাকা করে চার্জ কাটা যায়। অবাক করার বিষয় হচ্ছে এই তথাকথিত ব্যস্ততা সবসময়ই আছে, যখনই ওই নম্বরে ফোন করি। হস্তমৈথুন ছাড়া এইসব কাস্টমার কেয়ার এক্সিকিউটিভের ব্যস্ততার অন্য কোনো কারণ তো দেখি না। গ্রামীণফোনের পর পর খালি মাঠে দীর্ঘদিন থাকার পরও একটেল ক্রমাগত পিছনের দিকে হেঁটেছে। বরং অনেক পরে এসে এগিয়ে গেছে বাংলালিংক। জনতার বিচার আসলেই আলাদা জিনিস।

কিছুদিন আগে জেনেছি, একটেলের ইন্টারনেট সার্ভিসের গ্রাহক তেমন নেই। দিনের পর দিন নিম্নমানের সেবা আর প্রতারণা যে কোম্পানির অর্থ আয়ের উৎস, তার গ্রাহক থাকার কথা নয়। আমার মতো আরো কেউ কেউ আছেন, যারা এইসব প্রতারক মোবাইল কোম্পানির ফাঁদে পড়ে যায়। সকলের প্রতি অনুরোধ, প্রয়োজনে ইন্টারনেট ব্যবহার করাই বাদ দিন, তবুও একটেলের ইন্টারনেট সেবার ফাঁদে পড়বেন না।

খাঙ্ক ইর্পো!
ভারতীয় মালয়ালাম ভাষার একটি সুসম্ভাষণ

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): একটেলইন্টারনেটমোবাইলaktelinternetmobile company ;

প্রথম প্রকাশ

জিমেইল নিয়ে এক মহা সমস্যায় পড়েছি। এর আগেও এই সমস্যা একবার হয়েছিল। তখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ মেইল মুছে দিয়ে জরুরিভিত্তিতে জায়গা খালি করেছিলাম। এই সময়ে আবার একই দশা। এমন নয় যে, আমি জিমেইলকে ফাইল স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করি। সেটা করলে না হয় একটা কথা ছিল। সবই তো মেইল। এই মেইল একউন্টটাও গুরুত্বপূর্ণ। পেশাগত কারণে এই একাউন্টটি বহু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরেই। ফলে এর একটা মূল্য দাঁড়িয়ে গেছে। শ্লার, এক মধুর সমস্যায় পড়ে গেলাম!

প্রথম প্রকাশ

ছবিটি জিমেইলের বাংলা সংস্করণের। বেশ কিছুদিন ব্যবহার করলাম বঙ্গদেশীয় ভাষায়। দু একদিনের মধ্যে ইংরেজির দিকে বদলি হওয়ার আশা রাখি। প্রথমত বাংলা রাখলে বিস্ময়করভাবে লোডিংয়ের গতি বেশ ধীর হয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত বিচিত্র এই অনুবাদের সঙ্গে ঠিক একাত্মবোধ করতে পারছি না। পোস্টের সঙ্গে যুক্ত ছবিতে কিছু ক্রস চিহ্ণ দিলাম। এর মানে হল, ওই ভাষা আমার পছন্দ হয়নি। তে ব্লগাররা যদি আরো সহজবোধ্য ও স্মার্ট ভাষা প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হন, তাহলে ফের বাংলায় ফেরার আশা রাখছি।

প্রথম প্রকাশ

ফেসবুকের কথা শুনে আসছি বহুদিন ধরে। এই ব্লগেই অনেকের পোস্ট ও মন্তব্যে ফেসবুকের প্রশস্তি শুনেছি। শেষমেশ আর উপেক্ষা করা সম্ভব হল না। যোগ দিলাম সেখানে। প্রথম কয়েকদিনেই বন্ধুবান্ধব বেশকিছু জুটেছে আমার। প্রায় সবাই সামহোয়্যারইনের ব্লগার, দু একজন আছেন সচলের। তবে নিয়মকানুন এখনো কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি। ওয়াল টু ওয়াল জিনিসটা কী, বুঝতে পারছি না।

একসময় হাইফাইভ আর রুপার্ট মারডকের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট মাইস্পেসে মোটামুটি সক্রিয় ছিলাম। তবে ফেসবুক ঠিক অতোটা সহজবোধ্য মনে হচ্ছে না। বাঙালি তরুণের সমিতি-ক্লাবের জায়গাটা এখন ফেসবুক আর ব্লগ দখল করে নিয়েছে। নিশ্চিত নই, এটা নিতান্তই ধারণা। অন্তত নিজের অভিজ্ঞতা তাই বলে। 


গ্রামীণফোন আসলে কার? নরওয়েজিয়ান কম্পানি টেলিনরের। বাংলালিংক ইজিপশিয়ান কম্পানি ওরাসকমের। একটেল? প্রায় পুরোটাই মালয়েশিয়ান বিনিয়োগ। দুবাই রাজপুত্রের ওয়ারিদের তো জানা কথা। অমিত সম্ভাবনাময় মোবাইল ফোন সেক্টরে বাংলাদেশী কোনো উদ্যোগ নেই। ওয়েবে কি এমন একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের কথা আপনি আমাকে বলতে পারবেন, যা পুরোটাই 'বাংলাদেশী-উদ্যোগ'? ব্লগ-প্ল্যাটফর্মের কথাই ধরুন। আছে কি? আমি অন্তত এমন উদাহরণ পাইনি। অথচ দেখুন, ঘুরেফিরে এই আমরাই বারবার ব্যবহৃত হচ্ছি কর্পোরেটের প্রয়োজনে। তাদের প্রলোভনে মাথা নেড়ে নেড়ে যাচ্ছি কোনো প্রশ্ন ছাড়াই। কর্পোরেটের প্রয়োজনে আমাদের মেধাবী প্রোগ্রামাররা সস্তা শ্রমমূল্যে নিজের শ্রেষ্ঠ সময়টা বিকিয়ে দিচ্ছে। ইউজার কিন্তু সব বাংলাদেশীই, এই আমরাই। ঢাকা থেকে আমি, চট্টগ্রাম থেকে তুমি, নিউইয়র্ক থেকে আমারই বন্ধু, লন্ডন থেকে তোমার ছোট ভাই- সবমিলিয়ে আমরা আমরাই তো! অথচ তারপরও আমাদের নিজস্ব বলতে কিছু নেই। আমাদের একটা সার্চ ইঞ্জিন নেই, ভালো একটা পোর্টাল নেই, এমনকি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্লগটিও বাংলাদেশীদের নয়। এরপরও বিচ্ছিন্নভাবে কী না হচ্ছে! ভালো ভালো ব্লগার তো আছেই অনেক। ওয়েব প্রোগ্রামিং হোক আর ওয়েব ডিজাইন হোক- আমাদের ছেলেদের প্রতিভার ফুলকি কি দেখছি না অহরহ? পৃথিবীর জটিল ভাষাগুলোর একটি বাংলায় যে স্ক্রিপ্ট নিয়ে কাজ হচ্ছে, তা তো বাইরে থেকে এসে করে দিয়ে যাচ্ছে না, করছে আমাদের ছেলেরাই। তারপরও আমরা বিচ্ছিন্ন থাকতে পছন্দ করি। আমরা যতো বিচ্ছিন্ন থাকবো, কর্পোরেটের ততোই লাভ। কেউ কর্পোরেটের রক্তচক্ষুর সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করবে, তা হবে না। কর্পোরেট নীতিতে ভিন্নচিন্তা প্রকাশ করাটাই একটি দুঃসাহস। অথচ নরসিংদীর একজনের সঙ্গে সিলেটের আরেকজনের ভাবনায় হয়তো তেমন পার্থক্য নেই। কক্সবাজারের এক তরুণ ভাবছে হয়তো খুলনার আরেকজনের মতোই। ইন্টারনেট, বাংলাদেশে তা যতোই শ্লথগতির হোক না কেন, মিরপুরের মশিউরের সঙ্গে উত্তরার ফখরুলের যোগাযোগ তো হচ্ছেই মিনিটে মিনিটে, ঘরের বাইরে না গিয়েই। ব্যস্ততার মাঝেও আজ দুপুরে মেইল কি পাঠাইনি তোকে, মীম? ঠুনকো অজুহাতের চেয়েও আসল কথা হল, ভাবনাগুলোকে আমরা একত্র করতে পারি না, যূথবদ্ধ হতে পারি না নিজেরা। ঘাটতি যে আমাদের কম নেই, তা নয়। আমাদের তরুণরা যখন একটি পোর্টাল নামায় ওয়েবে, তখন বোঝা যায় সেটা 'পোলাপানের কাজ।' অ্যাজাক্সের মতো ওয়েব-ভাষা এসে যে সাধারণ ওয়েবসাইটগুলোকে আমূল বদলে দিচ্ছে, তারা সেটা জানে, তারা সেটার প্রশংসা করে, কিন্তু শেষপর্যন্ত তারা নিজেরা তৃতীয় শ্রেণীর ওয়েবসাইটই তৈরি করে। "তারা সিংহের প্রশংসা করে, কিন্তু নিজের জন্য পছন্দ করে একটি গাধা!" স্নিগ্ধ রুচির পরিচয় মেলে না। গোছানো ভাবটা থাকে না। ওয়েবে এই জায়গায় এসে সব বাংলাদেশী উদ্যোগই মার খায়। না বললেও বোঝা যায়, এটা পোলাপানের কাজ। কর্পোরেট-উদ্যোগ ঠিক এর উল্টো। ক্ষতিকর জেনেও আমরা তাদের টোপ গিলতে বাধ্য হই। টোপটাও তারা দৃষ্টিনন্দন করেই তৈরি করে। এই যে, কেনা-বেচা নিয়ে সামহোয়্যার ইন যে নতুন সার্ভিস নিয়ে এল, তা দেখে আমি চমৎকৃত। কিন্তু এই কর্পোরেট-উদ্যোগের সঙ্গে আমি একাত্ম বোধ করি না। আমার মন টানে না কিছূতেই। চীনের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিনের নাম কিন্তু গুগল নয়, ইয়াহু বা এমএসএনও নয়, তার নাম বাইডু। প্রায় পুরোটাই স্থানীয় উদ্যোগে তৈরি "বাইডু" ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে ওয়েবে চীনাদের নিজস্বতার প্রতীক। লোভী কর্পোরেটকে তারা ঢুকতে দেয়, কিন্তু তা নিজেদের ভাগটা সবার ওপরে রেখে। আহা, কবে দেখবো, আট-দশজন মেধাবী বাংলাদেশী তরুণের হাতে গড়া বাংলাভাষার সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্লগটি? আহা, একটি বাংলা সার্চ ইঞ্জিন দেখে কবে আসবে মুগ্ধ হওয়ার সেই সময়? 
 
প্রথম প্রকাশ  |  দ্বিতীয় প্রকাশ